০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo জুড়ীতে প্রধান শিক্ষক নিখোঁজ, মোটরসাইকেল ও জামাকাপড় উদ্ধার Logo বড়লেখায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু, লাশ উদ্ধার Logo শিক্ষার্থীদের জন্য রেজিস্ট্রেশন শুরু, শেষ সময় ২৭ এপ্রিল Logo সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, বড়লেখা-জুড়ীতে উচ্ছ্বাস Logo কুলাউড়ায় রাস্তার উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি শওকতুল ইসলাম Logo এসএসসি সমমান পরীক্ষার্থীদের নিয়ে বড়লেখায় ছাত্রশিবিরের দোয়া মাহফিল Logo বড়লেখায় ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা Logo সুর-নৃত্য-নাট্যে মণিপুরি থিয়েটারের বর্ণিল বিষু উৎসবের সমাপ্তি Logo দুর্নীতিবিরোধী বিতর্কে জুড়ীতে চ্যাম্পিয়ন মক্তদীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় Logo বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমছে, আর দেশে বাড়ছে, খুবই দুঃখজনক: জামায়াত আমির

থানা পুলিশের বাধাও বিবাদিরা থামছে না

বড়লেখায় উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দালানকোঠা ভেঙ্গে ফেলেছে একপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:০২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 254
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় যৌথ মালিকানাধীন দালানকোটা অংশীদারকে না জানিয়েই গোপনে তৃতীয় পক্ষের নিকট একাংশ বিক্রি করে দিয়েছে অপর অংশীদার। এব্যাপারে আদালতে মামলা-মোকদ্দমা চলমান এবং ভবনের স্থানান্তর, হস্তান্তর, মেরামত ও রূপান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন উচ্চ আদালত। কিন্ত তা অমান্য ও থানা পুলিশের বাধা-নিষেধ উপক্ষো করে ভবনের একাংশের গোপন ক্রেতা তা ভেঙ্গে ফেলছেন। এতে ভুক্তভোগি মো. সামছুল ইসলাম ৫০/৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করছেন।

যৌথ মালিকানাধীন ভবনের একাংশ জোরপূর্বক ভেঙ্গে ফেলায় অপর অংশের মালিক মো. সামছুল ইসলামের ইতিমধ্যে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এঘটনাকে কেন্দ্র করে যে কোনো সময় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশংকাও করছেন এলাকাবাসি।

