০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক লেনদেনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

দেশে শিগগিরই চালু হচ্ছে পেপ্যাল

ষাটমাকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১০:৫৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 215
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশে বহুল প্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে পেপ্যাল অবশেষে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। এর ফলে দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ই-কমার্স ব্যবসায়ী ও ফ্রিল্যান্সারদের বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ আরো সহজ ও নির্বিঘ্ন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ‘অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এই ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে কৃষিখাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৮ জন ব্যক্তি ও ৩টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।

আন্তর্জাতিক লেনদেনে বড় সুবিধা মিলবে

গভর্নর বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খোলা ও ছোট চালানে রপ্তানির জটিলতা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াত। পেপ্যাল চালু হলে ইউরোপ, আমেরিকা ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে সহজে পণ্য পাঠানো এবং দ্রুত মূল্য আদায় সম্ভব হবে।

ফ্রিল্যান্সার ও আউটসোর্সিং পেশাজীবীদের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে। আন্তর্জাতিক গেটওয়ের অভাবে তারা প্রায়ই বিদেশ থেকে পারিশ্রমিক আনতে সমস্যায় পড়তেন, অনেক সময় পেমেন্ট হারিয়েও ফেলতেন। পেপ্যাল চালু হলে এসব ঝামেলা দূর হয়ে লেনদেন হবে নিরাপদ ও দ্রুত।

পেপ্যাল: বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা

পেপ্যাল বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশে ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম। এটি দিয়ে অনলাইনে টাকা পাঠানো-গ্রহণ, বিল পরিশোধ, আন্তর্জাতিক কেনাকাটা ও ব্যবসায়িক লেনদেন সহজেই করা যায়।

নগদ লেনদেন কমানোর উদ্যোগ

গভর্নর ড. মনসুর সিস্টেমটিকে ডিজিটাল পেমেন্ট উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশে অধিকাংশ দুর্নীতির মূলেই রয়েছে নগদ লেনদেন। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধাপে ধাপে নগদ লেনদেন কমানোর পরিকল্পনা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান আরও জানান, টাকা ছাপানো ও ব্যবস্থাপনায় বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। এ ব্যয় কমাতে এবং অর্থনীতিকে আরও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো জরুরি।

কৃষিখাতে শক্তিশালী অগ্রগতি

অনুষ্ঠানে তিনি কৃষিখাতের সাফল্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। স্বাধীনতার পর দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন ছিল মাত্র ১ কোটি ৩০ লাখ টন, যা এখন প্রায় ৪ কোটি টনে পৌঁছেছে। জনসংখ্যা দ্বিগুণ হলেও উৎপাদন বেড়েছে তিনগুণের বেশি-এটিকে তিনি বাংলাদেশের বিশাল অর্জন বলে মন্তব্য করেন।

বর্তমানে কৃষিখাতে ঋণের পরিমাণ মাত্র ২ শতাংশ জানিয়ে তিনি বলেন, এটি বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন।

পেপ্যালের আনুষ্ঠানিক চালু হওয়া বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, অনলাইন ব্যবসা ও ফ্রিল্যান্সিং খাতে নিঃসন্দেহে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আন্তর্জাতিক লেনদেনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

দেশে শিগগিরই চালু হচ্ছে পেপ্যাল

আপডেট সময় : ১০:৫৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশে বহুল প্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে পেপ্যাল অবশেষে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। এর ফলে দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ই-কমার্স ব্যবসায়ী ও ফ্রিল্যান্সারদের বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ আরো সহজ ও নির্বিঘ্ন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ‘অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এই ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে কৃষিখাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৮ জন ব্যক্তি ও ৩টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।

আন্তর্জাতিক লেনদেনে বড় সুবিধা মিলবে

গভর্নর বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খোলা ও ছোট চালানে রপ্তানির জটিলতা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াত। পেপ্যাল চালু হলে ইউরোপ, আমেরিকা ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে সহজে পণ্য পাঠানো এবং দ্রুত মূল্য আদায় সম্ভব হবে।

ফ্রিল্যান্সার ও আউটসোর্সিং পেশাজীবীদের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে। আন্তর্জাতিক গেটওয়ের অভাবে তারা প্রায়ই বিদেশ থেকে পারিশ্রমিক আনতে সমস্যায় পড়তেন, অনেক সময় পেমেন্ট হারিয়েও ফেলতেন। পেপ্যাল চালু হলে এসব ঝামেলা দূর হয়ে লেনদেন হবে নিরাপদ ও দ্রুত।

পেপ্যাল: বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা

পেপ্যাল বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশে ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম। এটি দিয়ে অনলাইনে টাকা পাঠানো-গ্রহণ, বিল পরিশোধ, আন্তর্জাতিক কেনাকাটা ও ব্যবসায়িক লেনদেন সহজেই করা যায়।

নগদ লেনদেন কমানোর উদ্যোগ

গভর্নর ড. মনসুর সিস্টেমটিকে ডিজিটাল পেমেন্ট উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশে অধিকাংশ দুর্নীতির মূলেই রয়েছে নগদ লেনদেন। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধাপে ধাপে নগদ লেনদেন কমানোর পরিকল্পনা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান আরও জানান, টাকা ছাপানো ও ব্যবস্থাপনায় বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। এ ব্যয় কমাতে এবং অর্থনীতিকে আরও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো জরুরি।

কৃষিখাতে শক্তিশালী অগ্রগতি

অনুষ্ঠানে তিনি কৃষিখাতের সাফল্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। স্বাধীনতার পর দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন ছিল মাত্র ১ কোটি ৩০ লাখ টন, যা এখন প্রায় ৪ কোটি টনে পৌঁছেছে। জনসংখ্যা দ্বিগুণ হলেও উৎপাদন বেড়েছে তিনগুণের বেশি-এটিকে তিনি বাংলাদেশের বিশাল অর্জন বলে মন্তব্য করেন।

বর্তমানে কৃষিখাতে ঋণের পরিমাণ মাত্র ২ শতাংশ জানিয়ে তিনি বলেন, এটি বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন।

পেপ্যালের আনুষ্ঠানিক চালু হওয়া বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, অনলাইন ব্যবসা ও ফ্রিল্যান্সিং খাতে নিঃসন্দেহে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।