০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্যারিসে উৎসবমুখর পরিবেশে বড়লেখা পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের প্রবাসীদের মিলনমেলা Logo যে কারণে বিশ্বকাপের আগে ইনস্টাগ্রামের সব পোস্ট ডিলিট করেন মাইকেল ওলিসে Logo মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্সে প্রশাসক নিয়োগ, ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন Logo বড়লেখায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা Logo ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিলেন সাদিক কায়েম Logo প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব Logo পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে মৌলভীবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা রাজনগর Logo বারাণসী সফরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, বিএইচইউ’র সঙ্গে একাডেমিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা Logo সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপরে, সুনামগঞ্জে বন্যা শঙ্কা অব্যাহত Logo ঢাকায় আজও বৃষ্টি, ৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

কুলাউড়ায় সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার অভিযোগ

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৪২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • / 106
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় সামাজিক বনায়নের বেশ কয়েকটি সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে আব্দুস সোবহান নামে এক উপকারভোগীর বিরুদ্ধে। আব্দুস সোবহান হলেন ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীরা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন। অবাধে গাছ কাটার কারণে একদিকে যেমন সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব আর অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন উপকারভোগীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিরার (২৮ জুন) গভীর রাতে কুলাউড়া-মৌলভীবাজার সড়কে সামাজিক বনায়নের আকাশমনি গাছ কাটার খবর পেয়ে কুলাউড়া বনবিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার রবীন্দ্র কুমার সিংহের নেতৃত্বে এক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের হলিছড়া চা-বাগানের মানিক বাবুর খেলার মাঠের পশ্চিম পাশ থেকে প্রায় ২৫ ঘনফুট কাঠ গাড়িসহ জব্দ করা হয়। অভিযানে কুলাউড়া রেঞ্জের ফরেস্টার আরিফুর রহমান, মেহেদী হাসান, রেঞ্জ সহযোগী প্রতাপ চন্দ্র দেসহ বনায়নের উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

কুলাউড়া বনবিভাগ ও বনায়নের উপকারভোগী সূত্রে জানা যায়, ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে কুলাউড়া নার্সারী অফিসের (এসএফএনটিসি) আওতাধীন কুলাউড়া এনসি স্কুলের সম্মুখ থেকে ব্রাহ্মণবাজার লুয়াইউনি চা-বাগানের শেষ সীমানা পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার স্টিট বাগান সৃজন করা হয়। ওই বাগানে অনেক উপকারভোগী রয়েছে। বর্তমানে ওই বনায়নের গাছগুলো অনেক মূল্যবান ও বড় হওয়াতে এলাকার প্রভাবশালী অনেক কাঠ ব্যবসায়ীদের লোলুপদৃষ্টি পড়ে।

এমনকি কালবৈশাখীর ঝড়ে এই বনায়নের অনেক গাছ ভেঙ্গে পড়ে। এতে অনেক দুর্ঘটনাও ঘটে। সম্প্রতি আব্দুস সোবহান গং এই বনায়ন থেকে বেশ কয়েকটি আকাশমনি গাছ কর্তন করে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ উঠে। এছাড়া এই বনানয়ন থেকে ওই চক্রটি প্রায়শই গাছ কর্তন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে এই চক্রটি জুন মাসের প্রথম দিকে আরো অনেক গাছ কর্তন করে। পরে বনবিভাগ অভিযান চালিয়ে ২০ ফুট কাঠ জব্দ করে।

সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী মোস্তফা মাহমুদ, জামাল আহমদ বলেন, আব্দুস সোবহান গং দীর্ঘদিন থেকে সামাজিক বনায়নের গাছ অবাধে কাটছেন। গাছ কাটার বিষয়টি আমরা বনবিভাগকে জানিয়েছি। এলাকায় সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী ও সরকারের রাজস্ব রক্ষার জন্য জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বনবিভাগের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সোবহান বলেন, কুলাউড়া-ব্রাহ্মণবাজার সড়কে সামাজিক বনায়নটি আমি অনেক পরিশ্রম করে করেছি। বনায়নে উপকারভোগীর সংখ্যা ২৯ জন। এ কাজে আমাকে অন্য উপকারভোগীরা বনায়নের শুরুতে তেমনটা সহযোগিতা করেনি। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ গাছগুলো কেটে আমি জ্বালানি কাঠ হিসেবে ব্যবহার করেছি।

