০৫:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

মাধবকুণ্ডের সৌন্দর্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ জরুরি

আবুল কাসেম, সম্পাদক, ষাটমাকন্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৬:২৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 92
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম উজ্জ্বল নিদর্শন মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া পাহাড়ের কোলঘেঁষে অবস্থিত এই জলপ্রপাত, দেশের প্রকৃতিনির্ভর পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পাহাড়, বনভূমি, ঝরনা ও জীববৈচিত্র্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের টেনে এনেছে। একসময় ছুটির দিন কিংবা উৎসবের মৌসুমে মাধবকুণ্ডে মানুষের ঢল নামত। স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সচল থাকত, পরিবহন খাত থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আয় বাড়ত, আর স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসত।

কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র পাল্টে গেছে। আজ মাধবকুণ্ডে গেলে আগের সেই প্রাণচাঞ্চল্য আর চোখে পড়ে না। পর্যটকের সংখ্যা কমেছে, ব্যবসায় মন্দা নেমেছে, আর স্থানীয় মানুষের মধ্যে বাড়ছে হতাশা। একটি জাতীয় পর্যায়ের পর্যটনকেন্দ্র কেন এমন অবস্থায় পৌঁছাল-এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এখন জরুরি।

বাস্তবতা হলো, মাধবকুণ্ডের সংকট প্রকৃতির নয়, সংকট ব্যবস্থাপনার। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকল্পিত উন্নয়নের অভাবে পর্যটনকেন্দ্রটি ধীরে ধীরে আকর্ষণ হারাচ্ছে। ইকোপার্কের অভ্যন্তরীণ সড়ক, হাঁটার পথ, বিশ্রামাগার, বসার স্থান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অনেক ক্ষেত্রেই রয়েছে অবহেলার চিহ্ন। কোথাও ভাঙাচোরা অবকাঠামো, কোথাও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনাও অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।

বিশ্বজুড়ে পর্যটনের ধারণা বদলে গেছে। এখন মানুষ শুধু একটি প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে যায় না বরং তারা একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সেবাবান্ধব অভিজ্ঞতা প্রত্যাশা করে। পরিবার নিয়ে ভ্রমণে গেলে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, বিশ্রামের ব্যবস্থা, খাবারের মান, শিশু ও প্রবীণদের জন্য সুবিধা সবকিছুই বিবেচনায় আসে। এসব বিষয়ে পিছিয়ে থাকলে কোনো পর্যটনকেন্দ্র তার জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারে না।

মাধবকুণ্ডের ক্ষেত্রেও সেটিই ঘটছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় নতুন নতুন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অনেক স্থান আধুনিক সুবিধা নিয়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। অথচ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনেক এগিয়ে থাকা মাধবকুণ্ড সেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে মূলত ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে।

এখানে আরেকটি প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। বন বিভাগ এই ইকোপার্কের দায়িত্বে থাকলেও একটি জাতীয় পর্যায়ের পর্যটনকেন্দ্র পরিচালনা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের একক দায়িত্ব হতে পারে না। স্থানীয় সরকার, জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, পর্যটন বোর্ড, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনগণ-সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া বিচ্ছিন্ন কিছু উন্নয়ন প্রকল্প দিয়ে মাধবকুণ্ডের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব নয়।

পর্যটনকেন্দ্রটির প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং পর্যটনভিত্তিক প্রচারণা একটি গন্তব্যকে জনপ্রিয় করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাধবকুণ্ডের সৌন্দর্যকে দেশ-বিদেশে তুলে ধরার জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগ খুব একটা চোখে পড়ে না। ফলে নতুন প্রজন্মের অনেক পর্যটকই এই গন্তব্য সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পান না বা বিকল্প স্থান বেছে নেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় জনগণকে পর্যটন উন্নয়নের অংশীদার করার ক্ষেত্রেও আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। স্থানীয় তরুণদের প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইড হিসেবে গড়ে তোলা, পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি, স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা এবং নারী উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা গেলে পর্যটনের সুফল আরও বিস্তৃত হবে। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষও এই সম্পদ সংরক্ষণে আরও দায়িত্বশীল হবেন।

