ভূকশিমইলে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় তরুণ সমাজসেবক রাজন
- আপডেট সময় : ০৩:১৯:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
- / 86
কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, তরুণ সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ সিরাজুল ইসলাম রাজনের সমর্থনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে ভূকশিমইল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত সিরাজ উদ্দিন আহমদ বাদশার বাড়িতে ‘ঐক্যবদ্ধ ভূকশিমইলবাসী’র উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
মতবিনিময় সভায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সিরাজুল ইসলাম রাজন ভূকশিমইল ইউনিয়নকে উন্নত, শিক্ষাবান্ধব, আধুনিক ও মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘ইউনিয়নবাসীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে একটি উন্নত ও আদর্শ মডেল ইউনিয়ন গড়ে তুলতে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাব। এলাকার মানুষের উন্নয়নে কাজ করার অনুপ্রেরণা আমি সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম সিরাজ উদ্দিন আহমদ বাদশার কাছ থেকে পেয়েছি।’
রাজন বলেন, ‘আমার কাছে দল-মত নির্বিশেষে সবাই সমান। আমি আপনাদের ভালোবাসার কাছে চিরঋণী। এলাকার মানুষের খেদমত করার জন্য আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমার রাজনীতি ব্যক্তিস্বার্থের জন্য নয়, মানুষের জন্য। আমৃত্যু এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।’
নিজেকে জনপ্রতিনিধির পরিবর্তে জনগণের সেবক হিসেবে দেখতে চান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতি করি মানুষের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য। আমি জনপ্রতিনিধি হতে আসিনি, আপনাদের খেদমত করতে এসেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে কুলাউড়ার সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম কুলাউড়ার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমিও তাঁর সহযোগিতায় আমার ইউনিয়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছি। এলাকার উন্নয়নের জন্য তাঁর কাছে যখন যে দাবি জানিয়েছি, তিনি তা পূরণ করেছেন।’
নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড তুলে ধরে রাজন বলেন, ‘আমি বিএনপির একজন ক্ষুদ্র কর্মী। দলের জন্য অনেক হামলা-মামলার শিকার হয়েছি, এমনকি কারাবরণও করেছি। স্থানীয় নির্বাচনে শুধু একটি দলের ভোটে নির্বাচিত হওয়া যায় না; সব দল ও মতের মানুষের সমর্থন প্রয়োজন। বিগত দিনের আন্দোলনে আমার ভূমিকা বিবেচনা করে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে আশা করছি।’
তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন এই ইউনিয়নের একজন খাদিম হওয়া। এলাকার সর্বস্তরের মানুষ যদি আমাকে তাঁদের পাহারাদার নির্বাচিত করেন, তাহলে সবার সহযোগিতায় আমি সেই দায়িত্ব পালন করব। আমি পাহারাদার নির্বাচিত হলে আপনারা দরজা খুলে শান্তিতে ঘুমাবেন, আমি ইউনিয়নকে পাহারা দেব। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমার দ্বারা এলাকার মানুষের কোনো ক্ষতি হবে না।’
৫ আগস্টের পর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নানা প্রয়োজনে তাঁর কাছে গেলে সাধ্যমতো সহযোগিতার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেন রাজন।
সমাজসেবক আব্দুর রফিকের সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাঈদ হোসেন আফজলের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন স্পেন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রমিজ উদ্দিন, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মুক্তার, সমাজসেবক মাসুক মিয়া, মানিক মিয়া, আব্দুল আহাদ, লেবু মিয়া, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আলী, বিএনপি নেতা মানিক মিয়া, ছমছ উদ্দিন, রহম আলী, আকুল মিয়া, ইউনিয়ন আল-ইসলাহ সভাপতি আকমল হোসেন, ইউপি সদস্য শেখ জিয়াউর রহমান মিন্টু ও আমির হোসেন।
এ ছাড়া এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য দেন খায়রুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, আকমল হোসেন, জানু মিয়া, বাতির মিয়া, সাইস্তা মিয়া, আজন মিয়া, তৈমুছ আলী, ফয়াজ আহমদ, চক মসজিদের ইমাম বাতির আলী, জেবুল আহমদ, আছকির মিয়া, কয়েছ আহমদ বটলাই, রমাকান্ত বিশ্বাস ও গুড়াই দাসসহ অনেকে।
উল্লেখ্য, সিরাজুল ইসলাম রাজন বর্তমানে পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক এবং পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
















