০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্যারিসে বিশেষ কনস্যুলার সেবা শুরু, ই-পাসপোর্টে স্বস্তি; আরও উদ্যোগ চান প্রবাসীরা Logo ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি আরিফ, সম্পাদক মুনা Logo দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজ আর দুর্নীতিবাজ দূর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে Logo নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যু: আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান Logo মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সিলেটে চা শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ Logo জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ল খেলাফত মজলিস Logo শাবিপ্রবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আকতারুল ইসলাম চৌধুরীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন Logo বড়লেখায় জুলাই গন-অভ্যত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া Logo ভারতের কলকাতায় প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে ব্রাজিল Logo ইতালি জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ আন্দ্রেয়া পিরলো

অবিরাম বর্ষণে বড়লেখা ডুবেছে পানিতে; জনজীবন বিপর্যস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০২:০০:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
  • / 201
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গত তিন দিন থেকে শুরু অবিরাম ভারি বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও শহর। বাড়িঘরে বানের পানি ঢুকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। বানের পানিতে ধসে পড়েছে কয়েকশ কাচা ঘর।

বড়লেখা-কুলাউড়া-চান্দগ্রাম-শাহবাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের অন্তত ৮/১০ স্থানে রাস্তার উপর দিয়ে বানের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ৩/৪ ফুট পর্যন্ত নিমজ্জিত থাকতে দেখা গেছে।  সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি অবিরাম বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ক্রমশ অবনতি ঘটছে।

গত তিনদিন ধরে থেমে থেমে হালকা বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিলো। কিন্তু শনিবার থেকে (রোববার ১ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত ভারি বর্ষণ আর ঝড়ো বাতাসে জনজীবন বির্পযস্ত হয়ে ওঠেছে। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে দেখা দিয়েছে আকস্মিক বিপর্যয়।

উপজেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও হাটবাজারে দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। বেশিরভাগ বাজারের ব্যবসায়ীরা খুলেননি দোকানপাট। ভারী বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে।

জানাগেছে, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় শক্তির প্রভাবে গত কয়েকদিন ধরে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইলেও তা ছিল থেমে থেমে। কিন্ত শনিবার ভোর থেকে টানা ভারী বৃষ্টির ফলে জনজীবনে নামে চরম ভোগান্তি। ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে।

সরেজমিনে কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের বড়লেখা উত্তর চৌমুহনী, পাখিয়ালা চৌমুহনী, বাছিরপুর, হাতলিয়া, দক্ষিণভাগ, দোহালিয়া , রতুলী, কাঠালতলী, পানিধার, টিলাবাজার, পূর্ব-দক্ষিণভাগ, কাঠালতলী উত্তরভাগ সহ পূর্ব গাংকুল, দক্ষিণ গাংকুল, পৌরশহরের হাটবন্দ, বারইগ্রাম, আদিত্যের মহাল, মুছেগুলসহ বিভিন্ন গ্রামের রাস্তাঘাট তলিয়ে যেতে এবং অধিকাংশ বসতবাড়ি জলাবদ্ধ থাকতে দেখা গেছে।

বড়লেখা উত্তর চৌমুহনী দোকানি আব্দুল আজিজ জানান, এই দোকানটাই ছিল আমার জীবনের সম্বল। তিন লাখ টাকার মালামাল পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আমার পরিবারকে কী খাওয়াবো?

পৌরসভার বিভিন্ন কলোনিতে বৃষ্টির ও পাহাড়ি ঢলের পানি ঢুকে বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। হাকালুকি হাওরের পানি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে হাওরপাড়ের তালিমপুর, বর্নি ও সুজানগর ইউনিয়নে বন্যার আশংকা রয়েছে। রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় হাল্কা যানবাহনের সরাসরি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়লে ভারী যানবাহন মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেছে। টানা ভারি বৃষ্টিতে উপজেলার দক্ষিণভাগ, কাঠালতলী, পৌরশহর, শাহবাজপুরসহ প্রত্যেকটি হাটবাজার ও পৌরশহরের অলিগলি তলিয়ে গিয়ে দোকানের ভেতর পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। দিনভর বৃষ্টি আর রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় কেউ ঘর থেকে বের হতে পারেনি। বিপাকে পড়ে খেটে খাওয়া মানুষ।

এ ছাড়া মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা সাব স্টেশনে কোমরসমান পানি হওয়ায় প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। শনিবার  রাত ৮টা পর্যন্ত একটানা বৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান,

উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নই বন্যার পানিতে প্লাবিত। আমি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছি।তবে মাঠপর্যায়ে মানুষের ভাষায়, এই ক্ষতির পরিমাণ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অবিরাম বর্ষণে বড়লেখা ডুবেছে পানিতে; জনজীবন বিপর্যস্ত

আপডেট সময় : ০২:০০:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গত তিন দিন থেকে শুরু অবিরাম ভারি বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও শহর। বাড়িঘরে বানের পানি ঢুকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। বানের পানিতে ধসে পড়েছে কয়েকশ কাচা ঘর।

বড়লেখা-কুলাউড়া-চান্দগ্রাম-শাহবাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের অন্তত ৮/১০ স্থানে রাস্তার উপর দিয়ে বানের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ৩/৪ ফুট পর্যন্ত নিমজ্জিত থাকতে দেখা গেছে।  সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি অবিরাম বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ক্রমশ অবনতি ঘটছে।

গত তিনদিন ধরে থেমে থেমে হালকা বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিলো। কিন্তু শনিবার থেকে (রোববার ১ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত ভারি বর্ষণ আর ঝড়ো বাতাসে জনজীবন বির্পযস্ত হয়ে ওঠেছে। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে দেখা দিয়েছে আকস্মিক বিপর্যয়।

উপজেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও হাটবাজারে দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। বেশিরভাগ বাজারের ব্যবসায়ীরা খুলেননি দোকানপাট। ভারী বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে।

জানাগেছে, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় শক্তির প্রভাবে গত কয়েকদিন ধরে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইলেও তা ছিল থেমে থেমে। কিন্ত শনিবার ভোর থেকে টানা ভারী বৃষ্টির ফলে জনজীবনে নামে চরম ভোগান্তি। ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে।

সরেজমিনে কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের বড়লেখা উত্তর চৌমুহনী, পাখিয়ালা চৌমুহনী, বাছিরপুর, হাতলিয়া, দক্ষিণভাগ, দোহালিয়া , রতুলী, কাঠালতলী, পানিধার, টিলাবাজার, পূর্ব-দক্ষিণভাগ, কাঠালতলী উত্তরভাগ সহ পূর্ব গাংকুল, দক্ষিণ গাংকুল, পৌরশহরের হাটবন্দ, বারইগ্রাম, আদিত্যের মহাল, মুছেগুলসহ বিভিন্ন গ্রামের রাস্তাঘাট তলিয়ে যেতে এবং অধিকাংশ বসতবাড়ি জলাবদ্ধ থাকতে দেখা গেছে।

বড়লেখা উত্তর চৌমুহনী দোকানি আব্দুল আজিজ জানান, এই দোকানটাই ছিল আমার জীবনের সম্বল। তিন লাখ টাকার মালামাল পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আমার পরিবারকে কী খাওয়াবো?

পৌরসভার বিভিন্ন কলোনিতে বৃষ্টির ও পাহাড়ি ঢলের পানি ঢুকে বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। হাকালুকি হাওরের পানি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে হাওরপাড়ের তালিমপুর, বর্নি ও সুজানগর ইউনিয়নে বন্যার আশংকা রয়েছে। রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় হাল্কা যানবাহনের সরাসরি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়লে ভারী যানবাহন মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেছে। টানা ভারি বৃষ্টিতে উপজেলার দক্ষিণভাগ, কাঠালতলী, পৌরশহর, শাহবাজপুরসহ প্রত্যেকটি হাটবাজার ও পৌরশহরের অলিগলি তলিয়ে গিয়ে দোকানের ভেতর পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। দিনভর বৃষ্টি আর রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় কেউ ঘর থেকে বের হতে পারেনি। বিপাকে পড়ে খেটে খাওয়া মানুষ।

এ ছাড়া মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা সাব স্টেশনে কোমরসমান পানি হওয়ায় প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। শনিবার  রাত ৮টা পর্যন্ত একটানা বৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান,

উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নই বন্যার পানিতে প্লাবিত। আমি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছি।তবে মাঠপর্যায়ে মানুষের ভাষায়, এই ক্ষতির পরিমাণ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।