সাতক্ষীরার চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসএসসিতে কেউ পাস করেনি
- আপডেট সময় : ০১:১৮:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- / 152
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে সাতক্ষীরার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও একটি নৈশ বিদ্যালয় রয়েছে। দেবহাটার একটি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা বেতন-ভাতা না পাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
শতভাগ অকৃতকার্য চার প্রতিষ্ঠান হলো আশাশুনি উপজেলার আশাশুনি গোদাড়া নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা সদরের সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয়, দেবহাটা উপজেলার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয় এবং শ্যামনগর উপজেলার সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়।
আশাশুনি গোদাড়া নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেবুন্নেছা বলেন, এ বছর বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
দেবহাটার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন। বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী নূর হোসেন জানান, ২০০১ সাল থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। ফলে অনেক শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না।
তিনি বলেন, কাগজে-কলমে বিদ্যালয়ে আটজন শিক্ষক থাকলেও তাঁদের অধিকাংশই নিয়মিত উপস্থিত হন না। একজন শিক্ষিকা ও একজন ধর্মীয় শিক্ষক থাকলেও তাঁরাও নিয়মিত সময় দেন না। বর্তমানে তিনি একাই অনেকটা বিদ্যালয়ের কার্যক্রম দেখাশোনা করছেন।
নূর হোসেন জানান, গত বছর বিদ্যালয়টির পাঁচ পরীক্ষার্থীর মধ্যে চারজন পাস করেছিল। তবে এবার কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয়ের ফলাফল সম্পর্কে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান বলেন, ‘ফলাফলের সঠিক তথ্য এই মুহূর্তে আমার জানা নেই। বোর্ড ও অনলাইনভিত্তিক নথি যাচাই করে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারব।’
অন্যদিকে শ্যামনগরের সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়ের কোনো পরীক্ষার্থী পাস না করার কারণ জানতে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাতক্ষীরা জেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন, যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য পাঠানো হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান করা হবে। কারণ চিহ্নিত হওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।