জানা গেছে, উপজেলার সালদিঘা গ্রামের ক্বারী মো. ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মো. সামছুল ইসলাম বাড়ির পাশে সালদিগা মৌজার এস.এ দাগ ২৪৩৭ এর শতাংশ এবং এস.এ দাগ ২৪৩৯ এর ১১ শতাংশসহ মোট ২১ শতাংশ ভুমি যৌথভাবে তিনি ও রাজিয়া সুলতানা ২০০৯ সালে ২২৭৪ নং দলিলে জনৈক মো. আমিনুল ইসলাম ও মো. সফিকুল ইসলামের নিকট থেকে ক্রয় করেন। উক্ত ২১ শতাংশ জমির উপর উভয় দাগ আকর্ষন করিয়া বিক্রেতা পক্ষ একটি বহুতল দালান নির্মাণ করেন। এর পূর্বাংশে কিছু জায়গা পতিত অবস্থায় ছিল। এই পতিত জমিসহ বহুতল দালান ক্রেতা সামছুল ইসলাম গং এর নিকট বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম গং ২২৭৪/২০০৯ ইং নং দলিলে বিক্রয় করেন। প্রকাশ থাকে যে, ২২৭৪/২০০৯ ইং নং দলিলে বিক্রয়কৃত ভূমিতে বাড়ি নির্মাণ করিয়াছেন উল্লেখে বিক্রেতা জমি ও দালান বিক্রয় করেন। ক্রেতাপক্ষ মোঃ সামছুল ইসলাম এবং মোছা. রাজিয়া সুলতানা যৌথভাবে তাহা ভোগ দখল করিতে থাকেন। এক পর্যায়ে রাজিয়া সুলতানা ও মো. সামছুল ইসলাম উক্ত জমি ও দালান বন্টন করার মনস্থির করেন এবং যেহেতু উভয় দাগে দালান আকর্ষন করে তাই তারা দালান ও জমি বন্টন করিতে উদ্যত হন। তখন রাজিয়া সুলতানা দালানের কোন ভাগ নিবেন না জানিয়ে তিনি ২১ ভূমির পূর্বাংশের সাড়ে ১০ শতাংশ ভূমি পছন্দ করে তার অংশ বুঝে নেন। সামছুল ইসলাম পশ্চিমাংশের সাড়ে ১০ শতাংশ ভূমি বুঝে নেন। সামছুল ইসলামের অংশে ২৪৩৭ দাগের ১০ শতাংশ এবং ২৪৩৯ দাগের অর্ধ শতাংশ ভুমি আকর্ষন করে। অপর দিকে রাজিয়া সুলতানার অংশের ২৪৩৯ দাগের সাড়ে ১০ শতাংশ ভূমি আকর্ষন করে। তাদের মধ্যে মৌখিক চুক্তি হয় রাজিয়া সুলতানা তার অংশের ভূমি বিক্রয় করলে তা মো. সমাছুল ইসলামের কাছে বিক্রি করবেন। তাছাড়া যৌথ ক্রয়কালিন রাজিয়া সুলতানার অংশের দালানের মূল্য তিনি পরিশোধ করেন নাই। সামছুল ইসলাম একাই সম্পূর্ন দালানের মূল্য পরিশোধ করেন। সরল বিশ্বাসে সামছুল ইসলাম দালানের একক মালিক আর উভয়ে জমির মালিক থাকিয়া মধ্যস্থদের জানা মতে ভোগ দখল করতে থাকেন। পরবর্তীতে তারা বিগত ২০১৪ সালের ১৩ আগস্ট রেজি: ২৩৩৫ নং বন্টননামা রেজিষ্ট্রী করেন। সামছুল ইসলাম রাজিয়া সুলতানার অংশের দালান ব্যবহার করতে থাকেন। এই অবস্থায় রাজিয়া সুলতানা অতি গোপনে সামছুল ইসলামকে অন্ধকারে রেখে ২৪৩৯ দাগের ০.১০৫০ একর ভূমি উল্লেখিত ছয়ফুল ইসলাম, ফখরুল ইসলাম ও তাদের ভ্রাতা জয়নুল ইসলামের নামে ২৮/০২/২০১৮ইং রেজি: ৭৬৬ নং কবালায় বিক্রয় করে দেন। ক্রেতা তখনও দখলে না যাওয়ায় মো. সামছুল ইসলাম তা অবহিত হননি। ২৮/১২/২০২২ ইং তিনি তার ভোগদখলীয় দালানকোটার গোপন বিক্রির বিষয়টি জানার পরই বিজ্ঞ সহকারী জজ বড়লেখা আদালতে স্বত্ব শফি মোকদ্দমা ১৫/২০২৩ ইং দায়ের করেন। এই মামলা দায়েরের পর বিবাদীরা নালিশা ভূমিস্থ দালানের অংশ ভাঙ্গিয়া বিলুপ্ত করার চেষ্টা চালায়। যেহেতু সামছুল ইসলামের দখলীয় ভূমির দালান এবং নালিশা ভূমিস্থ দালানের অংশ মিলিয়ে একটি দালান হয় তাই এই ভাংচুরের কারণে সামছুল ইসলামের অংশ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার আশংকায় তিনি স্বত্ব ১৫/২০২৩ ইং মোকদ্দমায় উক্ত দালান ভাঙ্গা এবং কোনরূপ রূপান্তর ও পরিবর্তন না করার জন্য বিগত ১২/০৫/২০১৫ ইং তারিখে নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা করিলে বিজ্ঞ আদালত তা না মঞ্জুর করেন। এরপর বিবাদী পক্ষ দালান গৃহ ভাংচুর অব্যাহত রাখেন। এই অবস্থায় সামছুল ইসলাম বিজ্ঞ জেলা জজ মৌলভীবাজারে বিবিধ আপীল ১২/২০২৫ইং মোকদ্দমায় স্থিতাবস্থার আদেশ প্রাপ্ত হন। বিজ্ঞ আপীল আদালতে আদেশ হয় যে, নালিশা ভুমিতে কোনরূপ রূপান্তর, হস্তান্তর কেহ করিবেন না। কিন্তু বিবাদী পক্ষ আইন অমান্য করিয়া নালিশা ভূমিস্থ দালান গৃহের অংশ ভাঙ্গিয়া ফেলেন। এতে উক্ত দালানের অপর অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়াসহ সামছুল ইসলাম মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন। তাছাড়া ও জেলা জজ মৌলভীবাজার কোর্টের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে গোপন ক্রেতা ছয়ফুল ইসলাম গং রিভিশন ২৬২০/২০২৫ নং মোকদ্দমা করে নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা করলে তা না মঞ্জুর হয় ।

