নগরবাসীকে নিয়ে গণ-অবস্থান সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর
- আপডেট সময় : ০৬:০৯:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
- / 58
সিলেটে এবার নতুন আন্দোলনের ডাক দিলেন বিএনপির মনোনয়ন যুদ্ধে থাকা সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তবে এ আন্দোলন মনোনয়নের নয়, রাজনৈতিকও নয়। সিলেটবাসীর অধিকার আদায়ের।
শনিবার সন্ধ্যায় এ উপলক্ষ্যে মশাল হাতে রাজপথে নামেন তিনি। তার সঙ্গে মশাল মিছিলে যোগ দেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতা ও সাধারণ নগরবাসী। এরই সঙ্গে আহ্বান জানান, রোববার সিলেটে গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালনের। তিনি দাবি জানান, সিলেটের প্রতি বৈষম্য-বঞ্চনা দ্রুত অবসানের।
সন্ধ্যায় ‘সিলেট আন্দোলন’-এর ব্যানারে মিছিলটি বের করা হয়। হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ এলাকা থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মশাল মিছিলে নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন তরুণ-যুবকসহ নানা বয়সি মানুষ।
সমাবেশে আরিফুল হক চৌধুরী আহ্বান জানান, রোববার বেলা ১১টায় কোর্ট পয়েন্ট থেকে সুরমা মার্কেট পর্যন্ত গণ-অবস্থান পালনের এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার।
আরিফুল হক তার বক্তব্যে বলেন, বাদাঘাটের ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের কাজ বন্ধ, সড়ক সংস্কার প্রকল্প স্থবির, রেল যোগাযোগে কোনো অগ্রগতি নেই। এমনকি বিমান ভাড়া সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। আমরা প্রতিবছর রাজস্ব দিই, প্রবাসী আয় পাঠাই, অথচ উন্নয়নের বেলায় সিলেট পড়ে থাকে পিছিয়ে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার সড়ক সংস্কার প্রকল্পের কার্যক্রমও স্থবির অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় সরকার সচিব নতুন করে প্রকল্পের ডিপিপি তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন, যা হতাশাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরিফুল হক জানান, তিনি সম্প্রতি সড়ক পরিবহণ ও সেতুবিষয়ক উপদেষ্টা এবং রেল উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সিলেটের সড়ক ও রেল উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন। উপদেষ্টা ১০টি নতুন রেলবগি বরাদ্দের আশ্বাস দিলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।
এর আগে নগরীর কুমারপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন আরিফ। তার আহ্বানে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিক, ধর্মীয় ও পরিবহণ মালিক-শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা ‘সিলেট আন্দোলন’-এর সঙ্গে যুক্ত হন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে সিলেট সব সময়ই বঞ্চিত। রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যেখানে বিশাল বাজেট বরাদ্দ হয়, সেখানে সিলেটে হয় উপেক্ষা।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেটবাসীর ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। উন্নয়ন বৈষম্য ও সরকারি প্রকল্পে অবহেলার প্রতিবাদেই এ অরাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে তারা খুতবা, ধর্মসভা ও প্রার্থনায় সিলেটের বঞ্চনার বিষয়টি তুলে ধরেন।

























