০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

দাবানলে বিপর্যস্ত ফ্রান্স, ইইউর সহায়তা চাইল প্যারিস; স্পেনে জরুরি অবস্থা

সাইফুল ইসলাম, ফ্রান্স প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:৩০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • / 99
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়াবহ তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও দমকা বাতাসের কারণে ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া দাবানলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে সংকটজনক অবস্থা তৈরি হয়েছে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে, যেখানে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যাপ-ফেরে (Cap Ferret) উপদ্বীপ সম্পূর্ণ খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ফ্রান্সের জিরোন্দ ও লঁদ (Landes) অঞ্চলে দুটি বড় দাবানলে ইতোমধ্যে ১০ হাজার হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সড়ক ও নৌপথে স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শুধু ক্যাপ-ফেরে এলাকা থেকেই প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। শত শত মানুষকে নৌপথে আর্কাশোঁ শহরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

দাবানল নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৮০০ দমকলকর্মী, শত শত জেন্ডার্ম ও সেনাসদস্যের পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। তবে তীব্র তাপপ্রবাহ ও শক্তিশালী বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজম সক্রিয় করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপণ বিমান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ ন্যুনেজ জানিয়েছেন, চলতি বছরের শুরু থেকে দেশটিতে দাবানলে ৫০ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।

এদিকে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের উপকণ্ঠ এবং আভিলা প্রদেশে দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে অতিরিক্ত চারটি অগ্নিনির্বাপণ বিমান চেয়েছে দেশটি। এরই মধ্যে গ্রিস দুটি বিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলেও একাধিক দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে গেলেও তীব্র তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও খরার প্রকোপ বাড়ছে। ফলে দাবানল আগের তুলনায় আরও দ্রুত বিস্তার লাভ করছে এবং বৃহৎ এলাকা গ্রাস করছে। চলতি বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে দাবানলে পুড়ে যাওয়া ভূমির পরিমাণ ইতোমধ্যে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দাবানলে বিপর্যস্ত ফ্রান্স, ইইউর সহায়তা চাইল প্যারিস; স্পেনে জরুরি অবস্থা

আপডেট সময় : ১০:৩০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

ভয়াবহ তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও দমকা বাতাসের কারণে ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া দাবানলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে সংকটজনক অবস্থা তৈরি হয়েছে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে, যেখানে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যাপ-ফেরে (Cap Ferret) উপদ্বীপ সম্পূর্ণ খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ফ্রান্সের জিরোন্দ ও লঁদ (Landes) অঞ্চলে দুটি বড় দাবানলে ইতোমধ্যে ১০ হাজার হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সড়ক ও নৌপথে স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শুধু ক্যাপ-ফেরে এলাকা থেকেই প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। শত শত মানুষকে নৌপথে আর্কাশোঁ শহরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

দাবানল নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৮০০ দমকলকর্মী, শত শত জেন্ডার্ম ও সেনাসদস্যের পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। তবে তীব্র তাপপ্রবাহ ও শক্তিশালী বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজম সক্রিয় করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপণ বিমান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ ন্যুনেজ জানিয়েছেন, চলতি বছরের শুরু থেকে দেশটিতে দাবানলে ৫০ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।

এদিকে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের উপকণ্ঠ এবং আভিলা প্রদেশে দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে অতিরিক্ত চারটি অগ্নিনির্বাপণ বিমান চেয়েছে দেশটি। এরই মধ্যে গ্রিস দুটি বিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলেও একাধিক দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে গেলেও তীব্র তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও খরার প্রকোপ বাড়ছে। ফলে দাবানল আগের তুলনায় আরও দ্রুত বিস্তার লাভ করছে এবং বৃহৎ এলাকা গ্রাস করছে। চলতি বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে দাবানলে পুড়ে যাওয়া ভূমির পরিমাণ ইতোমধ্যে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।