০৫:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কাগজে কলমে লাইনম্যান হলেও সে যেন অলিখিত জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, নেপথ্যে কারা… Logo দেশে আসছে পেপাল, কার্ড পাবেন ২ লাখ ফ্রিল্যান্সার Logo শাশুড়ি হত্যা: বস্তাবন্দি লাশ ফেলে ‘নিখোঁজ’ নাটক, পুত্রবধূর চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি Logo সিলেট প্রেসক্লাবে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন আহ্বান Logo তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর প্রথম গ্রেপ্তার ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর ৩ দিনের রিমান্ডে Logo ঢাকার প্রথম নারী ডিসি ফরিদা খানম Logo কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার আইনে ব্যবস্থা Logo বড়লেখায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থী ৩৮৩০, প্রথম দিনে অনুপস্থিত ২৫ জন Logo জুড়ীতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু Logo ১০০ কোটির মালিক, তবু যাতায়াত অটোয়, ভাইরাল মুম্বইয়ের ব্যবসায়ীর জীবনযাত্রার পোস্ট!

শাশুড়ি হত্যা: বস্তাবন্দি লাশ ফেলে ‘নিখোঁজ’ নাটক, পুত্রবধূর চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

ষাটমাকন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 10
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যশোর শহরে পারিবারিক কলহের জেরে শাশুড়িকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ বস্তায় ভরে ‘নিখোঁজ’ নাটক সাজানোর অভিযোগে পুত্রবধূ মরিয়ম বেগমকে (২০) আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে মরিয়মকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত সকিনা বেগম (৬০) যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল সকালে সকিনার ছেলে শহিদুল ইসলাম কর্মস্থলে যাওয়ার সময় তাঁর স্ত্রী মরিয়ম জানান, বাসায় রান্না হয়নি এবং তিনি বাইরে খেয়ে নিতে বলেন। এ সময় মায়ের খোঁজ করলে মরিয়ম দাবি করেন, সকিনা বেগম ‘তালিমে’ গেছেন।

রাতে বাড়ি ফিরে মাকে না পেয়ে আবার খোঁজ করলে একই কথা বলেন মরিয়ম। এতে সন্দেহ হলে শহিদুল ইসলাম থানায় অভিযোগ করেন। পরে গভীর রাতে বাড়ির সামনে একটি বস্তার ভেতর থেকে একটি মরদেহ পাওয়া যায়। শহিদুল ও তাঁর বোন মরদেহটি সকিনা বেগমের বলে শনাক্ত করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। এ সময় মরিয়মের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মরিয়ম স্বীকার করেন, দীর্ঘদিন ধরে শাশুড়ির সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন বকাঝকা করায় ক্ষোভের বশে ঘরে থাকা একটি চাপাতি দিয়ে শাশুড়ির গলা কেটে হত্যা করেন তিনি। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে বাড়ির সামনে ফেলে রাখেন এবং হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতিটি ঘরের ওয়ার্ডরোবে লুকিয়ে রাখেন।

অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করেছে।

বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এসব তথ্য জানান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

শাশুড়ি হত্যা: বস্তাবন্দি লাশ ফেলে ‘নিখোঁজ’ নাটক, পুত্রবধূর চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

আপডেট সময় : ০৩:৩৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

যশোর শহরে পারিবারিক কলহের জেরে শাশুড়িকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ বস্তায় ভরে ‘নিখোঁজ’ নাটক সাজানোর অভিযোগে পুত্রবধূ মরিয়ম বেগমকে (২০) আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে মরিয়মকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত সকিনা বেগম (৬০) যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল সকালে সকিনার ছেলে শহিদুল ইসলাম কর্মস্থলে যাওয়ার সময় তাঁর স্ত্রী মরিয়ম জানান, বাসায় রান্না হয়নি এবং তিনি বাইরে খেয়ে নিতে বলেন। এ সময় মায়ের খোঁজ করলে মরিয়ম দাবি করেন, সকিনা বেগম ‘তালিমে’ গেছেন।

রাতে বাড়ি ফিরে মাকে না পেয়ে আবার খোঁজ করলে একই কথা বলেন মরিয়ম। এতে সন্দেহ হলে শহিদুল ইসলাম থানায় অভিযোগ করেন। পরে গভীর রাতে বাড়ির সামনে একটি বস্তার ভেতর থেকে একটি মরদেহ পাওয়া যায়। শহিদুল ও তাঁর বোন মরদেহটি সকিনা বেগমের বলে শনাক্ত করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। এ সময় মরিয়মের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মরিয়ম স্বীকার করেন, দীর্ঘদিন ধরে শাশুড়ির সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন বকাঝকা করায় ক্ষোভের বশে ঘরে থাকা একটি চাপাতি দিয়ে শাশুড়ির গলা কেটে হত্যা করেন তিনি। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে বাড়ির সামনে ফেলে রাখেন এবং হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতিটি ঘরের ওয়ার্ডরোবে লুকিয়ে রাখেন।

অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করেছে।

বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এসব তথ্য জানান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।