০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কুলাউড়ায় সরকারি কলেজে নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন Logo পহেলা বৈশাখে কুতুব আলী একাডেমিতে শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক আয়োজন Logo জুড়ীতে জামায়াতের ওয়ার্ড দায়িত্বশীলদের কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo জুড়ীতে ৭৬৮ কৃষকের মাঝে কার্ড বিতরণ Logo বর্ণাঢ্য আয়োজনে বড়লেখায় বৈশাখ বরণ Logo কানাডার এমপি নির্বাচিত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি, প্রধানমন্ত্রী কার্নির অভিনন্দন Logo কমলগঞ্জে সড়ক উন্নয়ন ও খাল খনন কাজের উদ্বোধন Logo সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে- নাসির উদ্দিন মিঠু এমপি Logo জুড়ীতে অবৈধভাবে মজুত করা ১৪ শ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ Logo জ্বালানি সংকটে বিয়ের অনুষ্ঠানে চমক, উপহার হিসেবে অকটেন পেলেব বর

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগের কার্যক্রমের সমালোচনা করে আসছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার বিভাগটি একেবারেই বিলুপ্ত করতে চাইছেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি শিগগিরই একটি নির্বাহী আদেশ জারি করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ বিলুপ্ত করতে চাইছেন ট্রাম্প

পাথারিয়া কন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:১২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ মার্চ ২০২৫
  • / 166

শিক্ষা বিভাগ বিলুপ্ত করে শিগগিরই একটি নির্বাহী আদেশ জারি করবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দ্বিতীয়বার ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকার ও প্রশাসনের ব্যাপক সংস্কার শুরু করেছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ব্যাপক বিতর্ক ও বিরোধীদের কঠোর সমালোচনা সত্ত্বেও পিছু হটছেন না। এবার পুরো শিক্ষা বিভাগই ভেঙে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেছেন, তিনি চান তার নতুন শিক্ষামন্ত্রী লিন্ডা ম্যাকমাহন ‘নিজেই নিজেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করবেন’ অর্থাৎ পদত্যাগ করবেন এবং শিক্ষা বিভাগ বন্ধ করে দেবেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার দিনই ট্রাম্প তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও রেসলিং আয়োজক সংস্থা ডব্লিউডব্লিউইর সহ-প্রতিষ্ঠাতা লিন্ডা ম্যাকমাহনকে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেন। তখনই ধারণা করা হচ্ছিল, শিক্ষা বিভাগ বন্ধ করার দায়িত্ব লিন্ডার ওপরই পড়বে।
 
গত সোমবার (৩ মার্চ) লিন্ডা শিক্ষা দফতরের প্রধান হিসেবে সিনেটের অনুমোদন পান। লিন্ডা এর আগে কানেকটিকাট রাজ্যের শিক্ষাবোর্ডে এক বছর কাজ করেছেন। পাশাপাশি দীর্ঘসময় ধরে স্যাকরেড হার্ট ইউনিভার্সিটির একজন ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মনোনয়ন নিশ্চিতকরণ ভোটের আগে বর্তমানে সিনেটের মাইনরিটি তথা সংখ্যালঘু দলের নেতা চাক শুমার বলেন, ‘আমেরিকানরা সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় বিশ্বাস করে। তারা শিক্ষা বিভাগকে বন্ধ হয়ে যেতে দেখতে চায় না। যদি ট্রাম্প প্রশাসন শিক্ষায় কাটছাঁট চালিয়ে যায়, তাহলে স্কুলগুলো বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন হারাবে।’
তবে ট্রাম্প তার পরিকল্পনায় অটল। ম্যাকমাহনের মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পরই তিনি শিক্ষা বিভাগ বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, তিনি চান ম্যাকমাহন ‘নিজেকেই নিজে চাকুরিচ্যুত করুক’। ট্রাম্পের কথা মতো এখন ম্যাকমাহনকে শিক্ষা বিভাগ বন্ধ করে দিতে হবে।
১৯৭৯ সালে শিক্ষা বিভাগ গঠন করে কংগ্রেস। এই বিভাগের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো দেশটির স্কুল-কলেজে অর্থ বিতরণ করা। প্রতিবছর কে-১২ স্কুলগুলোতে এই বিভাগ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাঠায় এবং ১.৬ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যমানের ফেডারেল শিক্ষার্থী ঋণ প্রক্রিয়ার দেখভাল করে। 
ট্রাম্পের যুক্তি, এই বিভাগটির দখল নিয়েছে উদারপন্থিরা, যারা আমেরিকার স্কুলগুলোর ওপর তাদের নিজস্ব ধ্যানধারণা চাপিয়ে দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় তিনি এই বিভাগ বন্ধের অঙ্গীকার করেন এবং জানান, তিনি এই বিভাগের হাতে থাকা ক্ষমতা রাজ্যগুলোর মাঝে বণ্টন করে দেবেন। 
শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে স্কুল ও রাজ্যে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের চেয়ে বেশি কর্তৃত্ব ভোগ করে থাকে। কেন্দ্রীয় সরকার পাঠ্যক্রমকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করতে পারে না। কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ সরকারি স্কুলের বাজেটের প্রায় ১৪ শতাংশের জোগান দিয়ে থাকে।
ইতোমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন এই বিভাগের কার্যক্রমের সংস্কার শুরু করেছে। ট্রাম্পের উপদেষ্টা ইলন মাস্কের সরকারি কর্মদক্ষতা বিভাগ এরই মধ্যে ‘ওক’ ও ‘অপচয়’র তকমা দিয়ে এই বিভাগের কয়েক ডজন চুক্তি বাতিল করেছে। 
 
