০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কমলগঞ্জে কমলা বাগান উচ্ছেদ: তদন্তে ৬২৫ গাছের গোড়া, মালিকের দাবি ধ্বংস হয়েছে ১,২০০ গাছ Logo বড়লেখায় পাতাকুঁড়ি শিশুকিশোর থিয়েটারের নতুন কার্যকরী ও উপদেষ্টা কমিটি গঠন Logo বড়লেখায় চোরাই মালামাল উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৬ Logo সিসিকের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার কাজে আগ্রহী সেলফ্লেস ইউকের চিকিৎসক দল Logo একাদশ শ্রেণির অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে মতবিনিময় সভা রোববার Logo ১৭ বছর পর লর্ডসে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ Logo ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নতুন নৌবাহিনী প্রধান Logo প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের বিশেষ সুবিধার মেয়াদ বাড়ল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত Logo ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে আবেদন ২৫ জুলাই পর্যন্ত Logo ঈদগাহ বাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গুণীজন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা

জুড়ীতে বাতাবিলেবু উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২০০ টন

খোর্শেদ আলম, জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৭:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
  • / 480
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী, ফুলতলা ও সাগরনাল ইউনিয়নের পাহাড়ি টিলা বেষ্টিত এলাকা কচুরগুল, লালছড়া, রুপছড়া, হায়াছড়া, শুকনাছড়া, জড়িছড়া, লাঠিটিলা ও ডোমাবাড়ীতে রয়েছে শতাধিক বাতাবিলেবুর (জাম্বুরা) বাগান। বর্তমানে পুরোদমে চলছে হার্বেস্টিং মৌসুম। প্রতিটি বাগানে কৃষক–শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এখানকার বাতাবিলেবু যাচ্ছে সিলেট ও ঢাকার ফলবাজারে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জুড়ীতে ৬৬ হেক্টর জমিতে বাতাবিলেবুর চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২০০ টন।

সরজমিনে দেখা যায়, লাঠিটিলা সড়কের কালামাটি ও হলম্পায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ছোট পিকআপযোগে বাতাবিলেবু এনে বড় ট্রাকে তোলেন। পরে সিলেটের কদমতলী ও রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ফলবাজারে পাঠানো হয় এসব জাম্বুরা। এক সময় স্থানীয় বাজারে অবহেলিত ছিল জুড়ীর বাতাবিলেবু। বিক্রি নিয়েই ছিল শঙ্কা। কিন্তু এখন সারাদেশে পরিচিতি পেয়েছে এই ফল। টক, মিষ্টি ও হালকা তিতার মিশ্রণে অনন্য স্বাদের কারণে স্থানীয়রা একে ‘মাতু জামির’ নামে ডাকেন। জুড়ী উপজেলা ও সিলেটের জৈন্তা এলাকায় বাতাবিলেবুর আবাদ হলেও জুড়ীতেই সবচেয়ে বেশি ফলন হয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিবছর শতাধিক ট্রাক জাম্বুরা এখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়।

২০২১ সালে গবেষণার মাধ্যমে “জুড়ী–১” ও “জুড়ী–২” নামে বাতাবিলেবুর দুটি নতুন জাত উদ্ভাবন হয়। এই জাতের জাম্বুরা আকারে বড় ও স্বাদে উন্নত বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।

শুকনাছড়া, লালছড়া ও জড়িছড়া এলাকার কয়েকজন কৃষক বলেন, আগে কেবল সিলেট অঞ্চলে বিক্রি হতো বাতাবিলেবু। চাহিদা কম থাকায় বিক্রিতে শঙ্কা ছিল। এখন রাজধানী ও বিভাগীয় শহরে সরাসরি সরবরাহ করা হয়। তবে চাষীরা রোগবালাই ও কাঠবিড়ালির উপদ্রবে ভুগছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী কালা মিয়া, শামীম উদ্দিন ও হেলাল উদ্দিন জানান, তারা আগাম চুক্তিতে একাধিক বাগান কিনে নেন। সময়মতো শ্রমিক দিয়ে জাম্বুরা সংগ্রহ করে আকারভেদে বাছাই করেন এবং রাজধানীতে পাঠান।

ঢাকা যাত্রাবাড়ীর ফল ব্যবসায়ী মারুফ আহমদ বলেন, “জুড়ীর বাতাবিলেবু ‘অমৃত’ এখানে সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। স্বাদ ভালো এবং কেমিক্যালমুক্ত হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে খুব জনপ্রিয়।”

জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল আলম খান বলেন, “সারা দেশে বাতাবিলেবুর ব্যাপক চাহিদা থাকলেও সঠিক জাতের সংকট রয়েছে। এ কারণে আমরা কৃষকদের মাঝে ‘জুড়ী–১’, ‘জুড়ী–২’ এবং ‘বারি বাতাবিলেবু–৫’ এর চারা বিতরণ করছি। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, রোগবালাই দমন ও কীটনাশক–ছত্রাকনাশক ব্যবহারে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকেরা যদি এইভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ অব্যাহত রাখেন, তাহলে খুব শিগগিরই জুড়ীর বাতাবিলেবু দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নেবে।”

ষাটমা/এমরান/খোর্শেদ

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জুড়ীতে বাতাবিলেবু উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২০০ টন

আপডেট সময় : ০৪:৫৭:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী, ফুলতলা ও সাগরনাল ইউনিয়নের পাহাড়ি টিলা বেষ্টিত এলাকা কচুরগুল, লালছড়া, রুপছড়া, হায়াছড়া, শুকনাছড়া, জড়িছড়া, লাঠিটিলা ও ডোমাবাড়ীতে রয়েছে শতাধিক বাতাবিলেবুর (জাম্বুরা) বাগান। বর্তমানে পুরোদমে চলছে হার্বেস্টিং মৌসুম। প্রতিটি বাগানে কৃষক–শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এখানকার বাতাবিলেবু যাচ্ছে সিলেট ও ঢাকার ফলবাজারে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জুড়ীতে ৬৬ হেক্টর জমিতে বাতাবিলেবুর চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২০০ টন।

সরজমিনে দেখা যায়, লাঠিটিলা সড়কের কালামাটি ও হলম্পায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ছোট পিকআপযোগে বাতাবিলেবু এনে বড় ট্রাকে তোলেন। পরে সিলেটের কদমতলী ও রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ফলবাজারে পাঠানো হয় এসব জাম্বুরা। এক সময় স্থানীয় বাজারে অবহেলিত ছিল জুড়ীর বাতাবিলেবু। বিক্রি নিয়েই ছিল শঙ্কা। কিন্তু এখন সারাদেশে পরিচিতি পেয়েছে এই ফল। টক, মিষ্টি ও হালকা তিতার মিশ্রণে অনন্য স্বাদের কারণে স্থানীয়রা একে ‘মাতু জামির’ নামে ডাকেন। জুড়ী উপজেলা ও সিলেটের জৈন্তা এলাকায় বাতাবিলেবুর আবাদ হলেও জুড়ীতেই সবচেয়ে বেশি ফলন হয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিবছর শতাধিক ট্রাক জাম্বুরা এখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়।

২০২১ সালে গবেষণার মাধ্যমে “জুড়ী–১” ও “জুড়ী–২” নামে বাতাবিলেবুর দুটি নতুন জাত উদ্ভাবন হয়। এই জাতের জাম্বুরা আকারে বড় ও স্বাদে উন্নত বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।

শুকনাছড়া, লালছড়া ও জড়িছড়া এলাকার কয়েকজন কৃষক বলেন, আগে কেবল সিলেট অঞ্চলে বিক্রি হতো বাতাবিলেবু। চাহিদা কম থাকায় বিক্রিতে শঙ্কা ছিল। এখন রাজধানী ও বিভাগীয় শহরে সরাসরি সরবরাহ করা হয়। তবে চাষীরা রোগবালাই ও কাঠবিড়ালির উপদ্রবে ভুগছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী কালা মিয়া, শামীম উদ্দিন ও হেলাল উদ্দিন জানান, তারা আগাম চুক্তিতে একাধিক বাগান কিনে নেন। সময়মতো শ্রমিক দিয়ে জাম্বুরা সংগ্রহ করে আকারভেদে বাছাই করেন এবং রাজধানীতে পাঠান।

ঢাকা যাত্রাবাড়ীর ফল ব্যবসায়ী মারুফ আহমদ বলেন, “জুড়ীর বাতাবিলেবু ‘অমৃত’ এখানে সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। স্বাদ ভালো এবং কেমিক্যালমুক্ত হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে খুব জনপ্রিয়।”

জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল আলম খান বলেন, “সারা দেশে বাতাবিলেবুর ব্যাপক চাহিদা থাকলেও সঠিক জাতের সংকট রয়েছে। এ কারণে আমরা কৃষকদের মাঝে ‘জুড়ী–১’, ‘জুড়ী–২’ এবং ‘বারি বাতাবিলেবু–৫’ এর চারা বিতরণ করছি। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, রোগবালাই দমন ও কীটনাশক–ছত্রাকনাশক ব্যবহারে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকেরা যদি এইভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ অব্যাহত রাখেন, তাহলে খুব শিগগিরই জুড়ীর বাতাবিলেবু দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নেবে।”

ষাটমা/এমরান/খোর্শেদ