বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতিতে নানা প্রজাতির কীটপতঙ্গের উপস্থিতি থাকলেও বিশেষ ভূমিকা ও বৈচিত্র্যের কারণে মথকে আলাদাভাবে চেনেন বিশেষজ্ঞরা। দেখতে অনেকটা প্রজাপতির মতো হলেও চেহারা, আচরণ ও জীবনচক্রে মথের রয়েছে ভিন্ন বৈশিষ্ট্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মথের অসংখ্য প্রজাতির বিস্তার রয়েছে। সাধারণত রাতে সক্রিয় থাকায় তাদের দেখা পাওয়া কঠিন হলেও প্রকৃতির পরাগায়নে এ পতঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিশাচর ফুলগুলোর পরাগরেণু এক ফুল থেকে অন্য ফুলে পৌঁছে দিতে মথের ভূমিকা অপরিহার্য বলে জানান গবেষকেরা।
বিশ্রামের সময় মথ ডানা ভূমির সঙ্গে সমান্তরালে রেখে বসে থাকে। এটাই প্রজাপতির সঙ্গে তাদের প্রধান পার্থক্য। বেশিরভাগ মথের রঙ ধূসর বা ম্লান হওয়ায় রাতে তারা সহজেই নিজেদের আড়াল করতে পারে।
মথের জীবনচক্র প্রজাপতির মতো চার ধাপে সম্পন্ন হয়- ডিম, লার্ভা, পিউপা ও পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গ। উপযুক্ত তাপমাত্রায় স্ত্রী মথ নিরাপদ স্থানে আঠালো পদার্থ দিয়ে ডিম পাড়ে। ডিম ফেটে বের হওয়া লার্ভা দ্রুত খাবার গ্রহণ করে বড় হয় এবং পরে কোকুন তৈরি করে পিউপা দশায় যায়। নির্দিষ্ট সময় পর কোকুন ভেদ করে বের হয় পূর্ণাঙ্গ মথ।
প্রকৃতি ও পরিবেশে মথ শুধু পরাগায়নেই ভূমিকা রাখে না; খাদ্যজালের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও বিবেচিত। আবার কিছু প্রজাতির মথের কোকুন উন্নতমানের সিল্ক উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, যা অর্থনৈতিকভাবেও মূল্যবান।
প্রকৃতিবিদদের মতে, এ ক্ষুদ্র কীটপতঙ্গের উপস্থিতি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত জরুরি। দেশের বনাঞ্চল থেকে শুরু করে গ্রামীণ অঙ্গন পর্যন্ত নীরবে সক্রিয় মথ প্রকৃতির পরাগায়ন প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।
ছবিটি বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ হতে তোলা।
লেখা ও ছবিঃ আফজাল হোসেন রুমেল
