০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত একাধিক গ্রাম

ষাটমাকন্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৮:১৩:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • / 100
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ইসলামপুর ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে শত শত মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি রক্ষায় প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।

বুধবার (৮ জুলাই) রাত প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ হঠাৎ ভেঙে যায়। মুহূর্তেই প্রবল স্রোতের পানি মখাবিল, শ্রীপুর, ভান্ডারীগাঁওসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে ঢুকে পড়ে। এতে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, আঙিনা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যায় এবং জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের দিকে বাঁধের বড় একটি অংশ ধসে পড়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বন্যার পানি গ্রামে প্রবেশ করে। অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। পানির উচ্চতা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে অব্যাহত বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মনু ও ধলাই নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে জেলার আরও বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল নতুন করে বন্যার ঝুঁকিতে পড়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ জানান, মখাবিল এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি সংস্কারের উদ্যোগ আগে থেকেই নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কাজ করার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএসএফ) আপত্তির কারণে নির্ধারিত পরিসরে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে যে অংশে কাজ করা হয়েছিল, সেখানে বাঁধ অক্ষত থাকলেও সংস্কারবঞ্চিত অংশেই ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ভাঙনকবলিত অংশে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কমলগঞ্জে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত একাধিক গ্রাম

আপডেট সময় : ০৮:১৩:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ইসলামপুর ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে শত শত মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি রক্ষায় প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।

বুধবার (৮ জুলাই) রাত প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ হঠাৎ ভেঙে যায়। মুহূর্তেই প্রবল স্রোতের পানি মখাবিল, শ্রীপুর, ভান্ডারীগাঁওসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে ঢুকে পড়ে। এতে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, আঙিনা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যায় এবং জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের দিকে বাঁধের বড় একটি অংশ ধসে পড়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বন্যার পানি গ্রামে প্রবেশ করে। অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। পানির উচ্চতা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে অব্যাহত বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মনু ও ধলাই নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে জেলার আরও বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল নতুন করে বন্যার ঝুঁকিতে পড়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ জানান, মখাবিল এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি সংস্কারের উদ্যোগ আগে থেকেই নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কাজ করার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএসএফ) আপত্তির কারণে নির্ধারিত পরিসরে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে যে অংশে কাজ করা হয়েছিল, সেখানে বাঁধ অক্ষত থাকলেও সংস্কারবঞ্চিত অংশেই ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ভাঙনকবলিত অংশে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।