০২:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চলন্ত ট্রেনে যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ Logo গ্রীনহিল স্টেট কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিলেন মো. নিয়াজ উদ্দীন Logo হারিয়ে যায়নি চিঠি, বদলেছে শুধু রূপ : মাটির ফলক থেকে ডিজিটাল ইনবক্স Logo দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল নজরদারি বাড়াবে বিজিবি, তৈরি হবে নিজস্ব ড্রোন সক্ষমতা- সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo অ্যান্টিবায়োটিক সংকট: ওষুধহীন অন্ধকার যুগের পথে মানবসভ্যতা Logo এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার ফাতিমা Logo প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং মেলা ২০২৬ শুরু, উদ্বোধন হলো বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন Logo গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছে বিএনপি Logo সিলেটে মানবাধিকারকর্মী মিনহাজ সামাদ চৌধুরী নিখোঁজ Logo বড়লেখায় বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

রাবির প্রদর্শনীতে ‘৭১-২৪’ চিত্রকর্ম নিয়ে বিতর্ক

ক‍্যাম্পাস কন্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:২৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 133
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীতে একটি চিত্রকর্মে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের তুলনায় ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে- এমন অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হলে বিতর্কিত চিত্রকর্মটি প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন চত্বরে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: রংতুলিতে মুক্ত স্বদেশ’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে প্রদর্শনীতে ৮০টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। মঙ্গলবার রাত আটটা পর্যন্ত এটি চলার কথা রয়েছে।

বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা চিত্রকর্মটিতে একটি মুষ্টিবদ্ধ হাতের ওপর দাঁড়িপাল্লা দেখা যায়। পাল্লার এক পাশে লাল রঙে ‘৭১’ এবং অন্য পাশে কালচে রঙে ‘২৪’ লেখা। ‘২৪’ লেখা পাল্লাটি নিচের দিকে কিছুটা ঝুঁকে রয়েছে। এ উপস্থাপনাকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের তুলনায় ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের ঘটনাকে মুখোমুখি দাঁড় করানো উচিত নয়। তাঁর অভিযোগ, এ ধরনের উপস্থাপন শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বয়ানকেই সহায়তা করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত প্রদর্শনীতে এমন চিত্রকর্ম স্থান পাওয়াকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন।

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়ে থাকলে এটি শুধু শিল্পকর্মের বিকৃতি নয়, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিও অসম্মান। তাঁর মতে, ১৯৭১ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও আত্মত্যাগের গৌরবময় অধ্যায়। একইভাবে ২০২৪-ও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়; তবে ১৯৭১-কে হেয় বা আড়াল করে ২০২৪ বড় হতে পারে না।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, ১৯৭১ ও ২০২৪ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের ঘটনা। দুটি সময়কে মুখোমুখি না করে উভয়ের প্রেরণা ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

শিল্পীর ব্যাখ্যা

চিত্রকর্মটির শিল্পী অবশ্য এর ব্যাখ্যা ভিন্নভাবে দিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, খালি চোখে চিত্রকর্মটি দেখে ২০২৪ সালের তুলনায় ১৯৭১-এর মর্যাদা কম দেখানো হয়েছে বলে মনে হতে পারে। তবে তাঁর এমন কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

শিল্পীর ভাষ্য, জুলাইয়ের পর থেকেই একটি পক্ষ ২০২৪ সালকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। সেই বিষয়টিই প্রতীকীভাবে তুলে ধরতে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করা হয়েছে। ‘২৪’-এর পাশে ছোট ছোট নুড়িপাথর দিয়ে পাল্লাটিকে ভারী দেখানো হয়েছে। এর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা কমবেশি করার কোনো সম্পর্ক নেই।

যাচাই ছাড়াই প্রদর্শনীতে

চিত্রকর্মটি কীভাবে প্রদর্শনীর জন্য অনুমোদন পেল, জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, ডিনের অনুপস্থিতিতে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি শুধু একটি চিঠিতে সই করেছেন; ছবিগুলো যাচাই না করেই প্রদর্শনীর জন্য পাঠানো হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল আলীম বলেন, তিনি অনলাইনে বিষয়টি কিছুটা দেখেছেন। পুরো বিষয়টি জেনে পরে মন্তব্য করবেন। তবে তাঁর মতে, ১৯৭১ ছিল বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্বের লড়াই, আর ২০২৪ ছিল ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন। দুটি ঘটনা এক নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান বলেন, সমালোচনার পর সোমবার চিত্রকর্মটি প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রদর্শনীটি মূলত চারুকলা অনুষদের তত্ত্বাবধানে হয়েছে এবং সিনেট ভবনে প্রদর্শনীর স্থান নির্ধারণের দায়িত্ব ছিল তাঁদের। কোনো বিতর্কিত বিষয়কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রশ্রয় দেবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রাবির প্রদর্শনীতে ‘৭১-২৪’ চিত্রকর্ম নিয়ে বিতর্ক

