০৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

‘অ্যারোবেটিক শো’র মহড়া বিমানবাহিনীর বিশেষ আকর্ষণ

স্বাধীনতা দিবস: ১৮ বছর পর কুচকাওয়াজ উপভোগ করলেন সাধারণ জনগণ

ষাটমাকন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:১৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • / 10

দীর্ঘ ১৮ বছর পর মহান স্বাধীনতা দিবসে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় কুচকাওয়াজ। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ ১৮ বছর পর মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলো কুচকাওয়াজ। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্যও উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন। যান্ত্রিক বহরে সশস্ত্র বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সমরাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়। ফ্লাইপাস্ট এবং প্যারা কমান্ডো সদস্যদের ফ্রিফল জাম্প কুচকাওয়াজকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

কুচকাওয়াজ উপভোগ করতে গতকাল ভোর থেকেই সাধারণ মানুষ পুরোনো বিমানবন্দরে অবস্থিত জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের সামনে জড়ো হতে থাকেন। সকাল ৮টার দিকে প্যারেড স্কয়ারের গেট সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে প্যারেড স্কয়ারে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মিলিটারি পুলিশের সদস্যরা সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।

সকাল ১০টায় রাষ্ট্রপতি জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আসার পর মিলিটারি পুলিশের সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে বরণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও তিন বাহিনীর প্রধানেরা রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান। মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, শিল্পী-সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজন কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নেন তাঁর মেয়ে জাইমা রহমান।

এর আগে বিজয় দিবসে নিয়মিত প্যারেড অনুষ্ঠিত হলেও স্বাধীনতা দিবসে তা বন্ধ ছিল। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় কুচকাওয়াজ হলো। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং নবম পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় এই কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। খোলা জিপে প্যারেড পরিদর্শন করেন তিনি। কুচকাওয়াজে বিভিন্ন বাহিনীর ২৫টি কন্টিনজেন্ট রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদান করে।

রাষ্ট্রপতির প্যারেড পরিদর্শনের পরে শুরু হয় মার্চপাস্ট। এরপর ১০ হাজার ফুট ওপর থেকে মূল মঞ্চের দুই দিকে ২৬ জন প্যারাট্রুপার জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন বাহিনীর পতাকা বহন করে নামেন প্যারেড গ্রাউন্ডে। প্যারা কমান্ডো টিমের প্যারাট্রুপার দল রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদর্শন করেন। এরপর আর্মি এভিয়েশনের বিমান ও হেলিকপ্টার, বিজিবি এয়ার উইংয়ের হেলিকপ্টার, র‍্যাব এয়ার উইংয়ের হেলিকপ্টার, নেভাল এভিয়েশনের বিমান ও হেলিকপ্টার উড়ে যায়। প্যারেড গ্রাউন্ডে বিভিন্ন বাহিনীর যান্ত্রিক বহর ট্যাংক, কামানের মতো ভারী যুদ্ধাস্ত্র, প্রযুক্তিসহ নানা সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়।

কুচকাওয়াজে এবারের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিমানবাহিনীর ‘অ্যারোবেটিক শো’র মহড়া। ‘বাংলার আকাশ রাখিব মুক্ত’ প্রতিপাদ্যে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানসহ প্রশিক্ষণ বিমান ও হেলিকপ্টারগুলো বিভিন্ন ফরমেশনে উড্ডয়ন কৌশল দেখায়। পাঁচটি এফ-সেভেন যুদ্ধবিমান বর্ণিল রং ছাড়তে ছাড়তে প্যারেড গ্রাউন্ড প্রদক্ষিণ করে।

দুপুর ১২টার দিকে প্যারেডের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রদর্শনীতে নেতৃত্ব দেওয়া বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তাদের সামনে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে হাত মেলান রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নিউজটি শেয়ার করুন

‘অ্যারোবেটিক শো’র মহড়া বিমানবাহিনীর বিশেষ আকর্ষণ

স্বাধীনতা দিবস: ১৮ বছর পর কুচকাওয়াজ উপভোগ করলেন সাধারণ জনগণ

আপডেট সময় : ০৮:১৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ ১৮ বছর পর মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলো কুচকাওয়াজ। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্যও উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন। যান্ত্রিক বহরে সশস্ত্র বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সমরাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়। ফ্লাইপাস্ট এবং প্যারা কমান্ডো সদস্যদের ফ্রিফল জাম্প কুচকাওয়াজকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

কুচকাওয়াজ উপভোগ করতে গতকাল ভোর থেকেই সাধারণ মানুষ পুরোনো বিমানবন্দরে অবস্থিত জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের সামনে জড়ো হতে থাকেন। সকাল ৮টার দিকে প্যারেড স্কয়ারের গেট সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে প্যারেড স্কয়ারে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মিলিটারি পুলিশের সদস্যরা সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।

সকাল ১০টায় রাষ্ট্রপতি জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আসার পর মিলিটারি পুলিশের সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে বরণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও তিন বাহিনীর প্রধানেরা রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান। মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, শিল্পী-সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজন কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নেন তাঁর মেয়ে জাইমা রহমান।

এর আগে বিজয় দিবসে নিয়মিত প্যারেড অনুষ্ঠিত হলেও স্বাধীনতা দিবসে তা বন্ধ ছিল। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় কুচকাওয়াজ হলো। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তত্ত্বাবধানে এবং নবম পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় এই কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। খোলা জিপে প্যারেড পরিদর্শন করেন তিনি। কুচকাওয়াজে বিভিন্ন বাহিনীর ২৫টি কন্টিনজেন্ট রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদান করে।

রাষ্ট্রপতির প্যারেড পরিদর্শনের পরে শুরু হয় মার্চপাস্ট। এরপর ১০ হাজার ফুট ওপর থেকে মূল মঞ্চের দুই দিকে ২৬ জন প্যারাট্রুপার জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন বাহিনীর পতাকা বহন করে নামেন প্যারেড গ্রাউন্ডে। প্যারা কমান্ডো টিমের প্যারাট্রুপার দল রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদর্শন করেন। এরপর আর্মি এভিয়েশনের বিমান ও হেলিকপ্টার, বিজিবি এয়ার উইংয়ের হেলিকপ্টার, র‍্যাব এয়ার উইংয়ের হেলিকপ্টার, নেভাল এভিয়েশনের বিমান ও হেলিকপ্টার উড়ে যায়। প্যারেড গ্রাউন্ডে বিভিন্ন বাহিনীর যান্ত্রিক বহর ট্যাংক, কামানের মতো ভারী যুদ্ধাস্ত্র, প্রযুক্তিসহ নানা সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়।

কুচকাওয়াজে এবারের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিমানবাহিনীর ‘অ্যারোবেটিক শো’র মহড়া। ‘বাংলার আকাশ রাখিব মুক্ত’ প্রতিপাদ্যে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানসহ প্রশিক্ষণ বিমান ও হেলিকপ্টারগুলো বিভিন্ন ফরমেশনে উড্ডয়ন কৌশল দেখায়। পাঁচটি এফ-সেভেন যুদ্ধবিমান বর্ণিল রং ছাড়তে ছাড়তে প্যারেড গ্রাউন্ড প্রদক্ষিণ করে।

দুপুর ১২টার দিকে প্যারেডের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রদর্শনীতে নেতৃত্ব দেওয়া বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তাদের সামনে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে হাত মেলান রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।