বৈজ্ঞানিক শিক্ষা ইনস্টিটিউট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, যারা দেশটির প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের তথ্য জোগাড় করে। পাশাপাশি, প্রশাসন এই বিভাগের অসংখ্য কর্মকর্তাকে বরখাস্ত বা সাময়িক বরখাস্ত করেছে। 
 
ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারির কথা বিবেচনা করছেন, যার মধ্যদিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে রক্ষণশীলদের দীর্ঘদিন একটি দাবি এবং নির্বাচনী প্রচারণায় দেয়া ট্রাম্পের একটি প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগের কার্যক্রমের সমালোচনা করে আসছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার বিভাগটি একেবারেই বিলুপ্ত করতে চাইছেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি শিগগিরই একটি নির্বাহী আদেশ জারি করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ বিলুপ্ত করতে চাইছেন ট্রাম্প

আপডেট সময় : ০৭:১২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ মার্চ ২০২৫

দ্বিতীয়বার ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকার ও প্রশাসনের ব্যাপক সংস্কার শুরু করেছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ব্যাপক বিতর্ক ও বিরোধীদের কঠোর সমালোচনা সত্ত্বেও পিছু হটছেন না। এবার পুরো শিক্ষা বিভাগই ভেঙে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেছেন, তিনি চান তার নতুন শিক্ষামন্ত্রী লিন্ডা ম্যাকমাহন ‘নিজেই নিজেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করবেন’ অর্থাৎ পদত্যাগ করবেন এবং শিক্ষা বিভাগ বন্ধ করে দেবেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার দিনই ট্রাম্প তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও রেসলিং আয়োজক সংস্থা ডব্লিউডব্লিউইর সহ-প্রতিষ্ঠাতা লিন্ডা ম্যাকমাহনকে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেন। তখনই ধারণা করা হচ্ছিল, শিক্ষা বিভাগ বন্ধ করার দায়িত্ব লিন্ডার ওপরই পড়বে।
 
গত সোমবার (৩ মার্চ) লিন্ডা শিক্ষা দফতরের প্রধান হিসেবে সিনেটের অনুমোদন পান। লিন্ডা এর আগে কানেকটিকাট রাজ্যের শিক্ষাবোর্ডে এক বছর কাজ করেছেন। পাশাপাশি দীর্ঘসময় ধরে স্যাকরেড হার্ট ইউনিভার্সিটির একজন ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মনোনয়ন নিশ্চিতকরণ ভোটের আগে বর্তমানে সিনেটের মাইনরিটি তথা সংখ্যালঘু দলের নেতা চাক শুমার বলেন, ‘আমেরিকানরা সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় বিশ্বাস করে। তারা শিক্ষা বিভাগকে বন্ধ হয়ে যেতে দেখতে চায় না। যদি ট্রাম্প প্রশাসন শিক্ষায় কাটছাঁট চালিয়ে যায়, তাহলে স্কুলগুলো বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন হারাবে।’
তবে ট্রাম্প তার পরিকল্পনায় অটল। ম্যাকমাহনের মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পরই তিনি শিক্ষা বিভাগ বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, তিনি চান ম্যাকমাহন ‘নিজেকেই নিজে চাকুরিচ্যুত করুক’। ট্রাম্পের কথা মতো এখন ম্যাকমাহনকে শিক্ষা বিভাগ বন্ধ করে দিতে হবে।
১৯৭৯ সালে শিক্ষা বিভাগ গঠন করে কংগ্রেস। এই বিভাগের প্রাথমিক দায়িত্ব হলো দেশটির স্কুল-কলেজে অর্থ বিতরণ করা। প্রতিবছর কে-১২ স্কুলগুলোতে এই বিভাগ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাঠায় এবং ১.৬ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যমানের ফেডারেল শিক্ষার্থী ঋণ প্রক্রিয়ার দেখভাল করে। 
ট্রাম্পের যুক্তি, এই বিভাগটির দখল নিয়েছে উদারপন্থিরা, যারা আমেরিকার স্কুলগুলোর ওপর তাদের নিজস্ব ধ্যানধারণা চাপিয়ে দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় তিনি এই বিভাগ বন্ধের অঙ্গীকার করেন এবং জানান, তিনি এই বিভাগের হাতে থাকা ক্ষমতা রাজ্যগুলোর মাঝে বণ্টন করে দেবেন। 
শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে স্কুল ও রাজ্যে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের চেয়ে বেশি কর্তৃত্ব ভোগ করে থাকে। কেন্দ্রীয় সরকার পাঠ্যক্রমকে কোনোভাবেই প্রভাবিত করতে পারে না। কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ সরকারি স্কুলের বাজেটের প্রায় ১৪ শতাংশের জোগান দিয়ে থাকে।
ইতোমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন এই বিভাগের কার্যক্রমের সংস্কার শুরু করেছে। ট্রাম্পের উপদেষ্টা ইলন মাস্কের সরকারি কর্মদক্ষতা বিভাগ এরই মধ্যে ‘ওক’ ও ‘অপচয়’র তকমা দিয়ে এই বিভাগের কয়েক ডজন চুক্তি বাতিল করেছে। 
 
বৈজ্ঞানিক শিক্ষা ইনস্টিটিউট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, যারা দেশটির প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের তথ্য জোগাড় করে। পাশাপাশি, প্রশাসন এই বিভাগের অসংখ্য কর্মকর্তাকে বরখাস্ত বা সাময়িক বরখাস্ত করেছে। 
 
ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারির কথা বিবেচনা করছেন, যার মধ্যদিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে রক্ষণশীলদের দীর্ঘদিন একটি দাবি এবং নির্বাচনী প্রচারণায় দেয়া ট্রাম্পের একটি প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে।