০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্যারিসে উৎসবমুখর পরিবেশে বড়লেখা পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের প্রবাসীদের মিলনমেলা Logo যে কারণে বিশ্বকাপের আগে ইনস্টাগ্রামের সব পোস্ট ডিলিট করেন মাইকেল ওলিসে Logo মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্সে প্রশাসক নিয়োগ, ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন Logo বড়লেখায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা Logo ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিলেন সাদিক কায়েম Logo প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব Logo পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে মৌলভীবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা রাজনগর Logo বারাণসী সফরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, বিএইচইউ’র সঙ্গে একাডেমিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা Logo সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপরে, সুনামগঞ্জে বন্যা শঙ্কা অব্যাহত Logo ঢাকায় আজও বৃষ্টি, ৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে হাজারো নারী উদ্যোক্তার পাশে গ্রামীণ ইয়েমেন ফাউন্ডেশন

ষাটমাকন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৮:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • / 47
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও ইয়েমেনে নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে গ্রামীণ ইয়েমেন ফাউন্ডেশন (জিওয়াইএফ)। নোবেলজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্ভাবিত মাইক্রোক্রেডিট ও সোশ্যাল বিজনেস ধারণার ভিত্তিতে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিভিন্ন সামাজিক সেবার মাধ্যমে দেশটির পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

‘সোশ্যাল বিজনেস ডে ২০২৬’-এর সাইডলাইনে গ্রামীণ ইয়েমেন ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা নোবেলজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের অগ্রগতি, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

গ্রামীণ ট্রাস্টের কারিগরি সহায়তায় বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত গ্রামীণ মডেলকে ইয়েমেনের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হচ্ছে জিওয়াইএফের কার্যক্রম। ২০২০ সালের জুলাইয়ে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি ১২ হাজারের বেশি নারী উদ্যোক্তার ক্ষুদ্র উদ্যোগে ৬০ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও হাজারো নারী টেকসই জীবিকার সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি এই বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা পারিবারিক আয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে।

ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি জিওয়াইএফ বিভিন্ন সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগও বাস্তবায়ন করছে। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৫৮৮টি সৌরবিদ্যুৎ হোম সিস্টেম স্থাপন, ১ হাজার ৬৩টি ঠোঁট ও তালু কাটা (ক্লেফট লিপ ও প্যালেট) অস্ত্রোপচার, ৯ হাজার ১৬১টি ছানি অপারেশন এবং ৪ হাজার ৫৬২টি পারিবারিক পানির ট্যাংক নির্মাণ করেছে। এছাড়া ৫ হাজার বিছানাপত্র বিতরণ, ৭২৫টি শৌচাগার নির্মাণ এবং ৯ হাজার ২০০ জন নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র (ন্যাশনাল আইডি) পেতে সহায়তা করেছে।

স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে জিওয়াইএফ আটটি কিডনি পরিচর্যা কেন্দ্র পরিচালনা করছে। এছাড়া ৭৩ হাজার ৫০৪টি গবাদিপশুকে টিকা প্রদান এবং ১ হাজার ৩১টি পশু আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করেছে। শিক্ষা খাতে প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি বই বিতরণ করেছে এবং প্রবীণদের জন্য ২০টিরও বেশি গণশিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে।

গ্রামীণ মডেলের কার্যকর বাস্তবায়নে সহায়তা করতে গ্রামীণ ট্রাস্ট ইতোমধ্যে ইয়েমেনে ছয়জন রিসোর্স পার্সন নিয়োগ দিয়েছে। বর্তমানে তাদের মধ্যে দুজন প্রকল্প পরিচালক ও শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী তিন মাসের মধ্যে আরও চারজন রিসোর্স পার্সন সেখানে যোগ দেবেন।

বর্তমানে গ্রামীণ ইয়েমেন ফাউন্ডেশন ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আনুষ্ঠানিক মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। লাইসেন্স প্রাপ্তির পর এটি হবে ইয়েমেনের প্রথম গ্রামীণ মডেলভিত্তিক মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক এবং বাংলাদেশের বাইরে গ্রামীণ ট্রাস্টের আন্তর্জাতিক রিপ্লিকেশন কর্মসূচির আওতায় প্রতিষ্ঠিত প্রথম গ্রামীণ মডেলভিত্তিক মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক।

প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে ৩৫০টি শাখার মাধ্যমে ১০ লাখ ৬৩ হাজার ১১৬ জন নারী সদস্যের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা করছে জিওয়াইএফ।

