০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা, প্রতিবাদে মানববন্ধন

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 97
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের ইছলাছড়া খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের বিরুদ্ধে। গত কয়েক বছরে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন পুঞ্জির বাসিন্দারা। সম্প্রতি কালিয়ারগর এলাকায় গাছ কাটার অভিযোগে নতুন করে মামলা করাকেও তারা হয়রানির অংশ বলে অভিযোগ করেছেন।

এসব অভিযোগের প্রতিবাদে এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের মদদে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে গত ১ আগস্ট ইছলাছড়া পান পুঞ্জিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা সরকার ও প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চেয়ে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরমচাল ইউনিয়নের ইছলাছড়া পান পুঞ্জিতে প্রায় শতাধিক খাসিয়া পরিবারের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে তারা পান, সুপারি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য চাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তবে ২০২২ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত কুলাউড়া রেঞ্জ ও বরমচাল বিট কার্যালয়ের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন পুঞ্জির বাসিন্দারা। এসব মামলায় নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী ব্যক্তিরা আসামি হয়েছেন।

পুঞ্জির লোকজনের দাবি, হেডম্যান (মন্ত্রী) লিডিয়া সিল্লার বিরুদ্ধে তিনটি, তার ছেলে ফ্লো হ্যাভেন জনি সিল্লার বিরুদ্ধে তিনটি, লাকি স্টারের বিরুদ্ধে দুটি, আলফায়েস সিল্লার বিরুদ্ধে তিনটি, ব্রিনাল খাসিয়ার বিরুদ্ধে দুটি, হরলাল সিল্লার বিরুদ্ধে তিনটি, স্ট্রিম লিড খাসিয়ার বিরুদ্ধে দুটি, মন্নান খংলার বিরুদ্ধে তিনটি এবং হ্যাভেন বি ল্যামিনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলাসহ মোট ১৫ থেকে ২০টি মামলা করা হয়েছে।

ইছলাছড়া পুঞ্জির বাসিন্দা ফ্লো হ্যাভেন জনি সিল্লা অভিযোগ করেন, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে একটি চক্র বন থেকে গাছ চুরি করে। পরে সেই ঘটনার দায় চাপিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বরমচাল বিটের এক বন প্রহরী নিয়মিত অর্থ দাবি করেন এবং সুপারি ও পানের চারা রোপণ কিংবা শুকনো জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও টাকা আদায় করেন। তার দাবি, খাসিয়ারা কখনো বন ধ্বংস করেন না; বরং গাছ সংরক্ষণ করেই পান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

পুঞ্জির হেডম্যান লিডিয়া সিল্লা ষাটমাকন্ঠকে বলেন, পূর্বপুরুষের আমল থেকে তারা ওই পুঞ্জিতে বসবাস করে আসছেন। তার ভাষ্য, একের পর এক মামলার কারণে পুঞ্জির মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, তাদের এলাকায় সেগুন গাছই নেই, তবুও সেগুন গাছ চুরি, বনভূমি দখলসহ নানা অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এসব মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে তারা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি সরকারের কাছে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুলাউড়া বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার রবীন্দ্র কুমার সিংহ। তিনি বলেন, ইছলাছড়া পুঞ্জি ভাটেরা হিল রিজার্ভ ফরেস্টের অন্তর্ভুক্ত এবং এ এলাকার প্রায় ১৫০ একর বনভূমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০২২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জেলা জজ আদালত ওই জমির বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তার দাবি, সম্প্রতি খাসিয়া পুঞ্জির কিছু লোক ওই বনভূমি দখলের চেষ্টা করছেন। বনভূমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, খাসিয়াদের আনা অভিযোগ সঠিক নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা, প্রতিবাদে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০২:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের ইছলাছড়া খাসিয়া পুঞ্জির বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের বিরুদ্ধে। গত কয়েক বছরে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন পুঞ্জির বাসিন্দারা। সম্প্রতি কালিয়ারগর এলাকায় গাছ কাটার অভিযোগে নতুন করে মামলা করাকেও তারা হয়রানির অংশ বলে অভিযোগ করেছেন।

এসব অভিযোগের প্রতিবাদে এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের মদদে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে গত ১ আগস্ট ইছলাছড়া পান পুঞ্জিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা সরকার ও প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চেয়ে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরমচাল ইউনিয়নের ইছলাছড়া পান পুঞ্জিতে প্রায় শতাধিক খাসিয়া পরিবারের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে তারা পান, সুপারি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য চাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তবে ২০২২ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত কুলাউড়া রেঞ্জ ও বরমচাল বিট কার্যালয়ের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন পুঞ্জির বাসিন্দারা। এসব মামলায় নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী ব্যক্তিরা আসামি হয়েছেন।

পুঞ্জির লোকজনের দাবি, হেডম্যান (মন্ত্রী) লিডিয়া সিল্লার বিরুদ্ধে তিনটি, তার ছেলে ফ্লো হ্যাভেন জনি সিল্লার বিরুদ্ধে তিনটি, লাকি স্টারের বিরুদ্ধে দুটি, আলফায়েস সিল্লার বিরুদ্ধে তিনটি, ব্রিনাল খাসিয়ার বিরুদ্ধে দুটি, হরলাল সিল্লার বিরুদ্ধে তিনটি, স্ট্রিম লিড খাসিয়ার বিরুদ্ধে দুটি, মন্নান খংলার বিরুদ্ধে তিনটি এবং হ্যাভেন বি ল্যামিনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলাসহ মোট ১৫ থেকে ২০টি মামলা করা হয়েছে।

ইছলাছড়া পুঞ্জির বাসিন্দা ফ্লো হ্যাভেন জনি সিল্লা অভিযোগ করেন, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে একটি চক্র বন থেকে গাছ চুরি করে। পরে সেই ঘটনার দায় চাপিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বরমচাল বিটের এক বন প্রহরী নিয়মিত অর্থ দাবি করেন এবং সুপারি ও পানের চারা রোপণ কিংবা শুকনো জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও টাকা আদায় করেন। তার দাবি, খাসিয়ারা কখনো বন ধ্বংস করেন না; বরং গাছ সংরক্ষণ করেই পান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

পুঞ্জির হেডম্যান লিডিয়া সিল্লা ষাটমাকন্ঠকে বলেন, পূর্বপুরুষের আমল থেকে তারা ওই পুঞ্জিতে বসবাস করে আসছেন। তার ভাষ্য, একের পর এক মামলার কারণে পুঞ্জির মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, তাদের এলাকায় সেগুন গাছই নেই, তবুও সেগুন গাছ চুরি, বনভূমি দখলসহ নানা অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এসব মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে তারা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি সরকারের কাছে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুলাউড়া বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার রবীন্দ্র কুমার সিংহ। তিনি বলেন, ইছলাছড়া পুঞ্জি ভাটেরা হিল রিজার্ভ ফরেস্টের অন্তর্ভুক্ত এবং এ এলাকার প্রায় ১৫০ একর বনভূমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০২২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জেলা জজ আদালত ওই জমির বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তার দাবি, সম্প্রতি খাসিয়া পুঞ্জির কিছু লোক ওই বনভূমি দখলের চেষ্টা করছেন। বনভূমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, খাসিয়াদের আনা অভিযোগ সঠিক নয়।