আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে প্রবাসী কার্ড, মিলবে ১০ বিশেষ সুবিধা
- আপডেট সময় : ০৬:১৩:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
- / 77
আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রবাসী কার্ড চালু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীদের জন্য ডেবিট কার্ড সুবিধাসহ এ কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ-সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রবাসী কার্ড চালুর মূল লক্ষ্য হলো প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। পাশাপাশি ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করা হবে।
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এবার প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যেসব সুবিধা পাবেন প্রবাসীরা
উপ-প্রেসসচিব জানান, প্রবাসী কার্ডধারীরা অন্তত ১০টি বিশেষ সুবিধা ভোগ করবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
* দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ এবং বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথে অগ্রাধিকারভিত্তিক সেবা।
* আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিনামূল্যে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সুবিধা।
* বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ছাড়।
* দেশে ও বিদেশে ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং এবং সিগনেচার কার্ডধারীদের জন্য এয়ারপোর্ট পিক-অ্যান্ড-ড্রপ সুবিধা।
* সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় বিশেষ ছাড়।
* কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে পরিবহনের ব্যবস্থা।
* প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও বিমা সুবিধা।
* জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স প্রদান এবং বৈদেশিক বিনিয়োগসংক্রান্ত সেবায় অগ্রাধিকার।
* রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং, ঋণ সুবিধা এবং কার্ডের মাধ্যমে সহজ অর্থ লেনদেনের সুযোগ।
* জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, কনস্যুলার সেবা, ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন সরকারি সেবায় অগ্রাধিকার।
পর্যায়ক্রমে বিতরণ
শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, আগস্টের মাঝামাঝি পরীক্ষামূলক উদ্বোধনের পর প্রথম ধাপে জনতা ব্যাংক প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করবে। সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এ-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের পর্যায়ক্রমে প্রবাসী কার্ডের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


























