০৫:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ল খেলাফত মজলিস

ষাটমাকন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:২৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • / 85
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে খেলাফত মজলিস। দলটি জানিয়েছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত এই জোটের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের সব ধরনের কর্মসূচি থেকে তারা বিরত থাকবে। তবে দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে ভবিষ্যতে বৃহত্তর কোনো ঐক্যের প্রয়োজন দেখা দিলে সে বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার তৃতীয় সাধারণ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল হাফিজ খসরু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১১ দলীয় ঐক্য মূলত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত একটি নির্বাচনী সমঝোতা ছিল। নির্বাচন শেষ হওয়ার মধ্য দিয়েই সেই ঐক্যের কার্যকারিতা বাস্তবিক অর্থে শেষ হয়ে যায়। এরপরও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জোটের কয়েকটি কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিস অংশ নিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দলটি ১১ দলীয় ঐক্যের সব কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে দেশ, জাতি ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরের ঐক্য গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

জোট ছাড়ার বিষয়ে শনিবার সকালে গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই ১১ দলের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছিল এবং তাদের দলও তার অংশ ছিল। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নিলেও বেশ কিছুদিন ধরে তারা জোটের কোনো কার্যক্রমে নেই। তাই সেই সমঝোতা আর বহাল রাখার প্রয়োজন দেখছে না দলটি। তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ কয়েকটি বিষয়ে ১১ দলের সঙ্গে তাদের মতের মিল থাকলেও সেসব ইস্যুতে এখন থেকে খেলাফত মজলিস স্বতন্ত্রভাবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন দেখা দিলে নতুন কোনো ঐক্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে গত ১৩ জুন চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশের পর খেলাফত মজলিস আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের নেতাদের জানিয়ে দেয়, ভবিষ্যতে কোনো সমাবেশের ব্যানার, পোস্টার বা প্রচারণায় দলের নাম কিংবা নেতাদের নাম ব্যবহার না করার জন্য। পরবর্তীতে রংপুরের একটি সমাবেশে দলের নাম ব্যবহার করা হলে আপত্তির মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকে জোটের কোনো কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিসের নাম ব্যবহার করা হয়নি বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

সম্প্রতি কওমি ধারার ইসলামি দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে কওমি ঘরানার কয়েকটি ইসলামি দলের নেতাদের বৈঠকের পর থেকেই জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে খেলাফত আন্দোলন জোট ত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর এবার খেলাফত মজলিসও একই পথে হাঁটল। তবে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এখনো ১১ দলীয় ঐক্যে রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ল খেলাফত মজলিস

আপডেট সময় : ০৮:২৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে খেলাফত মজলিস। দলটি জানিয়েছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত এই জোটের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের সব ধরনের কর্মসূচি থেকে তারা বিরত থাকবে। তবে দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে ভবিষ্যতে বৃহত্তর কোনো ঐক্যের প্রয়োজন দেখা দিলে সে বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার তৃতীয় সাধারণ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল হাফিজ খসরু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১১ দলীয় ঐক্য মূলত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত একটি নির্বাচনী সমঝোতা ছিল। নির্বাচন শেষ হওয়ার মধ্য দিয়েই সেই ঐক্যের কার্যকারিতা বাস্তবিক অর্থে শেষ হয়ে যায়। এরপরও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জোটের কয়েকটি কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিস অংশ নিয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দলটি ১১ দলীয় ঐক্যের সব কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে দেশ, জাতি ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরের ঐক্য গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

জোট ছাড়ার বিষয়ে শনিবার সকালে গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই ১১ দলের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছিল এবং তাদের দলও তার অংশ ছিল। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নিলেও বেশ কিছুদিন ধরে তারা জোটের কোনো কার্যক্রমে নেই। তাই সেই সমঝোতা আর বহাল রাখার প্রয়োজন দেখছে না দলটি। তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ কয়েকটি বিষয়ে ১১ দলের সঙ্গে তাদের মতের মিল থাকলেও সেসব ইস্যুতে এখন থেকে খেলাফত মজলিস স্বতন্ত্রভাবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন দেখা দিলে নতুন কোনো ঐক্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে গত ১৩ জুন চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশের পর খেলাফত মজলিস আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের নেতাদের জানিয়ে দেয়, ভবিষ্যতে কোনো সমাবেশের ব্যানার, পোস্টার বা প্রচারণায় দলের নাম কিংবা নেতাদের নাম ব্যবহার না করার জন্য। পরবর্তীতে রংপুরের একটি সমাবেশে দলের নাম ব্যবহার করা হলে আপত্তির মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকে জোটের কোনো কর্মসূচিতে খেলাফত মজলিসের নাম ব্যবহার করা হয়নি বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

সম্প্রতি কওমি ধারার ইসলামি দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর উদ্যোগে কওমি ঘরানার কয়েকটি ইসলামি দলের নেতাদের বৈঠকের পর থেকেই জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে খেলাফত আন্দোলন জোট ত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর এবার খেলাফত মজলিসও একই পথে হাঁটল। তবে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এখনো ১১ দলীয় ঐক্যে রয়েছে।