জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
- আপডেট সময় : ০৬:০২:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 58
সাম্য, দ্রোহ ও মানবতার অমর কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট)। বাংলা ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রতিবছরের মতো এবারও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে বাংলা সাহিত্যের এই মহান কবিকে।
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতিভার নাম। ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছোটবেলায় তার ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। দারিদ্র্য ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা নজরুল অল্প বয়সেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন।
মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল সাহিত্যজীবনে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধসহ সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় তার বিচরণ ছিল। তার সৃষ্টিকর্ম বাংলা সাহিত্যকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।
নজরুলের কবিতা ও গান অন্যায়, শোষণ, বৈষম্য ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিল। তার বিখ্যাত বিদ্রোহী চেতনা যুগে যুগে মানুষকে মুক্তি, সাম্য ও মানবতার পথে অনুপ্রাণিত করেছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও তার সাহিত্যকর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুল ইসলামকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। এ সময় তাকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে নাগরিকত্ব প্রদান করে। একই বছর তাকে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১২ ভাদ্র সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমবেত হবেন। পরে শোভাযাত্রা সহকারে কবির সমাধিতে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করা হবে। এরপর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, কাজী নজরুল ইসলামের ২৩ বছরের সাহিত্যজীবনের সৃষ্টি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে মর্যাদার উচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও সংগীতজ্ঞ।
তিনি বলেন, নজরুলের সাহিত্যজুড়ে মানবতা, সাম্য ও ন্যায়ের বার্তা উচ্চকিত ছিল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার সাহসী উচ্চারণ এবং শোষিত মানুষের মুক্তির আহ্বান তাকে চিরকালীন দ্রোহের প্রতীকে পরিণত করেছে। ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধেও তার কবিতা ও গান জনগণকে আন্দোলিত করেছিল, যার কারণে তাকে কারাবরণও করতে হয়েছিল।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আজও বাঙালির চেতনা, সংগ্রাম ও মানবিক মূল্যবোধের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার সৃষ্টি আগামী প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও সাম্যের পথে অনুপ্রেরণা জোগাবে।