তবে উন্নয়নের নামে যেন প্রকৃতির ক্ষতি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। মাধবকুণ্ডের মূল আকর্ষণ তার প্রাকৃতিক পরিবেশ। অতিরিক্ত কংক্রিটের স্থাপনা, অপরিকল্পিত নির্মাণ কিংবা পরিবেশবিনাশী কর্মকাণ্ড এই সম্পদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই উন্নয়ন হতে হবে পরিবেশসম্মত, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং টেকসই।

সরকার পর্যটনকে অর্থনীতির সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলে আসছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে বিদ্যমান পর্যটনকেন্দ্রগুলোর প্রতি সমান মনোযোগ দিতে হবে। নতুন প্রকল্প নেওয়ার পাশাপাশি পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মাধবকুণ্ড সেই তালিকার প্রথম সারিতেই থাকার কথা।

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত শুধু বড়লেখা বা মৌলভীবাজারের নয় বরং এটি বাংলাদেশের সম্পদ। এই সম্পদের বিনষ্ট হওয়া কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সেবার মান উন্নত করতে হবে।

মাধবকুণ্ডকে আবারও প্রাণবন্ত করে তোলা অসম্ভব নয়। প্রয়োজন সদিচ্ছা, পরিকল্পনা এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা। দেশের অন্যতম সুন্দর এই প্রাকৃতিক জলপ্রপাত তার হারানো আবেদন ফিরে পাক এটাই প্রত্যাশা। কারণ, একটি জাতি তার প্রাকৃতিক ঐতিহ্যকে যতটা যত্নে রক্ষা করে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তার দায়বদ্ধতার পরিচয়ও ততটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তাই সময় এসেছে- মাধবকুণ্ডকে নতুন করে ভাবার, নতুন করে গড়ে তোলার এবং দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে তার প্রাপ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মাধবকুণ্ডের সৌন্দর্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ জরুরি

আপডেট সময় : ০৬:২৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম উজ্জ্বল নিদর্শন মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া পাহাড়ের কোলঘেঁষে অবস্থিত এই জলপ্রপাত, দেশের প্রকৃতিনির্ভর পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পাহাড়, বনভূমি, ঝরনা ও জীববৈচিত্র্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের টেনে এনেছে। একসময় ছুটির দিন কিংবা উৎসবের মৌসুমে মাধবকুণ্ডে মানুষের ঢল নামত। স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সচল থাকত, পরিবহন খাত থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আয় বাড়ত, আর স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসত।

কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র পাল্টে গেছে। আজ মাধবকুণ্ডে গেলে আগের সেই প্রাণচাঞ্চল্য আর চোখে পড়ে না। পর্যটকের সংখ্যা কমেছে, ব্যবসায় মন্দা নেমেছে, আর স্থানীয় মানুষের মধ্যে বাড়ছে হতাশা। একটি জাতীয় পর্যায়ের পর্যটনকেন্দ্র কেন এমন অবস্থায় পৌঁছাল-এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এখন জরুরি।

বাস্তবতা হলো, মাধবকুণ্ডের সংকট প্রকৃতির নয়, সংকট ব্যবস্থাপনার। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকল্পিত উন্নয়নের অভাবে পর্যটনকেন্দ্রটি ধীরে ধীরে আকর্ষণ হারাচ্ছে। ইকোপার্কের অভ্যন্তরীণ সড়ক, হাঁটার পথ, বিশ্রামাগার, বসার স্থান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অনেক ক্ষেত্রেই রয়েছে অবহেলার চিহ্ন। কোথাও ভাঙাচোরা অবকাঠামো, কোথাও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনাও অনেক ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।

