গবেষণাভিত্তিক উদ্ভাবনে লিডিং ইউনিভার্সিটির তৃতীয় স্টুডেন্টস রিসার্চ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ১০:০৭:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 147
গবেষণামুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধানে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে লিডিং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সোসাইটির (এলইউআরএস) উদ্যোগে ‘LURS 3rd Students Research Conference 2026’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত দিনব্যাপী এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল “Turning Ideas into Sustainable Solutions for a Better Tomorrow”।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী, তরুণ গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, বিচারক ও পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে সম্মেলনটি গবেষণা, উদ্ভাবন ও একাডেমিক জ্ঞান বিনিময়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণাপত্র ও গবেষণা-ভিত্তিক পোস্টার উপস্থাপন করা হয়।
বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় একাডেমিক ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাই।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সৈয়দ রাগীব আলী বলেন, গবেষণাই জাতীয় উন্নয়ন ও বৈশ্বিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তরুণদের সমালোচনামূলক চিন্তা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং অর্জিত জ্ঞানকে সমাজকল্যাণে কাজে লাগানোর দক্ষতার ওপর। তিনি গবেষণাভিত্তিক দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণা উপস্থাপন ও মতবিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করায় লিডিং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সোসাইটির প্রশংসা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন বলেন, গবেষণা প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষের ভিত্তিপ্রস্তর এবং উদ্ভাবনের অন্যতম চালিকাশক্তি। টেকসই সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে গবেষণার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের গবেষণালব্ধ জ্ঞান নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্মেলনে পোস্টার প্রেজেন্টেশন বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথ বিভাগের শিক্ষার্থী শাফোয়ান ইসলাম জীম। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ ভূঁইয়া ইমন।

পেপার প্রেজেন্টেশন বিভাগে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হন প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের এসকে মাশরুবা আল তাবাস্সুম (লিটারেচার), গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. মাহিদ কবির (বিজনেস), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. ওমর ফারুক (লাইফ সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার), ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মানতাকা নিহাদ অরনা (সোশ্যাল সায়েন্স), মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির মো. মোহায়মিনুজ্জামান (পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড গভর্ন্যান্স) এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এম. এম. জাহিদ হাসান (মেশিন লার্নিং অ্যান্ড এআই)।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও সেন্টার ফর রিসার্চ ইনোভেটিভ স্টাডিজ অ্যান্ড প্ল্যানিংয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. বশির আহমেদ ভূঁইয়া, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান এবং লিডিং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সোসাইটির উপদেষ্টা ড. শাফকাত কিবরিয়া। সম্মেলনের কীনোট স্পিকার ছিলেন মো. সায়দুর রহমান কোহিনুর।
এ সময় লিডিং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুছ সামাদ সুমু, সভাপতি নিবিড় রায়, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সাঈদ আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ জয়তি প্রকাশ অনিন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফাইজা কোরেশী ও নিশাত তানজিনা।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের গবেষণা সম্মেলন শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধানে রূপ দিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। সম্মেলনের সফল আয়োজনের পেছনে শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি উপদেষ্টা ড. শাফকাত কিবরিয়া ও সহ-উপদেষ্টা মো. জামানের রহমানের সার্বিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এবারের সম্মেলনের পৃষ্ঠপোষক ছিল ফিউচার এডটেক, টাইমস আইটি, এলএসএ, বাংলাদেশ স্পেশালিটি কফি একাডেমি (সিলেট শাখা), সিলেট কম্পিউটার, সেন্টমার্ক, ক্রিস্টাল ক্যানভাস, মেহমান রেস্টুরেন্ট এবং স্কিনো।



















