বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের বার্তা
- আপডেট সময় : ০৯:১৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
- / 39
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জলবায়ু সংকট আর ভবিষ্যতের কোনো সতর্কবার্তা নয়; এটি এখন আমাদের সময়ের নির্মম বাস্তবতা। এই সংকট সম্পর্কে বিশ্ব বহু আগেই সতর্ক হয়েছিল, কিন্তু যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে আজ মানবসভ্যতা এক গভীর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।
তিনি বলেন, জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয়, পরিবেশ দূষণ এবং সীমাহীন ভোগবাদ পৃথিবীর ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলছে। অথচ এই সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠী- যারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী, কিন্তু এর সবচেয়ে কঠিন অভিঘাত বহন করছে।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো অনুসরণ করেছে যার প্রধান লক্ষ্য ছিল মুনাফা অর্জন। যে অর্থনীতি দূষণ ও অপচয়কে উৎসাহিত করে, তা কখনোই জলবায়ু সংকটের কার্যকর সমাধান দিতে পারে না। একইভাবে, যে অর্থনীতি অল্প কয়েকজন মানুষের হাতে বিপুল সম্পদ কেন্দ্রীভূত হতে দেয়, তা দারিদ্র্য দূরীকরণেও ব্যর্থ হয়। তরুণদের শুধু চাকরি খোঁজার শিক্ষা দিয়ে, চাকরি সৃষ্টির ক্ষমতা ও সাহস না জাগিয়ে তোলা হলে সমাজ তার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদকে হারায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলার জন্য তরুণদের স্বপ্ন দেখার, নতুন কিছু গড়ে তোলার এবং নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
প্রফেসর ইউনূস একটি নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন তুলে ধরে বলেন, সেই পৃথিবীর তিনটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য হবে- শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ এবং শূন্য বেকারত্ব। তাঁর ভাষায়, “তিন শূন্যের এই পৃথিবী কোনো কল্পনা নয়; আমরা যদি সম্মিলিতভাবে চাই, তবে এটি বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব।”
তিনি সামাজিক ব্যবসা, সবুজ কর্মসংস্থান এবং কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, এমন উদ্যোগই মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করবে এবং একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বার্তায় তিনি বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচার ছাড়া জলবায়ু কার্যক্রম সফল হতে পারে না; আবার জলবায়ু কার্যক্রম ছাড়া সামাজিক ন্যায়বিচারও পূর্ণতা পায় না। এই দুইকে সমন্বিতভাবেই এগিয়ে নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করা যায়।
মানবিক মূল্যবোধের প্রসঙ্গ টেনে প্রফেসর ইউনূস বলেন, অর্থ উপার্জন মানুষকে স্বাচ্ছন্দ্য দিতে পারে, কিন্তু অন্য মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যে যে আনন্দ ও তৃপ্তি রয়েছে, তার তুলনা হয় না।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে তিনি বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক নেতৃত্ব, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ নাগরিকদের প্রতি সাহসী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং এমন সামাজিক ব্যবসার প্রসারের ওপর গুরুত্ব দেন, যা শুধু মুনাফা নয়, মানুষ ও পৃথিবীর কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “পৃথিবীকে রক্ষা করতে হলে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই পৃথিবী গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সবার।”

















