০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo খড় কাপড়ে মোড়া এক নীরব পাহারাদার – কাকতাড়ুয়া Logo রিজার্ভ ফরেস্টে সড়ককাজে বন বিভাগের বাধা, স্থগিত নির্মাণ Logo বিবিসিএফ-এ স্থান পেলো জুড়ীর পরিবেশকর্মী খোর্শেদ আলম Logo দুবাইয়ে ইরানের ক্ষে’পণা’স্ত্র হামলায় বড়লেখার প্রবাসী সালেহ আহমদ নি’হ’ত Logo কুলাউড়া হাসপাতালে সুষ্ঠু সেবা প্রদানের স্বার্থে সব সংকট সমাধানে কাজ করবো: এমপি শওকতুল ইসলাম Logo পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরী Logo সিলেটে গারো পাড়ায় উচ্ছেদ শঙ্কা, সোচ্চার নাগরিক সমাজ Logo বাংলাদেশে খাড়িয়া ভাষার শেষ আশ্রয় দুই বোন Logo বড়লেখায় হাইটেক একাডেমির ৬ শিক্ষার্থীর ইবতেদায়ী বৃত্তি অর্জন Logo কুলাউড়ায় সাংসদ শওকতুল ইসলাম শকুকে নিয়ে মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

অর্ধেক-বিপ্লব: চূড়ান্ত নির্মূলের ম্যান্ডেট উপেক্ষার ফল

এম. আব্দুল্লাহ
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / 174
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—বিপ্লবের পর সবচেয়ে কঠিন ও সিদ্ধান্তমূলক সময় হলো পুরাতন ব্যবস্থাকে চূড়ান্তভাবে নির্মূল করার পর্ব। এই সময় প্রয়োজন হয় অফুরন্ত রক্তক্ষরণ, দৃঢ় সংকল্প ও আপোসহীন নেতৃত্বের। কারণ, বিপ্লবের সাফল্য কেবল শাসন পরিবর্তনে নয়; বরং পুরাতন ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিলুপ্তির মধ্য দিয়েই তার ভিত্তি স্থাপিত হয়।

‘জুলাইয়ের অভ্যুত্থান’ ছিল ঠিক এমন এক ঐতিহাসিক সুযোগ—জনতার হাতে আসা পবিত্র ম্যান্ডেট। কিন্তু যারা নেতৃত্বে এসেছিলেন, তারা ভুলে গেলেন বিপ্লবের মৌলিক সত্য: বিপ্লব অর্ধেক হয় না, এতে আপোসের কোনো স্থান নেই। অথচ বিপ্লবের পরে সবচেয়ে জরুরি দমন ও নির্মূলের প্রক্রিয়াটিই অবহেলিত রইল। এই উপেক্ষাই বিপ্লবের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের বীজ বপন করে।

ভ্লাদিমির লেনিন ও চে গুয়েভারা বিশ্বাস করতেন, বিপ্লবোত্তর দমন হলো নতুন রাষ্ট্রের ‘আশ্চর্য প্রসব বেদনা’। তাদের মতে, শ্রেণি-শত্রুরা কখনও স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়ে না; বরং তারা নতুন ব্যবস্থার অস্তিত্বের জন্য চিরস্থায়ী হুমকি হয়ে থাকে। লেনিনের ‘লাল সন্ত্রাস’ ঘোষণার পেছনে ছিল এই কঠোর বাস্তবতার স্বীকৃতি। চে গুয়েভারা আরও স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, “নিষ্ঠুর নেতাদের পতন চাইলে নতুন নেতৃত্বকেই নিষ্ঠুর হতে হবে।”

কিন্তু জুলাইয়ের তথাকথিত নেতারা এই শিক্ষা ভুলে গিয়ে বিপ্লবকে পরিণত করেছিলেন এক রাজনৈতিক সমঝোতায়। তারা ক্ষমতা ভাগাভাগি ও সাময়িক আসনের লোভে আপোসের পথ বেছে নেয়। যে বিপ্লবের প্রধান দাবি ছিল ‘পুরাতনকে চূড়ান্তভাবে নির্মূল করা’, সেটিকে তারা অর্ধেক অবস্থায় থামিয়ে দেয়। ফলস্বরূপ, বিপ্লবের অর্জন দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কটে নিমজ্জিত হয় এবং জনতার প্রত্যাশা রয়ে যায় অপূর্ণ।

এই অর্ধেক-বিপ্লবই আজ জাতির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে প্রধান অন্তরায়। কারণ বিপ্লবের উদ্দেশ্য যদি পূর্ণাঙ্গ রূপে বাস্তবায়িত না হয়, তবে তা নিজেই ধ্বংসের পথে যায়।

