০২:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চলন্ত ট্রেনে যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ Logo গ্রীনহিল স্টেট কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিলেন মো. নিয়াজ উদ্দীন Logo হারিয়ে যায়নি চিঠি, বদলেছে শুধু রূপ : মাটির ফলক থেকে ডিজিটাল ইনবক্স Logo দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল নজরদারি বাড়াবে বিজিবি, তৈরি হবে নিজস্ব ড্রোন সক্ষমতা- সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo অ্যান্টিবায়োটিক সংকট: ওষুধহীন অন্ধকার যুগের পথে মানবসভ্যতা Logo এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার ফাতিমা Logo প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং মেলা ২০২৬ শুরু, উদ্বোধন হলো বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন Logo গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছে বিএনপি Logo সিলেটে মানবাধিকারকর্মী মিনহাজ সামাদ চৌধুরী নিখোঁজ Logo বড়লেখায় বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

জিপিএ-৫ বেড়েছে ২২২, ছাত্রী ও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে

সিলেট বোর্ডে এসএসসির ফল বিপর্যয়, পাসের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ

জামিউল হাসান আরাফ, সিলেট
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 135
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের পতন হয়েছে। এ বছর বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। তবে পাসের হার কমলেও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ২২২ জন।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হয়। বোর্ডের সচিব প্রফেসর চৌধুরী মামুন আকবর ফল ঘোষণা করেন। এ সময় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বিলকিস ইয়াছমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এ বছর সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮৯ হাজার ৭৯ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ১৯ হাজার ৮৮৯ জন এবং ছাত্রী ৩২ হাজার ৬৮ জন।

পাসের হার কমার পাশাপাশি গত দুই বছরের ফলাফলেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা কমে হয় ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এবার আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশে।

জিপিএ-৫ বেড়েছে

পাসের হার কমলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির চিত্র কিছুটা ইতিবাচক। এবার ৩ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬১৪। অর্থাৎ এক বছরে জিপিএ-৫ বেড়েছে ২২২ জন।

জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে এবারও ছাত্রীদের আধিপত্য রয়েছে। মোট ৩ হাজার ৮৩৬ জনের মধ্যে ছাত্রী ২ হাজার ৯১ জন এবং ছাত্র ১ হাজার ৭৪৫ জন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি ছিল। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ৫৩ হাজার ৮৯১ জন এবং ছাত্র ৩৫ হাজার ৫৩০ জন।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে এগিয়ে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৬০৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৬৮৪ এবং ছাত্রী ১ হাজার ৯২৪ জন।

মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২৪ এবং ছাত্রী ৯৬ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০৮ জন—ছাত্র ৩৭ ও ছাত্রী ৭১ জন।

পরীক্ষার্থী কমেছে প্রায় ১৩ হাজার

এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ২ হাজার ২১৯ জন। এবার অংশ নিয়েছে ৮৯ হাজার ৭৯ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থী কমেছে প্রায় ১৩ হাজার।

চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল সিলেট জেলায়- ৩৫ হাজার ৩৩১ জন। মৌলভীবাজারে ১৯ হাজার ৯১৩, সুনামগঞ্জে ১৮ হাজার ৩৮৩ এবং হবিগঞ্জে ১৫ হাজার ৭৯৪ জন পরীক্ষার্থী ছিল।

তবে পাসের হারে চার জেলার মধ্যে এগিয়ে রয়েছে সুনামগঞ্জ। আর জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে মৌলভীবাজার।

এপ্রিল মাসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য সিলেট বোর্ডে মোট ৮৯ হাজার ৪২১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত বা নির্ধারিত ছিল। ফল প্রকাশের সময় কার্যকর অংশগ্রহণকারী হিসেবে ৮৯ হাজার ৭৯ জনের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

