০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সিলেট ইউনাইটেড জার্নালিস্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নতুন কর্মসূচি Logo জামায়াতের বহিস্কৃত এমপি গাজী নজরুলের আসন নিয়ে যা জানালো ইসি Logo সিলেটে হাইড্রোলিক হর্ন ও কাগজপত্রে ত্রুটি: ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১১ চালক-মালিককে জরিমানা Logo সুনামগঞ্জে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে বিজিবি মহাপরিচালক, ৫০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা Logo বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে জুলাইকে উপেক্ষা করে জাতির সাথে প্রতারণা করেছে Logo কুলাউড়ায় কৃষকের মাঝে গাছের চারা সহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন Logo ভিডিও ভাইরালের পর তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি জামায়াতের এমপি গাজী নজরুলের Logo লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ পেলেন না কাজী মঈন উদ্দিন Logo তিন সন্তান ও লক্ষাধিক টাকা নিয়ে স্ত্রী উধাও, মামলা দিয়ে হয়রানি Logo বিএসএফের গুলিতে নিহত মুজিবের পরিবারকে সরকারি সহায়তা দিলেন এমপি শওকতুল ইসলাম

আজ ঐতিহাসিক চা শ্রমিক দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ষাটমা কন্ঠঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:২৯:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
  • / 247
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজ ২০ মে ঐতিহাসিক চা শ্রমিক বা মুল্লুকে চলো দিবস। সিলেটসহ সারাদেশের চা বাগানগুলোতে নানা আয়োজনে পালিত হবে দিবসটি।

১৯২১ সালের এই দিনে ব্রিটিশদের অত্যাচার থেকে মুক্ত হতে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা-শ্রমিক নিজেদের জন্মস্থানে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় চাঁদপুরের মেঘনাঘাটে গুলি চালিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা হয় চা শ্রমিকদের। এরপর থেকে চা-শ্রমিকরা ‘চা-শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন এই দিনটি।

চা শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে চীন ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোথাও চায়ের প্রচলন ছিল না। ১৮৫৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে সিলেটের মালিনীছড়া চা বাগানে চা চাষ শুরু করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। সেসময় বৃহত্তর সিলেটে চা বাগান তৈরির জন্য ভারতের আসাম, উড়িশা, বিহার, উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকদের নিয়ে আসা হয়। ‘গাছ হিলেগা, রুপিয়া মিলেগা’ এমন প্রলোভনে শ্রমিকরা বাংলাদেশে এলেও তাদের ভুল ভাঙতে বেশি সময় লাগেনি। বিশাল পাহাড় পরিষ্কার করে চা বাগান করতে গিয়ে হিংস্র পশুর কবলে পড়ে কত শ্রমিকের জীবন গেছে তার কোনো হিসাব নেই। এছাড়া ব্রিটিশদের অত্যাচার তো ছিলই।

তাদের অব্যাহত নির্যাতনের প্রতিবাদে তৎকালীন চা শ্রমিক নেতা পণ্ডিত গঙ্গাচরণ দীক্ষিত ও পণ্ডিত দেওসরণ ‘মুল্লুকে চল’ (দেশে চল) আন্দোলনের ডাক দেন। ১৯২১ সালের ২০ মে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা শ্রমিক সিলেট থেকে পায়ে হেঁটে চাঁদপুর মেঘনা স্টিমার ঘাটে পৌঁছান। তারা জাহাজে চড়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাইলে ব্রিটিশ গোর্খা সৈনিকরা গুলি চালিয়ে শত শত চা শ্রমিককে হত্যা করে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। যারা পালিয়ে এসেছিলেন তাদেরও আন্দোলন করার অপরাধে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

চা শ্রমিকদের পরানো হয় একটি বিশেষ ট্যাগ। পায়নি তারা ভূমির অধিকার। এরপর থেকেই প্রতি বছর ২০ মে চা শ্রমিক দিবস হিসেবে দিনটি পালন করছেন চা শ্রমিকরা।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আজ ঐতিহাসিক চা শ্রমিক দিবস

আপডেট সময় : ০৬:২৯:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫

আজ ২০ মে ঐতিহাসিক চা শ্রমিক বা মুল্লুকে চলো দিবস। সিলেটসহ সারাদেশের চা বাগানগুলোতে নানা আয়োজনে পালিত হবে দিবসটি।

১৯২১ সালের এই দিনে ব্রিটিশদের অত্যাচার থেকে মুক্ত হতে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা-শ্রমিক নিজেদের জন্মস্থানে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় চাঁদপুরের মেঘনাঘাটে গুলি চালিয়ে নির্বিচারে হত্যা করা হয় চা শ্রমিকদের। এরপর থেকে চা-শ্রমিকরা ‘চা-শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন এই দিনটি।

চা শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে চীন ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোথাও চায়ের প্রচলন ছিল না। ১৮৫৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে সিলেটের মালিনীছড়া চা বাগানে চা চাষ শুরু করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। সেসময় বৃহত্তর সিলেটে চা বাগান তৈরির জন্য ভারতের আসাম, উড়িশা, বিহার, উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকদের নিয়ে আসা হয়। ‘গাছ হিলেগা, রুপিয়া মিলেগা’ এমন প্রলোভনে শ্রমিকরা বাংলাদেশে এলেও তাদের ভুল ভাঙতে বেশি সময় লাগেনি। বিশাল পাহাড় পরিষ্কার করে চা বাগান করতে গিয়ে হিংস্র পশুর কবলে পড়ে কত শ্রমিকের জীবন গেছে তার কোনো হিসাব নেই। এছাড়া ব্রিটিশদের অত্যাচার তো ছিলই।

তাদের অব্যাহত নির্যাতনের প্রতিবাদে তৎকালীন চা শ্রমিক নেতা পণ্ডিত গঙ্গাচরণ দীক্ষিত ও পণ্ডিত দেওসরণ ‘মুল্লুকে চল’ (দেশে চল) আন্দোলনের ডাক দেন। ১৯২১ সালের ২০ মে সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার চা শ্রমিক সিলেট থেকে পায়ে হেঁটে চাঁদপুর মেঘনা স্টিমার ঘাটে পৌঁছান। তারা জাহাজে চড়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাইলে ব্রিটিশ গোর্খা সৈনিকরা গুলি চালিয়ে শত শত চা শ্রমিককে হত্যা করে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। যারা পালিয়ে এসেছিলেন তাদেরও আন্দোলন করার অপরাধে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

চা শ্রমিকদের পরানো হয় একটি বিশেষ ট্যাগ। পায়নি তারা ভূমির অধিকার। এরপর থেকেই প্রতি বছর ২০ মে চা শ্রমিক দিবস হিসেবে দিনটি পালন করছেন চা শ্রমিকরা।