০১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চলন্ত ট্রেনে যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ Logo গ্রীনহিল স্টেট কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিলেন মো. নিয়াজ উদ্দীন Logo হারিয়ে যায়নি চিঠি, বদলেছে শুধু রূপ : মাটির ফলক থেকে ডিজিটাল ইনবক্স Logo দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল নজরদারি বাড়াবে বিজিবি, তৈরি হবে নিজস্ব ড্রোন সক্ষমতা- সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo অ্যান্টিবায়োটিক সংকট: ওষুধহীন অন্ধকার যুগের পথে মানবসভ্যতা Logo এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার ফাতিমা Logo প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং মেলা ২০২৬ শুরু, উদ্বোধন হলো বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন Logo গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছে বিএনপি Logo সিলেটে মানবাধিকারকর্মী মিনহাজ সামাদ চৌধুরী নিখোঁজ Logo বড়লেখায় বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

জলের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া: বন্ধুদের সঙ্গে টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ

জামিউল হাসান আরাফ
  • আপডেট সময় : ১০:৩১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 178
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভ্রমণের কথা উঠলেই মন ছুটে যায় নতুন কোনো গন্তব্যের খোঁজে। ব্যস্ত নগরজীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটানোর আনন্দই যেন আলাদা। সেই আনন্দের খোঁজেই কয়েকজন বন্ধু মিলে সিলেট থেকে একটি ট্যুরিস্ট গ্রুপের সঙ্গে রওনা হয়েছিলাম সুনামগঞ্জের অপরূপ সৌন্দর্যের টাঙ্গুয়ার হাওরের উদ্দেশে।

সকালের সিলেট শহর থেকে শুরু হয় আমাদের যাত্রা। বাসের জানালা দিয়ে পথের দুই পাশের সবুজ প্রকৃতি দেখতে দেখতে, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প-আড্ডায় কখন যে সুনামগঞ্জের পথ শেষ হয়ে গেল, তা টেরই পাইনি। এরপর ঘাটে পৌঁছে নৌকায় উঠতেই মনে হলো, এবার শুরু হলো ভ্রমণের আসল অধ্যায়।

নৌকা ধীরে ধীরে ঘাট ছেড়ে হাওরের বুক চিরে এগিয়ে যেতে লাগল। কিছুদূর যেতেই বদলে গেল চারপাশের দৃশ্য। যতদূর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। বর্ষার মৌসুমে টাঙ্গুয়ার হাওর যেন পরিণত হয় এক বিশাল জলরাজ্যে। নীল জলরাশি, খোলা আকাশ আর দূরের পাহাড় মিলিয়ে তৈরি হয় এক মুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ।

নৌকার ছাদে বসে ঠান্ডা বাতাস উপভোগ করতে করতে মনে হচ্ছিল, শহরের ব্যস্ততা থেকে আমরা যেন অনেক দূরের কোনো শান্ত পৃথিবীতে চলে এসেছি। কখনো ছবি তুলেছি, কখনো ভিডিও করেছি, আবার কখনো শুধু নীরবে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেছি।

দূরে দেখা যাচ্ছিল মেঘালয়ের পাহাড়ের সারি। নীল আকাশের নিচে সাদা মেঘ আর বিস্তীর্ণ জলরাশির মিলন দৃশ্যটি ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্যামেরার ফ্রেমে এই সৌন্দর্য ধরে রাখার চেষ্টা করলেও প্রকৃতির সেই মুগ্ধতা পুরোপুরি প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছিল না।

ভ্রমণের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল নৌকার ওপর বসে বন্ধুদের সঙ্গে খাবার খাওয়া। চারদিকে বিশাল হাওর, মাঝখানে আমাদের ছোট্ট নৌকা আর সেখানে বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে খাবারের আয়োজন-এই অভিজ্ঞতা ছিল একেবারেই অন্যরকম।

খাবারের সঙ্গে চলছিল গল্প, হাসি আর আনন্দের মুহূর্ত। শহরের কোনো রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়ার চেয়ে হাওরের মাঝখানে নৌকায় বসে খাওয়ার অনুভূতিতে ছিল আলাদা এক প্রশান্তি।

খাওয়া শেষে আবার শুরু হয় আড্ডা। কেউ ব্যস্ত ছবি তুলতে, কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে মেতে ওঠে হাসি-ঠাট্টায়। মুহূর্তগুলো এত দ্রুত কেটে যাচ্ছিল যে সময়ের হিসাব রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

এরপর আমরা যাই ওয়াচ টাওয়ারে। উঁচু স্থান থেকে যখন চারপাশে চোখ মেললাম, তখন টাঙ্গুয়ার হাওরের সৌন্দর্য যেন নতুন রূপে ধরা দিল। নিচে বিস্তীর্ণ জলরাশি, মাঝেমধ্যে ভেসে থাকা ছোট ছোট নৌকা, সবুজের সমারোহ আর দূরের পাহাড়-সব মিলিয়ে এক অসাধারণ দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছিল।

প্রকৃতির এই বিশালতার সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ নিজের অজান্তেই শান্ত হয়ে যায়। মনে হয়, ব্যস্ত জীবনের সব ক্লান্তি যেন মুহূর্তেই দূর হয়ে গেছে।

তবে ভ্রমণের সবচেয়ে আনন্দঘন সময় ছিল হাওরের পানিতে নেমে সাঁতার ও জলকেলিতে মেতে ওঠা। বন্ধুদের সঙ্গে পানিতে নেমে শুরু হয় হাসি, দুষ্টুমি আর আনন্দের প্রতিযোগিতা। কে কাকে বেশি পানি ছিটাবে, কে বেশি সময় পানিতে থাকবে-এসব নিয়েই কাটে বেশ কিছু আনন্দময় মুহূর্ত।

সেই সময় মনে হচ্ছিল, আমরা যেন শহরের মানুষ নই; বরং এই হাওরের প্রকৃতিরই একটি অংশ হয়ে গেছি।

টাঙ্গুয়ার হাওরের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে দূরের মেঘালয়ের পাহাড়। একদিকে বিস্তীর্ণ জলরাশি, অন্যদিকে পাহাড়ের সারি-মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের মনে হচ্ছিল, প্রকৃতি যেন অত্যন্ত যত্নে সাজিয়েছে এই অপরূপ দৃশ্যপট।

একসময় ফেরার সময় হয়ে এলো। নৌকা আবার ঘাটের দিকে ফিরতে শুরু করল। বিকেলের নরম আলো পানির ওপর পড়ে তৈরি করছিল অন্যরকম এক সৌন্দর্য। কেউ দিনের তোলা ছবি দেখছিল, কেউ আবার সারাদিনের স্মৃতিগুলো মনে করছিল।

সকালে সিলেট থেকে শুরু হওয়া সেই ছোট্ট যাত্রার সমাপ্তি হলো ক্লান্ত শরীর, অসংখ্য ছবি এবং তার চেয়েও বেশি সুন্দর কিছু স্মৃতি নিয়ে।

টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়; এটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমিগুলোর একটি। জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং হাওরপারের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে এই এলাকার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

আমাদের এই ভ্রমণ তাই শুধু ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা ছিল না, বরং ছিল প্রকৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করা, বন্ধুদের সঙ্গে কিছু মূল্যবান সময় কাটানো এবং ব্যস্ত জীবনের বাইরে গিয়ে মুক্ত বাতাসে নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করার এক সুযোগ।

সিলেট থেকে শুরু হওয়া সেই যাত্রা আমাদের নিয়ে গিয়েছিল এক বিশাল জলরাজ্যে। টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে ফিরে এসেছি ঠিকই, কিন্তু নীল জলরাশি, দূরের পাহাড়, নৌকার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো আনন্দময় মুহূর্তগুলো এখনো স্মৃতির পাতায় জীবন্ত হয়ে আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জলের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া: বন্ধুদের সঙ্গে টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ

আপডেট সময় : ১০:৩১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ভ্রমণের কথা উঠলেই মন ছুটে যায় নতুন কোনো গন্তব্যের খোঁজে। ব্যস্ত নগরজীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটানোর আনন্দই যেন আলাদা। সেই আনন্দের খোঁজেই কয়েকজন বন্ধু মিলে সিলেট থেকে একটি ট্যুরিস্ট গ্রুপের সঙ্গে রওনা হয়েছিলাম সুনামগঞ্জের অপরূপ সৌন্দর্যের টাঙ্গুয়ার হাওরের উদ্দেশে।

সকালের সিলেট শহর থেকে শুরু হয় আমাদের যাত্রা। বাসের জানালা দিয়ে পথের দুই পাশের সবুজ প্রকৃতি দেখতে দেখতে, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প-আড্ডায় কখন যে সুনামগঞ্জের পথ শেষ হয়ে গেল, তা টেরই পাইনি। এরপর ঘাটে পৌঁছে নৌকায় উঠতেই মনে হলো, এবার শুরু হলো ভ্রমণের আসল অধ্যায়।

নৌকা ধীরে ধীরে ঘাট ছেড়ে হাওরের বুক চিরে এগিয়ে যেতে লাগল। কিছুদূর যেতেই বদলে গেল চারপাশের দৃশ্য। যতদূর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। বর্ষার মৌসুমে টাঙ্গুয়ার হাওর যেন পরিণত হয় এক বিশাল জলরাজ্যে। নীল জলরাশি, খোলা আকাশ আর দূরের পাহাড় মিলিয়ে তৈরি হয় এক মুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ।

নৌকার ছাদে বসে ঠান্ডা বাতাস উপভোগ করতে করতে মনে হচ্ছিল, শহরের ব্যস্ততা থেকে আমরা যেন অনেক দূরের কোনো শান্ত পৃথিবীতে চলে এসেছি। কখনো ছবি তুলেছি, কখনো ভিডিও করেছি, আবার কখনো শুধু নীরবে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেছি।