বিশ্বজুড়ে পর্যটনের ধারণা বদলে গেছে। এখন মানুষ শুধু একটি প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে যায় না বরং তারা একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সেবাবান্ধব অভিজ্ঞতা প্রত্যাশা করে। পরিবার নিয়ে ভ্রমণে গেলে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, বিশ্রামের ব্যবস্থা, খাবারের মান, শিশু ও প্রবীণদের জন্য সুবিধা সবকিছুই বিবেচনায় আসে। এসব বিষয়ে পিছিয়ে থাকলে কোনো পর্যটনকেন্দ্র তার জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারে না।

মাধবকুণ্ডের ক্ষেত্রেও সেটিই ঘটছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় নতুন নতুন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অনেক স্থান আধুনিক সুবিধা নিয়ে পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। অথচ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনেক এগিয়ে থাকা মাধবকুণ্ড সেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে মূলত ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে।

এখানে আরেকটি প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। বন বিভাগ এই ইকোপার্কের দায়িত্বে থাকলেও একটি জাতীয় পর্যায়ের পর্যটনকেন্দ্র পরিচালনা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের একক দায়িত্ব হতে পারে না। স্থানীয় সরকার, জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, পর্যটন বোর্ড, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনগণ-সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান ছাড়া বিচ্ছিন্ন কিছু উন্নয়ন প্রকল্প দিয়ে মাধবকুণ্ডের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব নয়।

পর্যটনকেন্দ্রটির প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং পর্যটনভিত্তিক প্রচারণা একটি গন্তব্যকে জনপ্রিয় করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাধবকুণ্ডের সৌন্দর্যকে দেশ-বিদেশে তুলে ধরার জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগ খুব একটা চোখে পড়ে না। ফলে নতুন প্রজন্মের অনেক পর্যটকই এই গন্তব্য সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পান না বা বিকল্প স্থান বেছে নেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় জনগণকে পর্যটন উন্নয়নের অংশীদার করার ক্ষেত্রেও আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। স্থানীয় তরুণদের প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইড হিসেবে গড়ে তোলা, পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি, স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা এবং নারী উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা গেলে পর্যটনের সুফল আরও বিস্তৃত হবে। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষও এই সম্পদ সংরক্ষণে আরও দায়িত্বশীল হবেন।

তবে উন্নয়নের নামে যেন প্রকৃতির ক্ষতি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। মাধবকুণ্ডের মূল আকর্ষণ তার প্রাকৃতিক পরিবেশ। অতিরিক্ত কংক্রিটের স্থাপনা, অপরিকল্পিত নির্মাণ কিংবা পরিবেশবিনাশী কর্মকাণ্ড এই সম্পদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তাই উন্নয়ন হতে হবে পরিবেশসম্মত, বিজ্ঞানভিত্তিক এবং টেকসই।

সরকার পর্যটনকে অর্থনীতির সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলে আসছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে বিদ্যমান পর্যটনকেন্দ্রগুলোর প্রতি সমান মনোযোগ দিতে হবে। নতুন প্রকল্প নেওয়ার পাশাপাশি পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মাধবকুণ্ড সেই তালিকার প্রথম সারিতেই থাকার কথা।

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত শুধু বড়লেখা বা মৌলভীবাজারের নয় বরং এটি বাংলাদেশের সম্পদ। এই সম্পদের বিনষ্ট হওয়া কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সেবার মান উন্নত করতে হবে।

মাধবকুণ্ডকে আবারও প্রাণবন্ত করে তোলা অসম্ভব নয়। প্রয়োজন সদিচ্ছা, পরিকল্পনা এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা। দেশের অন্যতম সুন্দর এই প্রাকৃতিক জলপ্রপাত তার হারানো আবেদন ফিরে পাক এটাই প্রত্যাশা। কারণ, একটি জাতি তার প্রাকৃতিক ঐতিহ্যকে যতটা যত্নে রক্ষা করে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তার দায়বদ্ধতার পরিচয়ও ততটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তাই সময় এসেছে- মাধবকুণ্ডকে নতুন করে ভাবার, নতুন করে গড়ে তোলার এবং দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে তার প্রাপ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার।