০২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চলন্ত ট্রেনে যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ Logo গ্রীনহিল স্টেট কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিলেন মো. নিয়াজ উদ্দীন Logo হারিয়ে যায়নি চিঠি, বদলেছে শুধু রূপ : মাটির ফলক থেকে ডিজিটাল ইনবক্স Logo দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল নজরদারি বাড়াবে বিজিবি, তৈরি হবে নিজস্ব ড্রোন সক্ষমতা- সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo অ্যান্টিবায়োটিক সংকট: ওষুধহীন অন্ধকার যুগের পথে মানবসভ্যতা Logo এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার ফাতিমা Logo প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং মেলা ২০২৬ শুরু, উদ্বোধন হলো বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন Logo গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছে বিএনপি Logo সিলেটে মানবাধিকারকর্মী মিনহাজ সামাদ চৌধুরী নিখোঁজ Logo বড়লেখায় বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

৪০ স্টলে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির নানা প্রকল্প

উদ্ভাবনের মঞ্চে স্কলার্সহোমের শিক্ষার্থীরা

ক‍্যাম্পাস কন্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:১৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 141
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সিলেটে স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলায় কলেজের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ৪০টি স্টলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক নানা প্রকল্প, মডেল ও গবেষণাধর্মী কার্যক্রম প্রদর্শন করে। সমাপনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশে বিজ্ঞান মেলার মতো আয়োজন আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্কলার্সহোমের একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর জয়নুল আবেদীন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক। উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শাখার উপাধ্যক্ষ নাহিদা খানসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

স্বাগত বক্তব্যে বিজ্ঞান মেলা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রভাষক হাসান শাহরিয়ার মজুমদার মেলার উদ্দেশ্য ও আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর ও রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রভাষক শাখায়াত হোসেন বলেন, পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করা এবং তাদের সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটানোই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর জয়নুল আবেদীন চৌধুরী বলেন, “বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়তে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটাতে হবে।” বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটানো জরুরি।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে হবে। বিজ্ঞান মেলার মতো আয়োজন তাদের নতুন কিছু ভাবা, তৈরি করা এবং নিজেদের উদ্ভাবন অন্যদের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ করে দেয়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা নিজেদের আরও দক্ষ করে তুলতে পারবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক বলেন, “স্মার্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বায়নের যুগে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও বিজ্ঞানমনস্কতা অর্জন করতে হবে। উন্নত বাংলাদেশ গড়তে বিজ্ঞানের ইতিবাচক চর্চা আরও বাড়াতে হবে। স্কলার্সহোম সেই লক্ষ্যেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, যুক্তিবোধ, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটানো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।

মেলায় কলেজের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তিনটি গ্রুপে অংশ নেয়। ৪০টি স্টলে প্রদর্শিত প্রকল্পের মধ্যে ছিল স্মার্ট কৃষি, অগ্নিনির্বাপণ প্রযুক্তি, সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ, রোবোটিক্স, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন সময়োপযোগী উদ্ভাবন।

শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি মডেলের কার্যপ্রণালি, প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে অতিথি, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরে। বিভিন্ন স্টল ঘুরে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের প্রকল্প সম্পর্কে জানতে চান এবং তাদের সৃজনশীল প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।

বিজয়ী যারা

মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক।

জুনিয়র গ্রুপে প্রথম হয় ‘LPG Gas Detecting System’। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে ‘Producing Electricity by Footsteps’ এবং ‘Automatic Rain Detector Protect Shield’।

ইন্টারমিডিয়েট গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করে ‘Balanced Dome’। দ্বিতীয় হয় ‘Industrial Air Pollution Control Model’ এবং তৃতীয় হয় ‘Glasses for Blind People’।

সিনিয়র গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করে ‘Piezo-Electric Floor Technology’। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে ‘Electricity Production from Waste Material’ এবং ‘ShadowBot’।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, যুক্তিবোধ, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক জ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার করে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

৪০ স্টলে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির নানা প্রকল্প

উদ্ভাবনের মঞ্চে স্কলার্সহোমের শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ১০:১৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সিলেটে স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলায় কলেজের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ৪০টি স্টলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক নানা প্রকল্প, মডেল ও গবেষণাধর্মী কার্যক্রম প্রদর্শন করে। সমাপনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশে বিজ্ঞান মেলার মতো আয়োজন আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্কলার্সহোমের একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর জয়নুল আবেদীন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক। উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শাখার উপাধ্যক্ষ নাহিদা খানসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

স্বাগত বক্তব্যে বিজ্ঞান মেলা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রভাষক হাসান শাহরিয়ার মজুমদার মেলার উদ্দেশ্য ও আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর ও রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রভাষক শাখায়াত হোসেন বলেন, পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করা এবং তাদের সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটানোই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর জয়নুল আবেদীন চৌধুরী বলেন, “বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়তে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটাতে হবে।” বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটানো জরুরি।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে হবে। বিজ্ঞান মেলার মতো আয়োজন তাদের নতুন কিছু ভাবা, তৈরি করা এবং নিজেদের উদ্ভাবন অন্যদের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ করে দেয়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা নিজেদের আরও দক্ষ করে তুলতে পারবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক বলেন, “স্মার্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বায়নের যুগে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও বিজ্ঞানমনস্কতা অর্জন করতে হবে। উন্নত বাংলাদেশ গড়তে বিজ্ঞানের ইতিবাচক চর্চা আরও বাড়াতে হবে। স্কলার্সহোম সেই লক্ষ্যেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, যুক্তিবোধ, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটানো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।

মেলায় কলেজের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তিনটি গ্রুপে অংশ নেয়। ৪০টি স্টলে প্রদর্শিত প্রকল্পের মধ্যে ছিল স্মার্ট কৃষি, অগ্নিনির্বাপণ প্রযুক্তি, সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ, রোবোটিক্স, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন সময়োপযোগী উদ্ভাবন।

শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি মডেলের কার্যপ্রণালি, প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে অতিথি, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরে। বিভিন্ন স্টল ঘুরে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের প্রকল্প সম্পর্কে জানতে চান এবং তাদের সৃজনশীল প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।

বিজয়ী যারা

মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক।

জুনিয়র গ্রুপে প্রথম হয় ‘LPG Gas Detecting System’। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে ‘Producing Electricity by Footsteps’ এবং ‘Automatic Rain Detector Protect Shield’।

ইন্টারমিডিয়েট গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করে ‘Balanced Dome’। দ্বিতীয় হয় ‘Industrial Air Pollution Control Model’ এবং তৃতীয় হয় ‘Glasses for Blind People’।

সিনিয়র গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করে ‘Piezo-Electric Floor Technology’। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে ‘Electricity Production from Waste Material’ এবং ‘ShadowBot’।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, যুক্তিবোধ, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক জ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার করে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করবে।