শতভাগ পাস ৯ প্রতিষ্ঠানে

এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে সামগ্রিক পাসের হার ৬০ শতাংশের নিচে নেমে আসায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, শিক্ষার মান এবং প্রতিষ্ঠানভেদে ফলাফলের পার্থক্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সার্বিকভাবে এবারের ফলাফলে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হারে বড় পতনের বিপরীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা বেড়েছে। ছাত্রীদের এগিয়ে থাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জিপিএ-৫-এ বড় আধিপত্যও এবারের ফলাফলের উল্লেখযোগ্য দিক। পাসের হার কমে যাওয়ার কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সংশ্লিষ্টদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জিপিএ-৫ বেড়েছে ২২২, ছাত্রী ও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে

সিলেট বোর্ডে এসএসসির ফল বিপর্যয়, পাসের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের পতন হয়েছে। এ বছর বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। তবে পাসের হার কমলেও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ২২২ জন।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হয়। বোর্ডের সচিব প্রফেসর চৌধুরী মামুন আকবর ফল ঘোষণা করেন। এ সময় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বিলকিস ইয়াছমীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এ বছর সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮৯ হাজার ৭৯ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ১৯ হাজার ৮৮৯ জন এবং ছাত্রী ৩২ হাজার ৬৮ জন।

পাসের হার কমার পাশাপাশি গত দুই বছরের ফলাফলেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা কমে হয় ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এবার আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশে।

জিপিএ-৫ বেড়েছে

পাসের হার কমলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির চিত্র কিছুটা ইতিবাচক। এবার ৩ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬১৪। অর্থাৎ এক বছরে জিপিএ-৫ বেড়েছে ২২২ জন।

জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে এবারও ছাত্রীদের আধিপত্য রয়েছে। মোট ৩ হাজার ৮৩৬ জনের মধ্যে ছাত্রী ২ হাজার ৯১ জন এবং ছাত্র ১ হাজার ৭৪৫ জন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি ছিল। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ৫৩ হাজার ৮৯১ জন এবং ছাত্র ৩৫ হাজার ৫৩০ জন।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে এগিয়ে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৬০৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৬৮৪ এবং ছাত্রী ১ হাজার ৯২৪ জন।

মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২৪ এবং ছাত্রী ৯৬ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০৮ জন—ছাত্র ৩৭ ও ছাত্রী ৭১ জন।

পরীক্ষার্থী কমেছে প্রায় ১৩ হাজার

এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ২ হাজার ২১৯ জন। এবার অংশ নিয়েছে ৮৯ হাজার ৭৯ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থী কমেছে প্রায় ১৩ হাজার।

চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল সিলেট জেলায়- ৩৫ হাজার ৩৩১ জন। মৌলভীবাজারে ১৯ হাজার ৯১৩, সুনামগঞ্জে ১৮ হাজার ৩৮৩ এবং হবিগঞ্জে ১৫ হাজার ৭৯৪ জন পরীক্ষার্থী ছিল।

তবে পাসের হারে চার জেলার মধ্যে এগিয়ে রয়েছে সুনামগঞ্জ। আর জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে মৌলভীবাজার।

এপ্রিল মাসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য সিলেট বোর্ডে মোট ৮৯ হাজার ৪২১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত বা নির্ধারিত ছিল। ফল প্রকাশের সময় কার্যকর অংশগ্রহণকারী হিসেবে ৮৯ হাজার ৭৯ জনের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

শতভাগ পাস ৯ প্রতিষ্ঠানে

এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে সামগ্রিক পাসের হার ৬০ শতাংশের নিচে নেমে আসায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, শিক্ষার মান এবং প্রতিষ্ঠানভেদে ফলাফলের পার্থক্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সার্বিকভাবে এবারের ফলাফলে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হারে বড় পতনের বিপরীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা বেড়েছে। ছাত্রীদের এগিয়ে থাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জিপিএ-৫-এ বড় আধিপত্যও এবারের ফলাফলের উল্লেখযোগ্য দিক। পাসের হার কমে যাওয়ার কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সংশ্লিষ্টদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।