দূরে দেখা যাচ্ছিল মেঘালয়ের পাহাড়ের সারি। নীল আকাশের নিচে সাদা মেঘ আর বিস্তীর্ণ জলরাশির মিলন দৃশ্যটি ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্যামেরার ফ্রেমে এই সৌন্দর্য ধরে রাখার চেষ্টা করলেও প্রকৃতির সেই মুগ্ধতা পুরোপুরি প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছিল না।

ভ্রমণের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল নৌকার ওপর বসে বন্ধুদের সঙ্গে খাবার খাওয়া। চারদিকে বিশাল হাওর, মাঝখানে আমাদের ছোট্ট নৌকা আর সেখানে বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে খাবারের আয়োজন-এই অভিজ্ঞতা ছিল একেবারেই অন্যরকম।

খাবারের সঙ্গে চলছিল গল্প, হাসি আর আনন্দের মুহূর্ত। শহরের কোনো রেস্টুরেন্টে বসে খাওয়ার চেয়ে হাওরের মাঝখানে নৌকায় বসে খাওয়ার অনুভূতিতে ছিল আলাদা এক প্রশান্তি।

খাওয়া শেষে আবার শুরু হয় আড্ডা। কেউ ব্যস্ত ছবি তুলতে, কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে মেতে ওঠে হাসি-ঠাট্টায়। মুহূর্তগুলো এত দ্রুত কেটে যাচ্ছিল যে সময়ের হিসাব রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

এরপর আমরা যাই ওয়াচ টাওয়ারে। উঁচু স্থান থেকে যখন চারপাশে চোখ মেললাম, তখন টাঙ্গুয়ার হাওরের সৌন্দর্য যেন নতুন রূপে ধরা দিল। নিচে বিস্তীর্ণ জলরাশি, মাঝেমধ্যে ভেসে থাকা ছোট ছোট নৌকা, সবুজের সমারোহ আর দূরের পাহাড়-সব মিলিয়ে এক অসাধারণ দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছিল।

প্রকৃতির এই বিশালতার সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ নিজের অজান্তেই শান্ত হয়ে যায়। মনে হয়, ব্যস্ত জীবনের সব ক্লান্তি যেন মুহূর্তেই দূর হয়ে গেছে।

তবে ভ্রমণের সবচেয়ে আনন্দঘন সময় ছিল হাওরের পানিতে নেমে সাঁতার ও জলকেলিতে মেতে ওঠা। বন্ধুদের সঙ্গে পানিতে নেমে শুরু হয় হাসি, দুষ্টুমি আর আনন্দের প্রতিযোগিতা। কে কাকে বেশি পানি ছিটাবে, কে বেশি সময় পানিতে থাকবে-এসব নিয়েই কাটে বেশ কিছু আনন্দময় মুহূর্ত।

সেই সময় মনে হচ্ছিল, আমরা যেন শহরের মানুষ নই; বরং এই হাওরের প্রকৃতিরই একটি অংশ হয়ে গেছি।

টাঙ্গুয়ার হাওরের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে দূরের মেঘালয়ের পাহাড়। একদিকে বিস্তীর্ণ জলরাশি, অন্যদিকে পাহাড়ের সারি-মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের মনে হচ্ছিল, প্রকৃতি যেন অত্যন্ত যত্নে সাজিয়েছে এই অপরূপ দৃশ্যপট।

একসময় ফেরার সময় হয়ে এলো। নৌকা আবার ঘাটের দিকে ফিরতে শুরু করল। বিকেলের নরম আলো পানির ওপর পড়ে তৈরি করছিল অন্যরকম এক সৌন্দর্য। কেউ দিনের তোলা ছবি দেখছিল, কেউ আবার সারাদিনের স্মৃতিগুলো মনে করছিল।

সকালে সিলেট থেকে শুরু হওয়া সেই ছোট্ট যাত্রার সমাপ্তি হলো ক্লান্ত শরীর, অসংখ্য ছবি এবং তার চেয়েও বেশি সুন্দর কিছু স্মৃতি নিয়ে।

টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়; এটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমিগুলোর একটি। জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং হাওরপারের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে এই এলাকার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

আমাদের এই ভ্রমণ তাই শুধু ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা ছিল না, বরং ছিল প্রকৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করা, বন্ধুদের সঙ্গে কিছু মূল্যবান সময় কাটানো এবং ব্যস্ত জীবনের বাইরে গিয়ে মুক্ত বাতাসে নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করার এক সুযোগ।

সিলেট থেকে শুরু হওয়া সেই যাত্রা আমাদের নিয়ে গিয়েছিল এক বিশাল জলরাজ্যে। টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে ফিরে এসেছি ঠিকই, কিন্তু নীল জলরাশি, দূরের পাহাড়, নৌকার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো আনন্দময় মুহূর্তগুলো এখনো স্মৃতির পাতায় জীবন্ত হয়ে আছে।