০৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সিলেট প্রেসক্লাবে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন আহ্বান Logo তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর প্রথম গ্রেপ্তার ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর ৩ দিনের রিমান্ডে Logo ঢাকার প্রথম নারী ডিসি ফরিদা খানম Logo কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার আইনে ব্যবস্থা Logo বড়লেখায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থী ৩৮৩০, প্রথম দিনে অনুপস্থিত ২৫ জন Logo জুড়ীতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু Logo ১০০ কোটির মালিক, তবু যাতায়াত অটোয়, ভাইরাল মুম্বইয়ের ব্যবসায়ীর জীবনযাত্রার পোস্ট! Logo ফ্রান্সের অরলিয়ন্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত Logo ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে মৌলভীবাজারের যুবক নিহত Logo জামায়াত এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

মায়াময় ছায়া | ছবি: আফজাল হোসেন রুমেল

মায়াময় ছায়া | ছবি: আফজাল হোসেন রুমেল
বড়লেখার দক্ষিণ ভাগ এলাকা হতে তুলসী পাতার ছবিটি তুলেছেন আফজাল হোসেন রুমেল

সূর্যের কোমল আলোয় গাছের গায়ে তুলসী পাতার ছায়া- প্রকৃতির নিঃশব্দ সৌন্দর্যের এক মনোমুগ্ধকর ছোঁয়া।

তুলসী গাছ একটি অত্যন্ত পবিত্র গাছ। তুলসী পাতা ছাড়া শ্রীবিষ্ণুর পুজো হয় না। কথিত রয়েছে, যে বাড়িতে তুলসী গাছ থাকে, সেই বাড়িতে সব সময় নারায়ণের আশির্বাদ বজায় থাকে। হিন্দু বাড়িতে সকাল-সন্ধ্যা তুলসী গাছের পুজো করা হয়।

তুলসী গাছ প্রকৃতির একটি অসাধারণ দান যা বহু বছর ধরে মানবসভ্যতার উপকারে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তুলসী গাছ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত। এই উদ্ভিদটি শুধুমাত্র স্বাস্থ্যকর বৈশিষ্ট্যের জন্য নয় বরং ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক কারণে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। তুলসী গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Ocimum sanctum যা স্থানীয়ভাবে ‘হলি বেসিল’ নামেও পরিচিত।
বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় তুলসী গাছ প্রায় প্রতিটি বাড়ির উঠোনে দেখা যায়। এটি সহজে জন্মে এবং বিশেষ যত্ন ছাড়াই বৃদ্ধি পায়। তুলসী গাছের পাতা, শিকড় এবং বীজ ঔষধি কাজে ব্যবহৃত হয়। এতে থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান শ্বাসকষ্ট, সর্দি এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। শুধু তাই নয় এর আধ্যাত্মিক দিকটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে তুলসী গাছ পবিত্র মনে করা হয়।

তুলসি পাতার ব্যবহার বেশ পুরোনো। এই পাতায় আছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান। তুলসী পাতার অনেক উপকারিতা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, সর্দি-কাশি ও জ্বর উপশম এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করা। এটি হজমশক্তি বাড়াতে, মানসিক চাপ কমাতে ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করতে পারে।

তুলসী একটি ঔষধি গাছ। তুলসী গাছের পাতা, বীজ, বাকল ও শেকড় সবকিছুই অতি প্রয়োজনীয়। ঔষধিগুণের এই তুলসী বিভিন্ন রোগ সারাতে কাজ করে।

ফুসফুসের দুর্বলতা, কাশি, কুষ্ঠ, শ্বাসকষ্ট, সর্দিজ্বর, চর্মরোগ, বক্ষবেদনা ও হাঁপানি, হাম, বসন্ত, কৃমি, ঘামাচি, রক্তে চিনির পরিমাণ হ্রাস, কীটের দংশন, কানব্যথা, ব্রংকাইটিস, আমাশয় ও অজীর্ণে তুলসী দিয়ে তৈরি ওষুধ বিশেষভাবে কার্যকর।

মাথা ব্যথা ও শরীর ব্যথা কমাতে তুলসী খুবই উপকারী। এর বিশেষ উপাদান মাংসপেশির খিঁচুনি রোধ করতে সহায়তা করে।
ভিটামিন সি, ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস ও এসেন্সিয়াল অয়েলগুলো চমৎকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের হিসেবে কাজ করে। যা বয়সজনিত সমস্যাগুলো কমায়। তুলসী পাতাকে যৌবন চিরকাল ধরে রাখার টনিক ও মনে করেন কেউ কেউ।
তুলসী পাতার রস ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। তুলসী পাতা বেঁটে সারা মুখে লাগিয়ে রাখলে ত্বক সুন্দর ও মসৃণ হয়। এ ছাড়াও তিল তেলের মধ্যে তুলসী পাতা ফেলে হালকা গরম করে ত্বকে লাগালে ত্বকের যে কোন সমস্যায় বেশ উপকার পাওয়া যায়। এ ছাড়াও ত্বকের কোন অংশ পুড়ে গেলে তুলসীর রস এবং নারকেলের তেল ফেটিয়ে লাগালে জ্বালা কমবে এবং সেখানে কোন দাগ থাকবে না।
তুলসী গাছের ঔষধি-গুণাবলি সমৃদ্ধ গাছ। তুলসীকে নার্ভের টনিক বলা হয় এবং এটা স্মরণশক্তি বাড়ানোর জন্য বেশ উপকারী। এটি শ্বাসনালী থেকে শ্লেষ্মাঘটিত সমস্যা দূর করে। তুলসী পাতা পাকস্থলীর ও কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
তুলসী পাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি পান করুন। জ্বর ও ঠাণ্ডা লাগায় প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে; তুলসী পাতা বেটে তার সঙ্গে মধু ও আদা মিশিয়ে খান। জমে থাকা সর্দি থেকে মুক্তি পাবেন; তুলসী পাতা ও চন্দনের সঙ্গে বেটে কপালে লাগিয়ে দেখুন, মাথাব্যথা চলে যাবে; তুলসী পাতা বমিভাব কমাতে যথেষ্ট কার্যকর; তুলসীর মধ্যে আছে ময়েশ্চারাইজার। এর গুণে আপনার ত্বক থাকবে উজ্জ্বল।

নিয়মিত তুলসী পাতার রস সেবনে রোগ-বালাই থেকে অনেকটাই দূরে থাকা যায়। তাই, সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন অন্তত একটি করে তুলসী পাতা খাওয়া উচিৎ।

ছবি ও লেখা : আফজাল হোসেন রুমেল