ডানা মেলো ছোট্ট প্রাণ,
আকাশ তোমারই আহ্বান।
ভয় পেও না, আমি আছি,
ছায়ার মতো পাশে।
আকাশে ডানা মেলার আগে প্রতিটি পাখিরই থাকে এক বিশাল প্রস্তুতির গল্প। উঠোনের এক কোণে দাঁড়িয়ে মা কবুতর তার ছানাটিকে ডানা ঝাপটাতে শেখাচ্ছে। ছোট্টটি এখনো ঠিক উড়তে পারে না, কেবল ডানা মেলে নড়াচড়া করছে। পাশে দাঁড়িয়ে সতর্ক দৃষ্টিতে মায়ের উপস্থিতি, এ যেন এক অদৃশ্য ছায়া, এক অটুট নিরাপত্তার আশ্রয়।
মায়ের দায়িত্ব শুধু খাদ্য জোগানোতেই সীমাবদ্ধ নয়। বাচ্চা ডানা মেলার প্রথম মুহূর্তেই মা তাকে শেখায় সাহস, শিখিয়ে দেয় কিভাবে ভয়ের সঙ্গে লড়তে হয়। চারপাশে যতই হুমকি থাকুক না কেন, সন্তান যখন প্রথম উড়ার চেষ্টা করে, মা দাঁড়িয়ে থাকে অটল প্রহরীর মতো। এই দৃশ্য কেবল পাখির জগতে নয়, মানুষের জীবনেরও প্রতিচ্ছবি।
মানুষের সন্তান যেমন হেঁটে শেখার সময় বারবার পড়ে যায়, আবার উঠে দাঁড়ায়, ঠিক তেমনি বাচ্চা কবুতরও উড়তে শেখার আগে মাটিতেই বারবার ডানা ঝাপটায়। আর প্রতিবারই মায়ের চোখ থাকে তার ওপর। যদি হঠাৎ কোনো বিড়াল আক্রমণ করে, কিংবা বাতাসে ঝাপটা আসে। সন্তানকে আড়াল করতে মায়ের ডানাই হয়ে ওঠে তার প্রথম রক্ষাকবচ।
এই দৃশ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মায়ের ভালোবাসা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তি। মা কখনো সন্তানের আগে উড়ে যায় না, আবার পিছনেও পড়ে থাকে না। সে থাকে একেবারে পাশে যেন বলছে, তুমি চেষ্টা করো, আমি আছি। পড়ে গেলে ধরব, ভয় পেলে সাহস দেব।
শুধু কবুতরের বাচ্চা নয়, প্রতিটি সন্তানই এমন নিরাপত্তার ছায়াতেই বড় হয়ে ওঠে। প্রথম উড়ান, প্রথম পদক্ষেপ কিংবা প্রথম শব্দ উচ্চারণ। সবকিছুর পেছনেই থাকে এক নিঃস্বার্থ, নিরলস পাহারা।
উড়তে শেখা সন্তানের পাহারায় মা। এ দৃশ্য শুধু প্রকৃতির এক মুহূর্ত নয়, বরং ভালোবাসা, সাহস আর দায়িত্ববোধের চিরন্তন প্রতীক।
লেখা ও ছবিঃ এমরান আহমদ