ভুক্তভোগি মো. সামছুল ইসলাম জানান, মহামান্য হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের (জেলা জজ) দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখেন। বিবাদী পক্ষ বারবার উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নালিশা ভূমিস্থ দালান বেআইনীভাবে ভাঙ্গা ও বিলুপ্তের অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তারা  দলীয় সন্ত্রাসী দিয়ে আমাকে মোকদ্দমা পরিচালানা না করতে এবং প্রত্যাহারের হুমকি দিচ্ছে, চাপ সৃষ্টি এবং মিথ্যা মামলা দেওয়ারও হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। নানাবিধ জটিল ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে যাতে শফি ১৫/২০২৩ ইং নং মামলার সুফল পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। বিবাদীপক্ষ ওই গোপন দলিলে ইচ্ছাকৃতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে বাড়ি রকম ভূমিকে আমন শ্রেণি দেখিয়ে নালিশা ভূমির দালানের অংশ ভাঙ্গিয়াছে। আদালতের আদেশ অমান্য করে দালানের অংশ বিশেষ বিলুপ্ত করেছে এবং অবশিষ্ট দালানের ক্ষতি সাধন এবং দালানের দরজা, জানালা, গ্রিল ও অন্যান্য উপকরন চুরি ও বিনষ্ট করায় তারা আমার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। বার বার বিবাদীপক্ষ আইন অমান্য ও পুলিশ প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করে দালান ভঙ্গের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে ভাঙ্গতে থাকলে তিনি ৫০/৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখিন হওয়ার আশংকা করছেন।

থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, বাদি মারফত বিবাদীরা বিরোধীয় ভূমিতে কাজকর্ম করছেন জেনে কোনো ধরণের কাজকর্ম না করার জন্য তাদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগেও কয়েকবার আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাজ করার খবর পেয়ে পুলিশ নালিশা ভূমির দালানকোটার সংস্কার ও ভাঙ্গার কাজ বন্ধ করেছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্যের খবর পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

থানা পুলিশের বাধাও বিবাদিরা থামছে না

বড়লেখায় উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দালানকোঠা ভেঙ্গে ফেলেছে একপক্ষ

আপডেট সময় : ০৮:০২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় যৌথ মালিকানাধীন দালানকোটা অংশীদারকে না জানিয়েই গোপনে তৃতীয় পক্ষের নিকট একাংশ বিক্রি করে দিয়েছে অপর অংশীদার। এব্যাপারে আদালতে মামলা-মোকদ্দমা চলমান এবং ভবনের স্থানান্তর, হস্তান্তর, মেরামত ও রূপান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন উচ্চ আদালত। কিন্ত তা অমান্য ও থানা পুলিশের বাধা-নিষেধ উপক্ষো করে ভবনের একাংশের গোপন ক্রেতা তা ভেঙ্গে ফেলছেন। এতে ভুক্তভোগি মো. সামছুল ইসলাম ৫০/৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করছেন।

যৌথ মালিকানাধীন ভবনের একাংশ জোরপূর্বক ভেঙ্গে ফেলায় অপর অংশের মালিক মো. সামছুল ইসলামের ইতিমধ্যে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এঘটনাকে কেন্দ্র করে যে কোনো সময় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশংকাও করছেন এলাকাবাসি।

