দার্জিলিং টিলার বাঁকে সাহসের পরীক্ষা
শেষ হলো ‘ইয়ামাহা চ্যাম্পিয়ন অব দ্য কার্ভস’ সিজন–২
- আপডেট সময় : ০২:২৬:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 174
শ্রীমঙ্গলের দার্জিলিং টিলা যেন দুই দিন ধরে পরিণত হয়েছিল সাহসের পরীক্ষায়। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে একের পর এক বাইকের গর্জন, ধুলোমাখা ট্র্যাকে রাইডারদের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ আর দর্শকদের উচ্ছ্বাস- সব মিলিয়ে এক অনন্য উৎসবের সাক্ষী হলো চা-জনপদের এই পাহাড়ি টিলা।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা দেড় হাজারের বেশি বাইকপ্রেমীর অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়েছে ‘ইয়ামাহা চ্যাম্পিয়ন অব দ্য কার্ভস–২০২৫’ সিজন–২। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়ে শনিবার (১২ ও ১৩ ডিসেম্বর) দুপুর পর্যন্ত চলা এই দুই দিনব্যাপী আয়োজনের দায়িত্বে ছিল সিলেট বাইকিং কমিউনিটি (এসবিসি)।
এবারের আসরে দেশের বিভিন্ন রাইডার্স ক্লাবের ১২০ জন রেসার প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে ২০ জন ছিলেন নারী রাইডার, যা দেশের বাইকিং অঙ্গনে নারী অংশগ্রহণের এক শক্তিশালী বার্তা বহন করে। প্রো-ট্র্যাক ও ইজি ট্র্যাকে গতি, ভারসাম্য ও দক্ষতার নিখুঁত সমন্বয় দর্শকদের মন জয় করে।
২০২৪ সালে ইয়ামাহা বাংলাদেশ ও এসিআই মটরসের সঙ্গে সিলেট বাইকিং কমিউনিটি এই ইভেন্টের যাত্রা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের আয়োজন ছিল আরও বড়, আরও পরিকল্পিত এবং আরও রোমাঞ্চকর। পাহাড়ের চূড়ায় তৈরি করা ট্র্যাক বাইকারদের জন্য ছিল এক কঠিন চ্যালেঞ্জ-যেখানে প্রতিটি বাঁকেই অপেক্ষা করছিল দক্ষতার পরীক্ষা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসিআই মটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই তরুণরা নিরাপদ, দায়িত্বশীল এবং আনন্দমুখর বাইকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হোক। ভবিষ্যতে এই আয়োজনকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’
সিলেট বাইকিং কমিউনিটির ফাউন্ডার এডমিন শহীদ জামান বলেন, ‘প্রকৃতির কোলে দাঁড়িয়ে এত বড় আয়োজন করা সহজ নয়। কিন্তু বাইকারদের ভালোবাসা আর ইয়ামাহা-এসিআই মটরসের সহযোগিতায় আমরা তা সম্ভব করেছি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লেডি বাইকারসহ দেড় হাজারের বেশি বাইকার এখানে এসেছেন, পুরো আয়োজন সারাদেশের বাইকারদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।’
নারী বাইকারদের প্রতিনিধিত্ব করে বক্তব্য দেন স্বপ্নিল সুলতানা, তিনি কুমিল্লা লেডি বাইকারস ট্রেনিং ক্লাবের ফাউন্ডার। স্বপ্নিল সুলতানা বলেন, ‘শখ থেকে শুরু, বাইকিং এনে দিয়ে খ্যাতি। এখানে এসে দেখছি, অনেক মেয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ট্র্যাকে অংশ নিচ্ছে-এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
ময়মনসিংহ মুসাফির বাইকার ক্লাবের কয়েকজন সদস্য জানান, ‘পাহাড়ের ওপর এমন ট্র্যাক, এমন আয়োজন আগে কখনো দেখিনি। শ্রীমঙ্গলের প্রকৃতি আর ট্র্যাক এক কথায় অসাধারণ।’
দিনভর রাইডিং আর প্রতিযোগিতার পর সন্ধ্যায় আয়োজনকে আরও রঙিন করে তোলে মণিপুরি নৃত্য ও স্থানীয় শিল্পীদের সংগীতানুষ্ঠান। আলো-ছায়ার এই উৎসব পাহাড়ের নির্জনতায় যোগ করে বাড়তি উষ্ণতা।
অনুষ্ঠানের শেষ দিনে ঘোষণা করা হয় বিজয়ীদের নাম।
প্রো-ট্র্যাকে চ্যাম্পিয়ন হন মিস্টার ৯৯, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন আরিফুল ইসলাম এবং তৃতীয় হন তাইজুল ইসলাম বাবু।ইজি ট্র্যাকে প্রথম হন মতিউর নিশান, দ্বিতীয় জরিপ মিয়া ও তৃতীয় দুলাল আহমেদ।

ফিমেল ক্যাটাগরির ইজি ট্র্যাকে প্রথম স্থান অর্জন করেন বৃষ্টি আক্তার, দ্বিতীয় সিন্তু জাহান ও তৃতীয় এ্যানি।
এছাড়া বিশেষ ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হন স্বপ্নিল সুলতানা।
গতি, সাহস আর সৌহার্দ্যের এই মিলনমেলা শেষ হলেও শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি পথে থেকে গেল বাইকারদের স্মৃতি আর আগামী আয়োজনের প্রতীক্ষা।