কুলাউড়া বনবিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার রবীন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে প্রায় ২৫ ঘনফুট কাঠ জব্দ করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে বনআইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন। তিনি আরো বলেন, এই বনায়নের বেশিরভাগ গাছগুলো পরিপক্ক। এগুলো মার্কিং করে কর্তনের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি প্রেরণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কুলাউড়ায় সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:৪২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় সামাজিক বনায়নের বেশ কয়েকটি সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে আব্দুস সোবহান নামে এক উপকারভোগীর বিরুদ্ধে। আব্দুস সোবহান হলেন ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীরা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন। অবাধে গাছ কাটার কারণে একদিকে যেমন সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব আর অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন উপকারভোগীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিরার (২৮ জুন) গভীর রাতে কুলাউড়া-মৌলভীবাজার সড়কে সামাজিক বনায়নের আকাশমনি গাছ কাটার খবর পেয়ে কুলাউড়া বনবিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার রবীন্দ্র কুমার সিংহের নেতৃত্বে এক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের হলিছড়া চা-বাগানের মানিক বাবুর খেলার মাঠের পশ্চিম পাশ থেকে প্রায় ২৫ ঘনফুট কাঠ গাড়িসহ জব্দ করা হয়। অভিযানে কুলাউড়া রেঞ্জের ফরেস্টার আরিফুর রহমান, মেহেদী হাসান, রেঞ্জ সহযোগী প্রতাপ চন্দ্র দেসহ বনায়নের উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

কুলাউড়া বনবিভাগ ও বনায়নের উপকারভোগী সূত্রে জানা যায়, ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে কুলাউড়া নার্সারী অফিসের (এসএফএনটিসি) আওতাধীন কুলাউড়া এনসি স্কুলের সম্মুখ থেকে ব্রাহ্মণবাজার লুয়াইউনি চা-বাগানের শেষ সীমানা পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার স্টিট বাগান সৃজন করা হয়। ওই বাগানে অনেক উপকারভোগী রয়েছে। বর্তমানে ওই বনায়নের গাছগুলো অনেক মূল্যবান ও বড় হওয়াতে এলাকার প্রভাবশালী অনেক কাঠ ব্যবসায়ীদের লোলুপদৃষ্টি পড়ে।

এমনকি কালবৈশাখীর ঝড়ে এই বনায়নের অনেক গাছ ভেঙ্গে পড়ে। এতে অনেক দুর্ঘটনাও ঘটে। সম্প্রতি আব্দুস সোবহান গং এই বনায়ন থেকে বেশ কয়েকটি আকাশমনি গাছ কর্তন করে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ উঠে। এছাড়া এই বনানয়ন থেকে ওই চক্রটি প্রায়শই গাছ কর্তন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে এই চক্রটি জুন মাসের প্রথম দিকে আরো অনেক গাছ কর্তন করে। পরে বনবিভাগ অভিযান চালিয়ে ২০ ফুট কাঠ জব্দ করে।

সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী মোস্তফা মাহমুদ, জামাল আহমদ বলেন, আব্দুস সোবহান গং দীর্ঘদিন থেকে সামাজিক বনায়নের গাছ অবাধে কাটছেন। গাছ কাটার বিষয়টি আমরা বনবিভাগকে জানিয়েছি। এলাকায় সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী ও সরকারের রাজস্ব রক্ষার জন্য জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বনবিভাগের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সোবহান বলেন, কুলাউড়া-ব্রাহ্মণবাজার সড়কে সামাজিক বনায়নটি আমি অনেক পরিশ্রম করে করেছি। বনায়নে উপকারভোগীর সংখ্যা ২৯ জন। এ কাজে আমাকে অন্য উপকারভোগীরা বনায়নের শুরুতে তেমনটা সহযোগিতা করেনি। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ গাছগুলো কেটে আমি জ্বালানি কাঠ হিসেবে ব্যবহার করেছি।

কুলাউড়া বনবিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার রবীন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে প্রায় ২৫ ঘনফুট কাঠ জব্দ করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে বনআইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন। তিনি আরো বলেন, এই বনায়নের বেশিরভাগ গাছগুলো পরিপক্ক। এগুলো মার্কিং করে কর্তনের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি প্রেরণ করা হবে।