০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

সমাজসেবা ও রেলওয়ে পুলিশের সহায়তায় নিখোঁজ শিশু ফিরল স্বজনদের কাছে

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 96
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সমাজসেবা অধিদপ্তর ও রেলওয়ে পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে চট্টগ্রাম থেকে নিখোঁজ হয়ে সিলেটে পৌঁছে যাওয়া ১০ বছর বয়সী শিশু সোহাগকে নিরাপদে তার স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, গত ১ আগস্ট সোহাগ চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে করে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে আসে। পরে ২ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে সে সিলেট থেকে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে এক অজ্ঞাতনামা নারীর সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। ট্রেনে থাকা কয়েকজন সচেতন যাত্রীর ওই নারীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তারা শিশুটিকে উদ্ধার করে কুলাউড়া রেলওয়ে থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

কুলাউড়া রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অমর চন্দ্র বিশ্বাস শিশুটির সঙ্গে কথা বলে তার স্বজনদের পরিচয় ও ঠিকানা সংগ্রহ করেন। পরে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা পুলিশের সহায়তায় শিশুটির পরিবারের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

এদিকে বিষয়টি জানার পর কুলাউড়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মী জাহানারা বেগম রেলওয়ে থানায় গিয়ে শিশুটির সঙ্গে কথা বলেন। তিনি শিশুটির মানসিক অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং করেন, নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করেন এবং ভবিষ্যতে কোনো বিপদে পড়লে জাতীয় শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে শিশুটির খালা আকলিমার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পর গত ৩ আগস্ট চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত টিজি পার্টির কনস্টেবল রাশেদুল রানার জিম্মায় শিশুটিকে নিরাপদে পাঠানো হয়। চট্টগ্রামে পৌঁছে কনস্টেবল রাশেদুল রানা শিশুটিকে তার খালু আরিফ ও খালা আকলিমার কাছে হস্তান্তর করেন।

এ ঘটনায় কুলাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ জানায়, তার বাবা আব্দুল করিম মানসিক ভারসাম্যহীন এবং মা টুনি বেগম মারা গেছেন। চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার মহুরীপাড়া এলাকার মানিক জমিদার কলোনিতে খালু আরিফ ও খালা আকলিমার সঙ্গেই সে বসবাস করে।

কুলাউড়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মী জাহানারা বেগম ষাটমাকন্ঠকে বলেন, “ট্রেনে থাকা সাধারণ যাত্রীদের সচেতনতা, কুলাউড়া ও ডবলমুরিং রেলওয়ে পুলিশের তৎপরতা এবং সমাজসেবা কার্যালয়ের সময়োপযোগী ও মানবিক সমন্বয়ের ফলেই শিশুটি নিরাপদে স্বজনদের কাছে ফিরে যেতে পেরেছে। শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাই।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সমাজসেবা ও রেলওয়ে পুলিশের সহায়তায় নিখোঁজ শিশু ফিরল স্বজনদের কাছে

আপডেট সময় : ০৫:৩৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

সমাজসেবা অধিদপ্তর ও রেলওয়ে পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে চট্টগ্রাম থেকে নিখোঁজ হয়ে সিলেটে পৌঁছে যাওয়া ১০ বছর বয়সী শিশু সোহাগকে নিরাপদে তার স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, গত ১ আগস্ট সোহাগ চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে করে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে আসে। পরে ২ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে সে সিলেট থেকে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে এক অজ্ঞাতনামা নারীর সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। ট্রেনে থাকা কয়েকজন সচেতন যাত্রীর ওই নারীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তারা শিশুটিকে উদ্ধার করে কুলাউড়া রেলওয়ে থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

কুলাউড়া রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অমর চন্দ্র বিশ্বাস শিশুটির সঙ্গে কথা বলে তার স্বজনদের পরিচয় ও ঠিকানা সংগ্রহ করেন। পরে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা পুলিশের সহায়তায় শিশুটির পরিবারের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

এদিকে বিষয়টি জানার পর কুলাউড়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মী জাহানারা বেগম রেলওয়ে থানায় গিয়ে শিশুটির সঙ্গে কথা বলেন। তিনি শিশুটির মানসিক অবস্থা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং করেন, নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করেন এবং ভবিষ্যতে কোনো বিপদে পড়লে জাতীয় শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে শিশুটির খালা আকলিমার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পর গত ৩ আগস্ট চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত টিজি পার্টির কনস্টেবল রাশেদুল রানার জিম্মায় শিশুটিকে নিরাপদে পাঠানো হয়। চট্টগ্রামে পৌঁছে কনস্টেবল রাশেদুল রানা শিশুটিকে তার খালু আরিফ ও খালা আকলিমার কাছে হস্তান্তর করেন।

এ ঘটনায় কুলাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ জানায়, তার বাবা আব্দুল করিম মানসিক ভারসাম্যহীন এবং মা টুনি বেগম মারা গেছেন। চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার মহুরীপাড়া এলাকার মানিক জমিদার কলোনিতে খালু আরিফ ও খালা আকলিমার সঙ্গেই সে বসবাস করে।

কুলাউড়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মী জাহানারা বেগম ষাটমাকন্ঠকে বলেন, “ট্রেনে থাকা সাধারণ যাত্রীদের সচেতনতা, কুলাউড়া ও ডবলমুরিং রেলওয়ে পুলিশের তৎপরতা এবং সমাজসেবা কার্যালয়ের সময়োপযোগী ও মানবিক সমন্বয়ের ফলেই শিশুটি নিরাপদে স্বজনদের কাছে ফিরে যেতে পেরেছে। শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাই।”