এ প্রসঙ্গে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বিশ্বের অন্যতম নাজুক ও সংকটাপন্ন পরিবেশেও গ্রামীণ ইয়েমেন প্রমাণ করে চলেছে যে, সামাজিক উদ্ভাবন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সমন্বয় মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। এই মডেল একটি আরও সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাজ গঠনের বাস্তব পথ দেখাচ্ছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে হাজারো নারী উদ্যোক্তার পাশে গ্রামীণ ইয়েমেন ফাউন্ডেশন

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও ইয়েমেনে নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে গ্রামীণ ইয়েমেন ফাউন্ডেশন (জিওয়াইএফ)। নোবেলজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্ভাবিত মাইক্রোক্রেডিট ও সোশ্যাল বিজনেস ধারণার ভিত্তিতে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিভিন্ন সামাজিক সেবার মাধ্যমে দেশটির পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

‘সোশ্যাল বিজনেস ডে ২০২৬’-এর সাইডলাইনে গ্রামীণ ইয়েমেন ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা নোবেলজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের অগ্রগতি, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

গ্রামীণ ট্রাস্টের কারিগরি সহায়তায় বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত গ্রামীণ মডেলকে ইয়েমেনের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হচ্ছে জিওয়াইএফের কার্যক্রম। ২০২০ সালের জুলাইয়ে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি ১২ হাজারের বেশি নারী উদ্যোক্তার ক্ষুদ্র উদ্যোগে ৬০ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও হাজারো নারী টেকসই জীবিকার সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি এই বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা পারিবারিক আয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে।

ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি জিওয়াইএফ বিভিন্ন সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগও বাস্তবায়ন করছে। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৫৮৮টি সৌরবিদ্যুৎ হোম সিস্টেম স্থাপন, ১ হাজার ৬৩টি ঠোঁট ও তালু কাটা (ক্লেফট লিপ ও প্যালেট) অস্ত্রোপচার, ৯ হাজার ১৬১টি ছানি অপারেশন এবং ৪ হাজার ৫৬২টি পারিবারিক পানির ট্যাংক নির্মাণ করেছে। এছাড়া ৫ হাজার বিছানাপত্র বিতরণ, ৭২৫টি শৌচাগার নির্মাণ এবং ৯ হাজার ২০০ জন নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র (ন্যাশনাল আইডি) পেতে সহায়তা করেছে।

স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে জিওয়াইএফ আটটি কিডনি পরিচর্যা কেন্দ্র পরিচালনা করছে। এছাড়া ৭৩ হাজার ৫০৪টি গবাদিপশুকে টিকা প্রদান এবং ১ হাজার ৩১টি পশু আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করেছে। শিক্ষা খাতে প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি বই বিতরণ করেছে এবং প্রবীণদের জন্য ২০টিরও বেশি গণশিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে।

গ্রামীণ মডেলের কার্যকর বাস্তবায়নে সহায়তা করতে গ্রামীণ ট্রাস্ট ইতোমধ্যে ইয়েমেনে ছয়জন রিসোর্স পার্সন নিয়োগ দিয়েছে। বর্তমানে তাদের মধ্যে দুজন প্রকল্প পরিচালক ও শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী তিন মাসের মধ্যে আরও চারজন রিসোর্স পার্সন সেখানে যোগ দেবেন।

বর্তমানে গ্রামীণ ইয়েমেন ফাউন্ডেশন ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আনুষ্ঠানিক মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। লাইসেন্স প্রাপ্তির পর এটি হবে ইয়েমেনের প্রথম গ্রামীণ মডেলভিত্তিক মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক এবং বাংলাদেশের বাইরে গ্রামীণ ট্রাস্টের আন্তর্জাতিক রিপ্লিকেশন কর্মসূচির আওতায় প্রতিষ্ঠিত প্রথম গ্রামীণ মডেলভিত্তিক মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক।

প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে ৩৫০টি শাখার মাধ্যমে ১০ লাখ ৬৩ হাজার ১১৬ জন নারী সদস্যের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা করছে জিওয়াইএফ।

এ প্রসঙ্গে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বিশ্বের অন্যতম নাজুক ও সংকটাপন্ন পরিবেশেও গ্রামীণ ইয়েমেন প্রমাণ করে চলেছে যে, সামাজিক উদ্ভাবন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সমন্বয় মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। এই মডেল একটি আরও সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাজ গঠনের বাস্তব পথ দেখাচ্ছে।”