০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্যারিসে উৎসবমুখর পরিবেশে বড়লেখা পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের প্রবাসীদের মিলনমেলা Logo যে কারণে বিশ্বকাপের আগে ইনস্টাগ্রামের সব পোস্ট ডিলিট করেন মাইকেল ওলিসে Logo মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্সে প্রশাসক নিয়োগ, ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন Logo বড়লেখায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা Logo ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিলেন সাদিক কায়েম Logo প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব Logo পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে মৌলভীবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা রাজনগর Logo বারাণসী সফরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, বিএইচইউ’র সঙ্গে একাডেমিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা Logo সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপরে, সুনামগঞ্জে বন্যা শঙ্কা অব্যাহত Logo ঢাকায় আজও বৃষ্টি, ৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন সরকারের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী

ষাটমাকন্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / 62
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের দায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়ীদের বিচার অবশ্যই হবে, তবে বিচার করতে গিয়ে যেন কারও প্রতি অবিচার না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

৪ জুলাই (শনিবার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘শহীদদের আত্মত্যাগকে রাষ্ট্র তার সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে মূল্যায়ন করবে। একই সঙ্গে যাঁদের হত্যা করা হয়েছে, সেই হত্যাকাণ্ডের দায়ীদের এ দেশের আইন অনুযায়ী বিচার হবে।’

তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার যেমন মানুষের প্রতি অবিচার করেছে, বিচারের নামে আমরাও যেন কারও প্রতি অবিচার না করি। প্রয়োজনে বিচার প্রক্রিয়ায় সময় লাগুক, কিন্তু আইনের সব নিয়ম মেনেই প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৫ আগস্টের অর্জন কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়। এটি দেশের সব গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত ত্যাগের ফসল। তাঁদের লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন।’

শহীদ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনজন হারানোর শূন্যতা কখনো পূরণ হবে না। তবে সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে পারলে একদিন গর্ব করে বলতে পারবেন, তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে।’

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী জুলাই-আগস্টে অন্তত ৬৫ শিশু নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের কোনো অপরাধ ছিল না। তবু স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথে তারা জীবন দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হলেও তাঁর হিসাবে শুধু জুলাই আন্দোলনেই প্রায় ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সম্মেলনে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিরা তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ তুলে দেন। পরে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকেও তাঁকে স্মারক দেওয়া হয়।

জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। সরকারি গেজেটে অভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা ৮৩৪ জন উল্লেখ করা হলেও জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন সরকারের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১০:৫৯:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের দায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের দায়ীদের বিচার অবশ্যই হবে, তবে বিচার করতে গিয়ে যেন কারও প্রতি অবিচার না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

৪ জুলাই (শনিবার) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘শহীদদের আত্মত্যাগকে রাষ্ট্র তার সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে মূল্যায়ন করবে। একই সঙ্গে যাঁদের হত্যা করা হয়েছে, সেই হত্যাকাণ্ডের দায়ীদের এ দেশের আইন অনুযায়ী বিচার হবে।’

তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার যেমন মানুষের প্রতি অবিচার করেছে, বিচারের নামে আমরাও যেন কারও প্রতি অবিচার না করি। প্রয়োজনে বিচার প্রক্রিয়ায় সময় লাগুক, কিন্তু আইনের সব নিয়ম মেনেই প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৫ আগস্টের অর্জন কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়। এটি দেশের সব গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত ত্যাগের ফসল। তাঁদের লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন।’

শহীদ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনজন হারানোর শূন্যতা কখনো পূরণ হবে না। তবে সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে পারলে একদিন গর্ব করে বলতে পারবেন, তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের ভাগ্য পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে।’

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী জুলাই-আগস্টে অন্তত ৬৫ শিশু নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের কোনো অপরাধ ছিল না। তবু স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথে তারা জীবন দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হলেও তাঁর হিসাবে শুধু জুলাই আন্দোলনেই প্রায় ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সম্মেলনে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিরা তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ তুলে দেন। পরে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকেও তাঁকে স্মারক দেওয়া হয়।

জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। সরকারি গেজেটে অভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা ৮৩৪ জন উল্লেখ করা হলেও জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।