শ্রীমঙ্গলে প্রবাসীর বাসায় আগুন, পুড়ে ছাই দুই ঘর
- আপডেট সময় : ০৭:১৩:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 126
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কলেজ রোডের বিরামপুর আবাসিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতবাড়ির দুইটি ঘর ও ঘরের ভেতরে থাকা মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে প্রবাসী কামরুল হাসান জুয়েলের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ১০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই আগুনে দুইটি ঘর ও ঘরের ভেতরে থাকা ফ্রিজসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়।
বাড়ির কেয়ারটেকার রিপন মিয়া বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। শুক্রবার ভোরে পাশের বাসার রহিম নামে এক ব্যক্তি ফোন করে বাড়িতে আগুন লাগার খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে এসে তিনি দেখতে পান, ঘরের ভেতরে থাকা অধিকাংশ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
রিপন মিয়া আরও বলেন, ‘আমার ধারণা, মালিকের সঙ্গে পূর্বশত্রুতার জেরে কেউ এই বাড়িতে আগুন দিয়ে থাকতে পারে। এর আগে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল।’
প্রত্যক্ষদর্শী জুবেদ মিয়া বলেন, ‘রাত ২টার দিকে ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরে মানুষের চিৎকার শুনে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি কামরুল হাসান জুয়েলের বাড়িতে আগুন জ্বলছে। আগুন এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ঘরের ভেতর থেকে ফ্রিজসহ কোনো মালামাল বের করা সম্ভব হয়নি।’
তিনি বলেন, আগুনের ধোঁয়া দেখে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। চোখের সামনে সবকিছু পুড়ে গেলেও কোনো মালামাল উদ্ধার করতে পারেননি।
শ্রীমঙ্গল থানার এসআই মো. সজীব বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিদর্শক সোলাইমান আহমদ বলেন, ‘আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ১০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুন লাগার কারণ এখনো জানা যায়নি।’
তিনি আরও জানান, বাড়ির মালিক প্রবাসে থাকেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।