আপডেট সময় : ০২:২৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীতে একটি চিত্রকর্মে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের তুলনায় ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে- এমন অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা শুরু হলে বিতর্কিত চিত্রকর্মটি প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন চত্বরে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: রংতুলিতে মুক্ত স্বদেশ’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে প্রদর্শনীতে ৮০টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। মঙ্গলবার রাত আটটা পর্যন্ত এটি চলার কথা রয়েছে।

বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা চিত্রকর্মটিতে একটি মুষ্টিবদ্ধ হাতের ওপর দাঁড়িপাল্লা দেখা যায়। পাল্লার এক পাশে লাল রঙে ‘৭১’ এবং অন্য পাশে কালচে রঙে ‘২৪’ লেখা। ‘২৪’ লেখা পাল্লাটি নিচের দিকে কিছুটা ঝুঁকে রয়েছে। এ উপস্থাপনাকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের তুলনায় ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের ঘটনাকে মুখোমুখি দাঁড় করানো উচিত নয়। তাঁর অভিযোগ, এ ধরনের উপস্থাপন শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বয়ানকেই সহায়তা করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত প্রদর্শনীতে এমন চিত্রকর্ম স্থান পাওয়াকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন।

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়ে থাকলে এটি শুধু শিল্পকর্মের বিকৃতি নয়, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিও অসম্মান। তাঁর মতে, ১৯৭১ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও আত্মত্যাগের গৌরবময় অধ্যায়। একইভাবে ২০২৪-ও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়; তবে ১৯৭১-কে হেয় বা আড়াল করে ২০২৪ বড় হতে পারে না।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, ১৯৭১ ও ২০২৪ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের ঘটনা। দুটি সময়কে মুখোমুখি না করে উভয়ের প্রেরণা ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

শিল্পীর ব্যাখ্যা

চিত্রকর্মটির শিল্পী অবশ্য এর ব্যাখ্যা ভিন্নভাবে দিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, খালি চোখে চিত্রকর্মটি দেখে ২০২৪ সালের তুলনায় ১৯৭১-এর মর্যাদা কম দেখানো হয়েছে বলে মনে হতে পারে। তবে তাঁর এমন কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

শিল্পীর ভাষ্য, জুলাইয়ের পর থেকেই একটি পক্ষ ২০২৪ সালকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। সেই বিষয়টিই প্রতীকীভাবে তুলে ধরতে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করা হয়েছে। ‘২৪’-এর পাশে ছোট ছোট নুড়িপাথর দিয়ে পাল্লাটিকে ভারী দেখানো হয়েছে। এর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা কমবেশি করার কোনো সম্পর্ক নেই।

যাচাই ছাড়াই প্রদর্শনীতে

চিত্রকর্মটি কীভাবে প্রদর্শনীর জন্য অনুমোদন পেল, জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, ডিনের অনুপস্থিতিতে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি শুধু একটি চিঠিতে সই করেছেন; ছবিগুলো যাচাই না করেই প্রদর্শনীর জন্য পাঠানো হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল আলীম বলেন, তিনি অনলাইনে বিষয়টি কিছুটা দেখেছেন। পুরো বিষয়টি জেনে পরে মন্তব্য করবেন। তবে তাঁর মতে, ১৯৭১ ছিল বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্বের লড়াই, আর ২০২৪ ছিল ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন। দুটি ঘটনা এক নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান বলেন, সমালোচনার পর সোমবার চিত্রকর্মটি প্রদর্শনী থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রদর্শনীটি মূলত চারুকলা অনুষদের তত্ত্বাবধানে হয়েছে এবং সিনেট ভবনে প্রদর্শনীর স্থান নির্ধারণের দায়িত্ব ছিল তাঁদের। কোনো বিতর্কিত বিষয়কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রশ্রয় দেবে না।