মাল্টিমিডিয়া, কনটেন্ট ও প্রচারে বিশেষ ভূমিকায় সম্মাননা
ষাটমাকণ্ঠের ৪ প্রতিনিধি পেলেন সম্মাননা
- আপডেট সময় : ১২:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
- / 241
ষাটমাকন্ঠ পত্রিকার বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে গত (২২ জুলাই) সিলেটের এমকেআই বলরুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা। পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন ও আধুনিক সাংবাদিকতায় পারদর্শিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মশালায় চারজন কৃতি প্রতিনিধিকে তাঁদের অসাধারণ অবদানের জন্য সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

সেরা রিপোর্টারের সম্মাননা ক্রেস্ট পেয়েছেন আফজাল হোসেন রুমেল, যিনি ষাটমাকণ্ঠ পত্রিকার হেড অব মাল্টিমিডিয়া হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সময়োপযোগী ও অনুসন্ধানমূলক রিপোর্ট পাঠক সমাজে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

সেরা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সম্মাননা ক্রেস্ট পেয়েছেন এমরান আহমদ, যিনি পত্রিকার অ্যাসিস্ট্যান্ট মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ। ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্য উপস্থাপনার দক্ষতায় তিনি পাঠকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন।

এছাড়াও, ফেসবুকে সর্বোচ্চ শেয়ারের মাধ্যমে পাঠকের মধ্যে পত্রিকার ব্যাপক প্রচারে ভূমিকা রাখায় সম্মাননা ক্রেস্ট পেয়েছেন দক্ষিণভাগ (দঃ) ইউনিয়ন প্রতিনিধি অজিত রবি দাস এবং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন প্রতিনিধি শাকিল আহমদ।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং ষাটমা মিডিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবুল কাসেম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন বার্তা সম্পাদক তাহমীদ ইশাদ রিপন।

কর্মশালায় বিশেষ প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও হোয়াইট হাউস রিপোর্টিংয়ের অভিজ্ঞ সাংবাদিক, যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল প্রেসক্লাবের সদস্য ইকবাল হোসাইন ফেরদৌস। তিনি সাংবাদিকতার নৈতিকতা, রিপোর্টিং কৌশল এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
সেরা রিপোর্টারের সম্মাননা পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করে আফজাল হোসেন রুমেল বলেন, সাংবাদিকতা আমার কাছে শুধু একটি পেশা নয় এটি মানুষের সত্য তুলে ধরার এক মহান দায়িত্ব। মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে আমি দেখেছি, একটি তথ্যসমৃদ্ধ ও মানবিক রিপোর্ট কিভাবে সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। ষাটমাকণ্ঠ আমাকে সেই সুযোগ দিয়েছে যেখানে আমি প্রযুক্তি, দৃশ্যমানতা ও তথ্যের ভারসাম্যে কাজ করতে পারি। এই সম্মাননা আমার প্রতি পাঠক, সহকর্মী ও পত্রিকার আস্থার বহিঃপ্রকাশ। আমি বিশ্বাস করি, একজন রিপোর্টার কেবল খবর সংগ্রহ করে না-সে হয়ে ওঠে একটি সমাজের নীরব কণ্ঠস্বর। সামনে আরও দায়িত্বশীল ও প্রভাববিস্তারী সাংবাদিকতা উপহার দিতে চাই।
সেরা কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের সম্মাননা পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করে এমরান আহমদ বলেন, ডিজিটাল কন্টেন্ট এখন সংবাদ উপস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বর্তমান সময়ে গণমাধ্যম শুধু লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় ছবি, ভিডিও, ইনফোগ্রাফিকসহ মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহার এখন সংবাদ উপস্থাপনার অপরিহার্য অংশ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ পাঠকের কাছে তথ্যকে সহজ, দ্রুত ও আকর্ষণীয়ভাবে পৌঁছে দিতে মাল্টিমিডিয়া জগতের ভূমিকা বিশাল। ষাটমাকণ্ঠ এই সুযোগ দিয়েছে বলেই সমাজের নানা স্তরের গল্প, সংকট ও সাফল্যকে ডিজিটাল আঙ্গিকে তুলে ধরতে পেরেছি। এই সম্মাননা শুধু আমার একার অর্জন নয় এটি মাল্টিমিডিয়া টিম ও আমাদের পাঠকের সম্মিলিত প্রয়াসের প্রতিফলন। এই সম্মাননা আমার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।
সবচেয়ে বেশি শেয়ার করে সম্মাননা পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করে অজিত রবি দাস বলেন, একজন গ্রামীণ প্রতিনিধির সীমিত পরিসরেও অনেক বড় কিছু করা সম্ভব, তা আমি ষাটমাকণ্ঠের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করেছি। ফেসবুকের মতো গণমাধ্যমে পত্রিকার প্রতিবেদনগুলো ছড়িয়ে দিতে পারা আমার কাছে দায়িত্ব ও আনন্দ দুই-ই। কারণ, সঠিক খবর পৌঁছালে সমাজ সচেতন হয়, অন্যায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়, আর জনমানস গড়ে ওঠে। এই সম্মাননা আমাকে জানিয়ে দিল, ছোট উদ্যোগগুলোও একদিন বড় স্বীকৃতি পায়।
শাকিল আহমদ বলেন, আজকের যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ। একজন সাংবাদিক শুধু রিপোর্ট লিখলেই দায়িত্ব শেষ হয় না সেটি পাঠকের দোরগোড়ায় পৌঁছানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফেসবুক হচ্ছে সেই সেতু, যার মাধ্যমে আমি আমার এলাকার মানুষকে সংবাদে যুক্ত করেছি। ষাটমাকণ্ঠের মত স্থানীয় পত্রিকা যেন সামাজিক আলোচনার অংশ হতে পারে, সে জন্য আমি এই প্ল্যাটফর্মকে সচেতনভাবে ব্যবহার করি। এই সম্মাননা আমাকে ভবিষ্যতে আরও উৎসাহ দিয়ে কাজ করতে শক্তি দেবে।
























