০৬:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্যারিসে উৎসবমুখর পরিবেশে বড়লেখা পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের প্রবাসীদের মিলনমেলা Logo যে কারণে বিশ্বকাপের আগে ইনস্টাগ্রামের সব পোস্ট ডিলিট করেন মাইকেল ওলিসে Logo মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্সে প্রশাসক নিয়োগ, ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন Logo বড়লেখায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা Logo ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিলেন সাদিক কায়েম Logo প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব Logo পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে মৌলভীবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা রাজনগর Logo বারাণসী সফরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, বিএইচইউ’র সঙ্গে একাডেমিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা Logo সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপরে, সুনামগঞ্জে বন্যা শঙ্কা অব্যাহত Logo ঢাকায় আজও বৃষ্টি, ৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

জুড়ী সীমান্তে ১০ জনকে পুশইনের অভিযোগ, তথ্য সংগ্রহের সূত্রে সাংবাদিক হেনস্তা

ষাটমাকন্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:২৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • / 135
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ১০ জন বাংলাদেশিকে পুশইন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। এ ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক খোর্শেদ আলম হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজন পুরুষ, সাতজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে গোয়ালবাড়ী এলাকায় দেখা যায়, বিজিবির পাহারায় দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাদের ফুলতলা সীমান্তের দিকে নেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকরা সেখানে পৌঁছালে শিলুয়া এলাকায় তাদের নামিয়ে দিয়ে বিজিবির সদস্যরা চলে যান। পরে তাদের বড়লেখার দিকে নেওয়া হয়।

পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের দাবি, তাদের বাড়ি নড়াইল ও সাতক্ষীরা জেলায়। বিভিন্ন সময়ে তারা যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে গিয়ে গুজরাটসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছিলেন। ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর বিএসএফ তাদের কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়।

তাদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার ভোরে বিজিবি তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরে বাসে তুলে দেওয়ার কথা বলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। কোথায় নেওয়া হচ্ছিল, তা তাদের জানানো হয়নি।

পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- রিহাদুল মোল্লা (৫৫), ফরিদা বেগম (৪০), লাবিবা আক্তার (৮), সুবা আক্তার (৩২), দিলারা বেগম (৩৮), রিতা বেগম (৪০), রিয়া বেগম (২৫), সাব্বির শেখ (১৯), লাইলি খাতুন (২৮) ও সালমা খাতুন (২৭)। তাঁদের মধ্যে নয়জনের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় এবং একজনের বাড়ি সাতক্ষীরায়।

স্থানীয় সাংবাদিক খোর্শেদ আলম অভিযোগ করেন, পুশইনের তথ্য জানতে তিনি ৫২ বিজিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিলে সেটি সরিয়ে ফেলতে বলা হয়। তাঁকে না পেয়ে বিজিবির সদস্যরা তাঁর ছোট ভাই তৌহিদ আলমকে লাঠিটিলা ক্যাম্পে নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

খোর্শেদ আলমের দাবি, পরে মোটরসাইকেলে ব্যারিকেড দিয়ে তাঁকে আটকের চেষ্টা করা হয়। এ সময় লাঠির আঘাতে মোটরসাইকেলের পার্কিং লাইট ভেঙে যায়। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলটি ক্যাম্পে নিয়ে গেলে তাকেও আটক করা হয়। ভোরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হলেও মোটরসাইকেলটি এখনো বিজিবির কাছে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে ৫২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আতাউর রহমান খান বলেন, সীমান্তে পুশইনের বিষয়ে বিজিবির অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। সীমান্ত নিরাপত্তায় বাহিনী সর্বদা সতর্ক রয়েছে। তবে জুড়ী সীমান্তের অভিযোগ কিংবা সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জুড়ী সীমান্তে ১০ জনকে পুশইনের অভিযোগ, তথ্য সংগ্রহের সূত্রে সাংবাদিক হেনস্তা

আপডেট সময় : ০৩:২৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ১০ জন বাংলাদেশিকে পুশইন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। এ ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক খোর্শেদ আলম হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজন পুরুষ, সাতজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে গোয়ালবাড়ী এলাকায় দেখা যায়, বিজিবির পাহারায় দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাদের ফুলতলা সীমান্তের দিকে নেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকরা সেখানে পৌঁছালে শিলুয়া এলাকায় তাদের নামিয়ে দিয়ে বিজিবির সদস্যরা চলে যান। পরে তাদের বড়লেখার দিকে নেওয়া হয়।

পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের দাবি, তাদের বাড়ি নড়াইল ও সাতক্ষীরা জেলায়। বিভিন্ন সময়ে তারা যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে গিয়ে গুজরাটসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছিলেন। ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর বিএসএফ তাদের কচুরগুল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়।

তাদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার ভোরে বিজিবি তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরে বাসে তুলে দেওয়ার কথা বলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। কোথায় নেওয়া হচ্ছিল, তা তাদের জানানো হয়নি।

পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- রিহাদুল মোল্লা (৫৫), ফরিদা বেগম (৪০), লাবিবা আক্তার (৮), সুবা আক্তার (৩২), দিলারা বেগম (৩৮), রিতা বেগম (৪০), রিয়া বেগম (২৫), সাব্বির শেখ (১৯), লাইলি খাতুন (২৮) ও সালমা খাতুন (২৭)। তাঁদের মধ্যে নয়জনের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় এবং একজনের বাড়ি সাতক্ষীরায়।

স্থানীয় সাংবাদিক খোর্শেদ আলম অভিযোগ করেন, পুশইনের তথ্য জানতে তিনি ৫২ বিজিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিলে সেটি সরিয়ে ফেলতে বলা হয়। তাঁকে না পেয়ে বিজিবির সদস্যরা তাঁর ছোট ভাই তৌহিদ আলমকে লাঠিটিলা ক্যাম্পে নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

খোর্শেদ আলমের দাবি, পরে মোটরসাইকেলে ব্যারিকেড দিয়ে তাঁকে আটকের চেষ্টা করা হয়। এ সময় লাঠির আঘাতে মোটরসাইকেলের পার্কিং লাইট ভেঙে যায়। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলটি ক্যাম্পে নিয়ে গেলে তাকেও আটক করা হয়। ভোরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হলেও মোটরসাইকেলটি এখনো বিজিবির কাছে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে ৫২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আতাউর রহমান খান বলেন, সীমান্তে পুশইনের বিষয়ে বিজিবির অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। সীমান্ত নিরাপত্তায় বাহিনী সর্বদা সতর্ক রয়েছে। তবে জুড়ী সীমান্তের অভিযোগ কিংবা সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।