কাউন্সিল নির্বাচনে মুলত নেতৃত্ব লড়াই হচ্ছে প্রবীণ ও নবীনদের মধ্যে। পদপ্রত্যাশীরা দলীয় নেতাকর্মী ও কাউন্সিলরদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। কেউ কেউ দলের শীর্ষ পর্যায়েও যোগাযোগ রাখছেন। ফলে কমিটিতে নবীনরাই নেতৃত্ব আসবে নাকি প্রবীনরাই থাকছেন- এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে কৌতূহল ও আগ্রহ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিল ও সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয়তাবাদী দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। প্রধান বক্তা হচ্ছেন বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গউছ, বিশেষ অতিথি থাকবেন বিএনপির সিলেট বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন এবং সদস্য সচিব মো. আব্দুর রহিম রিপন।
সর্বশেষ উপজেলা বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এরপর থেকে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে দলীয় কার্যক্রম চলছে। ১২ আগষ্ট আহ্বায়ক কমিটির এক বর্ধিত সভায় ১৬ আগষ্ট সম্মেলন ও কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
কাউন্সিল ঘিরে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন থেকে ৭১০ জন কাউন্সিলরের ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ৮ আগস্ট যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এতে বিনা প্রতিদ্বদ্বীতায় সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দুজনকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
সিনিয়র সহসভাপতি পদে প্রবীণ বিএনপি নেতা নছিব আলীর সাথে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক পদ ছেড়ে প্রতিদ্বদ্বীতা করছেন এসএম শরীফুল ইসলাম বাবলু, সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপির আরেক প্রবিন নেতা মুজিবুর রহমান খসরুর সাথে প্রতিদ্বদ্বীতা করছেন উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে ছেড়ে আব্দুল কাদির পলাশ ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খানের সাথে প্রতিদ্বদ্বীতা করছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক জালাল আহমদ তালাল।
সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খসরু বলেন, দলের জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। একাধিকবার জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। আমার বিশ্বাস অতীতের মত এবারও দলের নেতাকর্মীরা আমাকে মূল্যায়ন করবেন।
সাধারণ সম্পাদক প্রত্যাশী সাবেক যুবদল নেতা আব্দুল কাদির পলাশ জানান, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সব আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একারণে অনেক জেল-জুলুমের শিকার হন। কিন্তু ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আতাত করেননি। অতীতের সাংগঠনিক কার্যক্রম বিবেচনা করলে কাউন্সিলররা তাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করবেন।
সিনিয়র সহসভাপতি পদপ্রত্যাশী নছিব আলী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করছেন। বিএনপির দুঃসময়ে তিনি সম্মুখসারিতে থেকে কাজ করেছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক, দলের জন্য তার ত্যাগ মূল্যায়ন করলে কাউন্সিলররা তাকে নির্বাচিত করবেন।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন জানান, দীর্ঘদিন পর মুক্ত পরিবেশে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে নেতাকর্মীরা বেশ উজ্জীবিত। শনিবার (১৬ আগষ্ট) সম্মেলন ও কাউন্সিল সফলের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
বিনা প্রতিদ্বদ্বীতায় নির্বাচিত প্রবীণ বিএনপি নেতা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাফিজ জানান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদল দিয়ে শুরু করে বিএনপির রাজনীতি করছি। আন্দোলন-সংগ্রাম, জেল-জুলুম-সবই পেরিয়ে এসেছি। নেতাকর্মীরা আমাকে ভালোবাসেন, তাই আবারও আমাকে নেতৃত্বে রেখেছেন।