জানা গেছে, উপজেলার সালদিঘা গ্রামের ক্বারী মো. ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মো. সামছুল ইসলাম বাড়ির পাশে সালদিগা মৌজার এস.এ দাগ ২৪৩৭ এর শতাংশ এবং এস.এ দাগ ২৪৩৯ এর ১১ শতাংশসহ মোট ২১ শতাংশ ভুমি যৌথভাবে তিনি ও রাজিয়া সুলতানা ২০০৯ সালে ২২৭৪ নং দলিলে জনৈক মো. আমিনুল ইসলাম ও মো. সফিকুল ইসলামের নিকট থেকে ক্রয় করেন। উক্ত ২১ শতাংশ জমির উপর উভয় দাগ আকর্ষন করিয়া বিক্রেতা পক্ষ একটি বহুতল দালান নির্মাণ করেন। এর পূর্বাংশে কিছু জায়গা পতিত অবস্থায় ছিল। এই পতিত জমিসহ বহুতল দালান ক্রেতা সামছুল ইসলাম গং এর নিকট বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম গং ২২৭৪/২০০৯ ইং নং দলিলে বিক্রয় করেন। প্রকাশ থাকে যে, ২২৭৪/২০০৯ ইং নং দলিলে বিক্রয়কৃত ভূমিতে বাড়ি নির্মাণ করিয়াছেন উল্লেখে বিক্রেতা জমি ও দালান বিক্রয় করেন। ক্রেতাপক্ষ মোঃ সামছুল ইসলাম এবং মোছা. রাজিয়া সুলতানা যৌথভাবে তাহা ভোগ দখল করিতে থাকেন। এক পর্যায়ে রাজিয়া সুলতানা ও মো. সামছুল ইসলাম উক্ত জমি ও দালান বন্টন করার মনস্থির করেন এবং যেহেতু উভয় দাগে দালান আকর্ষন করে তাই তারা দালান ও জমি বন্টন করিতে উদ্যত হন। তখন রাজিয়া সুলতানা দালানের কোন ভাগ নিবেন না জানিয়ে তিনি ২১ ভূমির পূর্বাংশের সাড়ে ১০ শতাংশ ভূমি পছন্দ করে তার অংশ বুঝে নেন। সামছুল ইসলাম পশ্চিমাংশের সাড়ে ১০ শতাংশ ভূমি বুঝে নেন। সামছুল ইসলামের অংশে ২৪৩৭ দাগের ১০ শতাংশ এবং ২৪৩৯ দাগের অর্ধ শতাংশ ভুমি আকর্ষন করে। অপর দিকে রাজিয়া সুলতানার অংশের ২৪৩৯ দাগের সাড়ে ১০ শতাংশ ভূমি আকর্ষন করে। তাদের মধ্যে মৌখিক চুক্তি হয় রাজিয়া সুলতানা তার অংশের ভূমি বিক্রয় করলে তা মো. সমাছুল ইসলামের কাছে বিক্রি করবেন। তাছাড়া যৌথ ক্রয়কালিন রাজিয়া সুলতানার অংশের দালানের মূল্য তিনি পরিশোধ করেন নাই। সামছুল ইসলাম একাই সম্পূর্ন দালানের মূল্য পরিশোধ করেন। সরল বিশ্বাসে সামছুল ইসলাম দালানের একক মালিক আর উভয়ে জমির মালিক থাকিয়া মধ্যস্থদের জানা মতে ভোগ দখল করতে থাকেন। পরবর্তীতে তারা বিগত ২০১৪ সালের ১৩ আগস্ট রেজি: ২৩৩৫ নং বন্টননামা রেজিষ্ট্রী করেন। সামছুল ইসলাম রাজিয়া সুলতানার অংশের দালান ব্যবহার করতে থাকেন। এই অবস্থায় রাজিয়া সুলতানা অতি গোপনে সামছুল ইসলামকে অন্ধকারে রেখে ২৪৩৯ দাগের ০.১০৫০ একর ভূমি উল্লেখিত ছয়ফুল ইসলাম, ফখরুল ইসলাম ও তাদের ভ্রাতা জয়নুল ইসলামের নামে ২৮/০২/২০১৮ইং রেজি: ৭৬৬ নং কবালায় বিক্রয় করে দেন। ক্রেতা তখনও দখলে না যাওয়ায় মো. সামছুল ইসলাম তা অবহিত হননি। ২৮/১২/২০২২ ইং তিনি তার ভোগদখলীয় দালানকোটার গোপন বিক্রির বিষয়টি জানার পরই বিজ্ঞ সহকারী জজ বড়লেখা আদালতে স্বত্ব শফি মোকদ্দমা ১৫/২০২৩ ইং দায়ের করেন। এই মামলা দায়েরের পর বিবাদীরা নালিশা ভূমিস্থ দালানের অংশ ভাঙ্গিয়া বিলুপ্ত করার চেষ্টা চালায়। যেহেতু সামছুল ইসলামের দখলীয় ভূমির দালান এবং নালিশা ভূমিস্থ দালানের অংশ মিলিয়ে একটি দালান হয় তাই এই ভাংচুরের কারণে সামছুল ইসলামের অংশ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার আশংকায় তিনি স্বত্ব ১৫/২০২৩ ইং মোকদ্দমায় উক্ত দালান ভাঙ্গা এবং কোনরূপ রূপান্তর ও পরিবর্তন না করার জন্য বিগত ১২/০৫/২০১৫ ইং তারিখে নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা করিলে বিজ্ঞ আদালত তা না মঞ্জুর করেন। এরপর বিবাদী পক্ষ দালান গৃহ ভাংচুর অব্যাহত রাখেন। এই অবস্থায় সামছুল ইসলাম বিজ্ঞ জেলা জজ মৌলভীবাজারে বিবিধ আপীল ১২/২০২৫ইং মোকদ্দমায় স্থিতাবস্থার আদেশ প্রাপ্ত হন। বিজ্ঞ আপীল আদালতে আদেশ হয় যে, নালিশা ভুমিতে কোনরূপ রূপান্তর, হস্তান্তর কেহ করিবেন না। কিন্তু বিবাদী পক্ষ আইন অমান্য করিয়া নালিশা ভূমিস্থ দালান গৃহের অংশ ভাঙ্গিয়া ফেলেন। এতে উক্ত দালানের অপর অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়াসহ সামছুল ইসলাম মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন। তাছাড়া ও জেলা জজ মৌলভীবাজার কোর্টের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে গোপন ক্রেতা ছয়ফুল ইসলাম গং রিভিশন ২৬২০/২০২৫ নং মোকদ্দমা করে নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা করলে তা না মঞ্জুর হয় ।

