০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

শহীদ রুদ্র সেনের নামে স্মারক স্কলারশিপ ঘোষণা

ষাটমাকন্ঠ প্রতিবেদক, সিলেট
  • আপডেট সময় : ০২:২০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 57
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে র‍্যালি, বৃক্ষরোপণ, আলোচনা সভা, বিশেষ দোয়া, পুরস্কার বিতরণ, বিভাগভিত্তিক ফিস্ট এবং ক্যাম্পাসজুড়ে আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ রুদ্র সেনের স্মরণে ‘শহীদ রুদ্র সেন মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের নিচতলার গ্যালারি কক্ষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় পতাকা চত্বরে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম। এ সময় পতাকা চত্বরসংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর প্রশাসনিক ভবন-১ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও গণমানুষের সংগ্রামের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সময়ের দাবি। তিনি বলেন, কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ ইতিহাসকে জীবন্ত করে তুলতে হবে।

গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য জানান, প্রতিটি বিভাগে অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থীকে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ (টিএ) প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পান।

এ সময় তিনি শহীদ রুদ্র সেনের স্মরণে ‘শহীদ রুদ্র সেন মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ চালুর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এ বৃত্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট থেকে প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ টাকা সংরক্ষণ করা হবে। প্রতিবছর ১৮ জুলাই শহীদ রুদ্র সেনের শাহাদাতবার্ষিকীতে এই স্কলারশিপ প্রদান করা হবে।

এ ছাড়া শহীদ রুদ্র সেনের নামে নামকরণ করা লেকের উন্নয়ন, একটি স্থায়ী স্মৃতিফলক নির্মাণ এবং তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠনের কথাও জানান উপাচার্য।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাঈল হোসেন। এতে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

দিবসটি উপলক্ষে প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বর্তমান শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে বিভাগভিত্তিক বিশেষ ভোজ (ফিস্ট) আয়োজন করা হয়। আগে এ আয়োজন শুধু আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এবার আবাসিক ও অনাবাসিক-উভয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগের আয়োজনে অংশ নেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী কর্মসূচিতে পুরো শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস উৎসবমুখর পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শহীদ রুদ্র সেনের নামে স্মারক স্কলারশিপ ঘোষণা

আপডেট সময় : ০২:২০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে র‍্যালি, বৃক্ষরোপণ, আলোচনা সভা, বিশেষ দোয়া, পুরস্কার বিতরণ, বিভাগভিত্তিক ফিস্ট এবং ক্যাম্পাসজুড়ে আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ রুদ্র সেনের স্মরণে ‘শহীদ রুদ্র সেন মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের নিচতলার গ্যালারি কক্ষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় পতাকা চত্বরে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম। এ সময় পতাকা চত্বরসংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর প্রশাসনিক ভবন-১ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও গণমানুষের সংগ্রামের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সময়ের দাবি। তিনি বলেন, কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ ইতিহাসকে জীবন্ত করে তুলতে হবে।

গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য জানান, প্রতিটি বিভাগে অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থীকে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ (টিএ) প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পান।

এ সময় তিনি শহীদ রুদ্র সেনের স্মরণে ‘শহীদ রুদ্র সেন মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ চালুর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এ বৃত্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট থেকে প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ টাকা সংরক্ষণ করা হবে। প্রতিবছর ১৮ জুলাই শহীদ রুদ্র সেনের শাহাদাতবার্ষিকীতে এই স্কলারশিপ প্রদান করা হবে।

এ ছাড়া শহীদ রুদ্র সেনের নামে নামকরণ করা লেকের উন্নয়ন, একটি স্থায়ী স্মৃতিফলক নির্মাণ এবং তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠনের কথাও জানান উপাচার্য।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাঈল হোসেন। এতে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

দিবসটি উপলক্ষে প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বর্তমান শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে বিভাগভিত্তিক বিশেষ ভোজ (ফিস্ট) আয়োজন করা হয়। আগে এ আয়োজন শুধু আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এবার আবাসিক ও অনাবাসিক-উভয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগের আয়োজনে অংশ নেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী কর্মসূচিতে পুরো শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস উৎসবমুখর পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে।