অনিন্দ্য-৬৪-এর কাছে ১–০ গোলে হারল অনিরুদ্ধ-৬১
এমসি কলেজে ইকোনমিক্স ক্লাবের আন্তঃব্যাচ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ০৯:২৭:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 457
মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের ইকোনমিক্স ক্লাব আয়োজিত আন্তঃব্যাচ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) কলেজের মূল মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় অনিরুদ্ধ-৬১ ব্যাচকে ১–০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে অনিন্দ্য-৬৪ ব্যাচ।
টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে মুখর হয়ে ওঠে কলেজ মাঠ। শেষ পর্যন্ত একটি মাত্র গোলের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে শিরোপা ঘরে তোলে অনিন্দ্য-৬৪।
এবারের প্রতিযোগিতায় ছেলেদের ফুটবলের পাশাপাশি মেয়েদের জন্য লুডু, ক্যারাম, দাবা ও মার্বেল খেলাসহ বিভিন্ন ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রতিটি আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
লুডু প্রতিযোগিতায় ৬৫ ব্যাচের সুমাইয়া আক্তার সাদিয়া ও আনিকা আনজুম নীলা চ্যাম্পিয়ন হন। রানার্সআপ হন ৬২ ব্যাচের তানজিনা আক্তার ও জাকিয়া মাহি। ক্যারামে ৬২ ব্যাচের নিরুপমা সাহা ও লাকি শেখ বিজয়ী এবং ৬০ ব্যাচের রূপা আক্তার ও সালমা তালুকদার রানার্সআপ হন। দাবায় ৬২ ব্যাচের সাদিয়া ফেরদৌস চ্যাম্পিয়ন এবং ৬৪ ব্যাচের লিজা আক্তার রানার্সআপ হন। অন্যদিকে, মার্বেল খেলায় ৬৫ ব্যাচের মালিহা আক্তার ও তানিয়া বিজয়ী হন।
টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য কয়েকজন খেলোয়াড়কে ব্যক্তিগত পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়। ছেলেদের ফুটবলে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট নির্বাচিত হন দুর্জয় রয়। পুরো প্রতিযোগিতায় দারুণ গোলকিপিংয়ের জন্য সেরা গোলকিপারের পুরস্কার পান সায়েম আহমেদ। ফাইনালে চমৎকার পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন মুসলিম উদ্দীন। এছাড়া সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে বেস্ট গোলস্কোরারের পুরস্কার লাভ করেন ঝুমন আহমেদ।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুরারিচাঁদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহাম্মদ তোফায়েল আহমদ। বক্তব্যে তিনি ইকোনমিক্স ক্লাবের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, “ইকোনমিক্স ক্লাব মুরারিচাঁদ কলেজের অন্যতম সমৃদ্ধ ক্লাব।” সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে যেভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তা প্রশংসনীয়।
তিনি আরও বলেন, একটি সংগঠনের সফলতা শুধু অবকাঠামোগত সুবিধার ওপর নির্ভর করে না; বরং শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ, নেতৃত্ব ও সক্রিয় অংশগ্রহণই একটি ক্লাবকে সমৃদ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রচেষ্টায় যখন ইতিবাচক ও সৃজনশীল কাজ করে, তখন তা শিক্ষকদের জন্যও গর্বের বিষয় হয়ে ওঠে। খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, দলীয় চেতনা, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় সহকারী অধ্যাপক নিকসন দাশ বক্তব্য দেন এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষকবৃন্দসহ বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মেহেদী হাসান জাকারিয়া। অনুষ্ঠান শেষে দায়িত্ব পালনের জন্য ৬২ ও ৬০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানানো হয়। বিশেষভাবে ৬২ ব্যাচের আব্দুল জলিল, নাইম আহমেদ, তনুশ্রী দে ও শ্রুতি ঘোষের অবদানের প্রশংসা করা হয়।
ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণীকে ঘিরে দিনব্যাপী কলেজের মূল মাঠে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন, সম্প্রীতি ও দলীয় চেতনা আরও শক্তিশালী করেছে।















