১২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কুলাউড়ায় সরকারি কলেজে নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন Logo পহেলা বৈশাখে কুতুব আলী একাডেমিতে শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক আয়োজন Logo জুড়ীতে জামায়াতের ওয়ার্ড দায়িত্বশীলদের কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo জুড়ীতে ৭৬৮ কৃষকের মাঝে কার্ড বিতরণ Logo বর্ণাঢ্য আয়োজনে বড়লেখায় বৈশাখ বরণ Logo কানাডার এমপি নির্বাচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি, প্রধানমন্ত্রী কার্নির অভিনন্দন Logo কমলগঞ্জে সড়ক উন্নয়ন ও খাল খনন কাজের উদ্বোধন Logo সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে- নাসির উদ্দিন মিঠু এমপি Logo জুড়ীতে অবৈধভাবে মজুত করা ১৪ শ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ Logo জ্বালানি সংকটে বিয়ের অনুষ্ঠানে চমক, উপহার হিসেবে অকটেন পেলেব বর

অবিরাম বর্ষণে বড়লেখা ডুবেছে পানিতে; জনজীবন বিপর্যস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০২:০০:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
  • / 170
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গত তিন দিন থেকে শুরু অবিরাম ভারি বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও শহর। বাড়িঘরে বানের পানি ঢুকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। বানের পানিতে ধসে পড়েছে কয়েকশ কাচা ঘর।

বড়লেখা-কুলাউড়া-চান্দগ্রাম-শাহবাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের অন্তত ৮/১০ স্থানে রাস্তার উপর দিয়ে বানের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ৩/৪ ফুট পর্যন্ত নিমজ্জিত থাকতে দেখা গেছে।  সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি অবিরাম বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ক্রমশ অবনতি ঘটছে।

গত তিনদিন ধরে থেমে থেমে হালকা বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিলো। কিন্তু শনিবার থেকে (রোববার ১ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত ভারি বর্ষণ আর ঝড়ো বাতাসে জনজীবন বির্পযস্ত হয়ে ওঠেছে। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে দেখা দিয়েছে আকস্মিক বিপর্যয়।

উপজেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও হাটবাজারে দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। বেশিরভাগ বাজারের ব্যবসায়ীরা খুলেননি দোকানপাট। ভারী বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে।

জানাগেছে, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় শক্তির প্রভাবে গত কয়েকদিন ধরে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইলেও তা ছিল থেমে থেমে। কিন্ত শনিবার ভোর থেকে টানা ভারী বৃষ্টির ফলে জনজীবনে নামে চরম ভোগান্তি। ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে।

সরেজমিনে কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের বড়লেখা উত্তর চৌমুহনী, পাখিয়ালা চৌমুহনী, বাছিরপুর, হাতলিয়া, দক্ষিণভাগ, দোহালিয়া , রতুলী, কাঠালতলী, পানিধার, টিলাবাজার, পূর্ব-দক্ষিণভাগ, কাঠালতলী উত্তরভাগ সহ পূর্ব গাংকুল, দক্ষিণ গাংকুল, পৌরশহরের হাটবন্দ, বারইগ্রাম, আদিত্যের মহাল, মুছেগুলসহ বিভিন্ন গ্রামের রাস্তাঘাট তলিয়ে যেতে এবং অধিকাংশ বসতবাড়ি জলাবদ্ধ থাকতে দেখা গেছে।

বড়লেখা উত্তর চৌমুহনী দোকানি আব্দুল আজিজ জানান, এই দোকানটাই ছিল আমার জীবনের সম্বল। তিন লাখ টাকার মালামাল পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আমার পরিবারকে কী খাওয়াবো?

পৌরসভার বিভিন্ন কলোনিতে বৃষ্টির ও পাহাড়ি ঢলের পানি ঢুকে বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। হাকালুকি হাওরের পানি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে হাওরপাড়ের তালিমপুর, বর্নি ও সুজানগর ইউনিয়নে বন্যার আশংকা রয়েছে। রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় হাল্কা যানবাহনের সরাসরি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়লে ভারী যানবাহন মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেছে। টানা ভারি বৃষ্টিতে উপজেলার দক্ষিণভাগ, কাঠালতলী, পৌরশহর, শাহবাজপুরসহ প্রত্যেকটি হাটবাজার ও পৌরশহরের অলিগলি তলিয়ে গিয়ে দোকানের ভেতর পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। দিনভর বৃষ্টি আর রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় কেউ ঘর থেকে বের হতে পারেনি। বিপাকে পড়ে খেটে খাওয়া মানুষ।

