শেষ মূহুর্তে জমে ওঠেছে পশুর হাট; কোরবানির হাট কাঁপাচ্ছে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
- আপডেট সময় : ০৬:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
- / 1
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। এবারের হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আগ্রহ ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিশাল আকৃতির এক দেশি ষাঁড়, যার নাম রাখা হয়েছে ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী’।
প্রায় ২৮ মণ ওজনের এই গরুটিকে দেখতে হাটে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক মানুষ। খামারির দাবি, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা এই ষাঁড়টির দাম হাঁকা হচ্ছে ৮ লাখ টাকা।
জুড়ী উপজেলার বাছিরপুর গ্রামের খামারি কাজল মিয়া প্রায় আড়াই বছর ধরে গরুটিকে লালন-পালন করছেন। তিনি জানান, পরিবারের নিজস্ব গাভি থেকেই জন্ম হয়েছিল এই ষাঁড়টির। ছোটবেলা থেকেই সুঠাম গঠন ও তেজি স্বভাবের কারণে শখ করে এর নাম রাখা হয় ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী’। কোনো ধরনের মোটাতাজাকরণ ওষুধ ছাড়াই প্রতিদিন নিয়মিত খুদ, ভুসি, খৈল, ঘাস ও খড় খাইয়ে একে বড় করা হয়েছে।
এদিকে বড়লেখা পৌর শহরের হাজীগঞ্জ পশুর হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিপুল গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন বিক্রেতারা। হাটে ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী’ ছাড়াও সম্রাট, রাজা, শাহীওয়াল, কালোমেঘ, বলবান নামের বিভিন্ন বড় জাতের ষাঁড় উঠেছে। বাজারজুড়ে ১ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকা দামের পশুর সমাগম রয়েছে। তবে গোখাদ্যের দাম বাড়ায় পশু লালন-পালনে খরচ বেশি হলেও ক্রেতারা কাঙ্ক্ষিত দাম বলছেন না বলে দাবি বিক্রেতাদের।
কাজল মিয়া, রাহেল আহমদ ও নাজিম উদ্দীনের মতো বিক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত বছরের চেয়ে এবার পশু মোটাতাজা করতে খরচ অনেক বেশি হয়েছে। কিন্তু হাটে ক্রেতারা দাম শুনেই চলে যাচ্ছেন। দেড় লাখ টাকার গরুর দাম বলছেন ৮০-৯০ হাজার টাকা। বেশি দামে বিক্রি করতে না পারলে লোকসান গুনতে হবে।

অন্যদিকে ক্রেতা মো. নিজাম উদ্দিন, মার্জানুল ইসলাম ও কবির মিয়া জানান, হাটে পশুর সরবরাহ প্রচুর থাকলেও বিক্রেতারা চড়া দাম হাঁকিয়ে বসে আছেন। ফলে সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার হাটে খাজনা কম হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
নিরাপত্তার বিষয়ে হাট ঘুরে দেখা গেছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন নিয়ে তৎপর রয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। এছাড়া পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের মেডিকেল টিম। পুলিশ জানায়, কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে হাট চলছে।
বড়লেখা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বড়লেখায় কোরবানির পশুর যে সরবরাহ রয়েছে, তা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে অন্য জেলাতেও পাঠানো সম্ভব। খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে খামারিদের উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বেড়েছে, তাই আমরা দানাদার খাবারের পাশাপাশি সবুজ ঘাস খাওনোর পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়া সীমান্ত দিয়ে যেন কোনো অবৈধ ভারতীয় গরু প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।






