ভুক্তভোগি মো. সামছুল ইসলাম জানান, মহামান্য হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের (জেলা জজ) দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখেন। বিবাদী পক্ষ বারবার উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নালিশা ভূমিস্থ দালান বেআইনীভাবে ভাঙ্গা ও বিলুপ্তের অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তারা  দলীয় সন্ত্রাসী দিয়ে আমাকে মোকদ্দমা পরিচালানা না করতে এবং প্রত্যাহারের হুমকি দিচ্ছে, চাপ সৃষ্টি এবং মিথ্যা মামলা দেওয়ারও হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। নানাবিধ জটিল ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে যাতে শফি ১৫/২০২৩ ইং নং মামলার সুফল পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। বিবাদীপক্ষ ওই গোপন দলিলে ইচ্ছাকৃতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে বাড়ি রকম ভূমিকে আমন শ্রেণি দেখিয়ে নালিশা ভূমির দালানের অংশ ভাঙ্গিয়াছে। আদালতের আদেশ অমান্য করে দালানের অংশ বিশেষ বিলুপ্ত করেছে এবং অবশিষ্ট দালানের ক্ষতি সাধন এবং দালানের দরজা, জানালা, গ্রিল ও অন্যান্য উপকরন চুরি ও বিনষ্ট করায় তারা আমার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। বার বার বিবাদীপক্ষ আইন অমান্য ও পুলিশ প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করে দালান ভঙ্গের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে ভাঙ্গতে থাকলে তিনি ৫০/৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখিন হওয়ার আশংকা করছেন।

থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, বাদি মারফত বিবাদীরা বিরোধীয় ভূমিতে কাজকর্ম করছেন জেনে কোনো ধরণের কাজকর্ম না করার জন্য তাদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগেও কয়েকবার আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাজ করার খবর পেয়ে পুলিশ নালিশা ভূমির দালানকোটার সংস্কার ও ভাঙ্গার কাজ বন্ধ করেছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্যের খবর পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।