মুক্তির একমাত্র পথ হলো এই অর্ধেক বিপ্লবের ব্যর্থতা স্বীকার করা, ভুলগুলো সংশোধন করা এবং প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য ইস্পাত-কঠিন নেতৃত্ব ও আপোসহীন প্রতিজ্ঞায় ফিরে আসা। ইতিহাসের চাকা ঘোরানোর সুযোগ এখনও আছে—শুধু প্রয়োজন সাহসী সিদ্ধান্ত ও নতুন প্রতিজ্ঞার।

এম. আব্দুল্লাহ- সংগঠক ও অনলাইন এক্টিভিস্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

অর্ধেক-বিপ্লব: চূড়ান্ত নির্মূলের ম্যান্ডেট উপেক্ষার ফল

আপডেট সময় : ০৪:৫৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—বিপ্লবের পর সবচেয়ে কঠিন ও সিদ্ধান্তমূলক সময় হলো পুরাতন ব্যবস্থাকে চূড়ান্তভাবে নির্মূল করার পর্ব। এই সময় প্রয়োজন হয় অফুরন্ত রক্তক্ষরণ, দৃঢ় সংকল্প ও আপোসহীন নেতৃত্বের। কারণ, বিপ্লবের সাফল্য কেবল শাসন পরিবর্তনে নয়; বরং পুরাতন ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিলুপ্তির মধ্য দিয়েই তার ভিত্তি স্থাপিত হয়।

‘জুলাইয়ের অভ্যুত্থান’ ছিল ঠিক এমন এক ঐতিহাসিক সুযোগ—জনতার হাতে আসা পবিত্র ম্যান্ডেট। কিন্তু যারা নেতৃত্বে এসেছিলেন, তারা ভুলে গেলেন বিপ্লবের মৌলিক সত্য: বিপ্লব অর্ধেক হয় না, এতে আপোসের কোনো স্থান নেই। অথচ বিপ্লবের পরে সবচেয়ে জরুরি দমন ও নির্মূলের প্রক্রিয়াটিই অবহেলিত রইল। এই উপেক্ষাই বিপ্লবের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের বীজ বপন করে।

ভ্লাদিমির লেনিন ও চে গুয়েভারা বিশ্বাস করতেন, বিপ্লবোত্তর দমন হলো নতুন রাষ্ট্রের ‘আশ্চর্য প্রসব বেদনা’। তাদের মতে, শ্রেণি-শত্রুরা কখনও স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়ে না; বরং তারা নতুন ব্যবস্থার অস্তিত্বের জন্য চিরস্থায়ী হুমকি হয়ে থাকে। লেনিনের ‘লাল সন্ত্রাস’ ঘোষণার পেছনে ছিল এই কঠোর বাস্তবতার স্বীকৃতি। চে গুয়েভারা আরও স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, “নিষ্ঠুর নেতাদের পতন চাইলে নতুন নেতৃত্বকেই নিষ্ঠুর হতে হবে।”

কিন্তু জুলাইয়ের তথাকথিত নেতারা এই শিক্ষা ভুলে গিয়ে বিপ্লবকে পরিণত করেছিলেন এক রাজনৈতিক সমঝোতায়। তারা ক্ষমতা ভাগাভাগি ও সাময়িক আসনের লোভে আপোসের পথ বেছে নেয়। যে বিপ্লবের প্রধান দাবি ছিল ‘পুরাতনকে চূড়ান্তভাবে নির্মূল করা’, সেটিকে তারা অর্ধেক অবস্থায় থামিয়ে দেয়। ফলস্বরূপ, বিপ্লবের অর্জন দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কটে নিমজ্জিত হয় এবং জনতার প্রত্যাশা রয়ে যায় অপূর্ণ।

এই অর্ধেক-বিপ্লবই আজ জাতির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে প্রধান অন্তরায়। কারণ বিপ্লবের উদ্দেশ্য যদি পূর্ণাঙ্গ রূপে বাস্তবায়িত না হয়, তবে তা নিজেই ধ্বংসের পথে যায়।

মুক্তির একমাত্র পথ হলো এই অর্ধেক বিপ্লবের ব্যর্থতা স্বীকার করা, ভুলগুলো সংশোধন করা এবং প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য ইস্পাত-কঠিন নেতৃত্ব ও আপোসহীন প্রতিজ্ঞায় ফিরে আসা। ইতিহাসের চাকা ঘোরানোর সুযোগ এখনও আছে—শুধু প্রয়োজন সাহসী সিদ্ধান্ত ও নতুন প্রতিজ্ঞার।

এম. আব্দুল্লাহ- সংগঠক ও অনলাইন এক্টিভিস্ট