এ ছাড়া মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা সাব স্টেশনে কোমরসমান পানি হওয়ায় প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। শনিবার  রাত ৮টা পর্যন্ত একটানা বৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান,

উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নই বন্যার পানিতে প্লাবিত। আমি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছি।তবে মাঠপর্যায়ে মানুষের ভাষায়, এই ক্ষতির পরিমাণ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

অবিরাম বর্ষণে বড়লেখা ডুবেছে পানিতে; জনজীবন বিপর্যস্ত

আপডেট সময় : ০২:০০:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গত তিন দিন থেকে শুরু অবিরাম ভারি বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও শহর। বাড়িঘরে বানের পানি ঢুকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। বানের পানিতে ধসে পড়েছে কয়েকশ কাচা ঘর।

বড়লেখা-কুলাউড়া-চান্দগ্রাম-শাহবাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের অন্তত ৮/১০ স্থানে রাস্তার উপর দিয়ে বানের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ৩/৪ ফুট পর্যন্ত নিমজ্জিত থাকতে দেখা গেছে।  সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি অবিরাম বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ক্রমশ অবনতি ঘটছে।

গত তিনদিন ধরে থেমে থেমে হালকা বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিলো। কিন্তু শনিবার থেকে (রোববার ১ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত ভারি বর্ষণ আর ঝড়ো বাতাসে জনজীবন বির্পযস্ত হয়ে ওঠেছে। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে দেখা দিয়েছে আকস্মিক বিপর্যয়।

উপজেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাট ও হাটবাজারে দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। বেশিরভাগ বাজারের ব্যবসায়ীরা খুলেননি দোকানপাট। ভারী বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে।

জানাগেছে, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় শক্তির প্রভাবে গত কয়েকদিন ধরে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইলেও তা ছিল থেমে থেমে। কিন্ত শনিবার ভোর থেকে টানা ভারী বৃষ্টির ফলে জনজীবনে নামে চরম ভোগান্তি। ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে।

সরেজমিনে কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের বড়লেখা উত্তর চৌমুহনী, পাখিয়ালা চৌমুহনী, বাছিরপুর, হাতলিয়া, দক্ষিণভাগ, দোহালিয়া , রতুলী, কাঠালতলী, পানিধার, টিলাবাজার, পূর্ব-দক্ষিণভাগ, কাঠালতলী উত্তরভাগ সহ পূর্ব গাংকুল, দক্ষিণ গাংকুল, পৌরশহরের হাটবন্দ, বারইগ্রাম, আদিত্যের মহাল, মুছেগুলসহ বিভিন্ন গ্রামের রাস্তাঘাট তলিয়ে যেতে এবং অধিকাংশ বসতবাড়ি জলাবদ্ধ থাকতে দেখা গেছে।

বড়লেখা উত্তর চৌমুহনী দোকানি আব্দুল আজিজ জানান, এই দোকানটাই ছিল আমার জীবনের সম্বল। তিন লাখ টাকার মালামাল পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আমার পরিবারকে কী খাওয়াবো?

পৌরসভার বিভিন্ন কলোনিতে বৃষ্টির ও পাহাড়ি ঢলের পানি ঢুকে বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। হাকালুকি হাওরের পানি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে হাওরপাড়ের তালিমপুর, বর্নি ও সুজানগর ইউনিয়নে বন্যার আশংকা রয়েছে। রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় হাল্কা যানবাহনের সরাসরি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়লে ভারী যানবাহন মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেছে। টানা ভারি বৃষ্টিতে উপজেলার দক্ষিণভাগ, কাঠালতলী, পৌরশহর, শাহবাজপুরসহ প্রত্যেকটি হাটবাজার ও পৌরশহরের অলিগলি তলিয়ে গিয়ে দোকানের ভেতর পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। দিনভর বৃষ্টি আর রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় কেউ ঘর থেকে বের হতে পারেনি। বিপাকে পড়ে খেটে খাওয়া মানুষ।

এ ছাড়া মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা সাব স্টেশনে কোমরসমান পানি হওয়ায় প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। শনিবার  রাত ৮টা পর্যন্ত একটানা বৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান,

উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নই বন্যার পানিতে প্লাবিত। আমি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছি।তবে মাঠপর্যায়ে মানুষের ভাষায়, এই ক্ষতির পরিমাণ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।