০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্যারিসে উৎসবমুখর পরিবেশে বড়লেখা পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের প্রবাসীদের মিলনমেলা Logo যে কারণে বিশ্বকাপের আগে ইনস্টাগ্রামের সব পোস্ট ডিলিট করেন মাইকেল ওলিসে Logo মৌলভীবাজার চেম্বার অব কমার্সে প্রশাসক নিয়োগ, ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন Logo বড়লেখায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা Logo ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিলেন সাদিক কায়েম Logo প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব Logo পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে মৌলভীবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা রাজনগর Logo বারাণসী সফরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, বিএইচইউ’র সঙ্গে একাডেমিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা Logo সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপরে, সুনামগঞ্জে বন্যা শঙ্কা অব্যাহত Logo ঢাকায় আজও বৃষ্টি, ৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

ভারতকে আন্তর্জাতিক বিচারের মুখোমুখি করার দাবি এনসিপির

কুলাউড়ায় সীমান্তে নিহত মুজিব আলীর পরিবারের পাশে নাসীরুদ্দীন ও সারজিস

ষাটমাকন্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:১৯:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • / 105
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত মুজিব আলীর বাড়ি পরিদর্শন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। শুক্রবার বিকেলে তারা নিহতের কবর জিয়ারত করেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান এবং পরে সীমান্ত এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দেন।

পথসভায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায় ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তাঁর ভাষ্য, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত না হলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হবে না।

তিনি বলেন, সীমান্তে কেবল কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সীমান্ত অঞ্চলে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য মৌলিক সেবার ঘাটতি রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি সীমান্তবাসীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

নাসীরুদ্দীন আরও বলেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে আধুনিক অস্ত্র, টহল যান, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং উন্নত বেতন-ভাতার মাধ্যমে আরও সক্ষম করে তুলতে হবে। এনসিপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সীমান্তে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সভায় সারজিস আলম বলেন, সীমান্তে অন্যায় ও হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি আগামীর বাংলাদেশে হতে দেওয়া হবে না। তিনি সীমান্তবাসীকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সীমান্তের প্রতিটি নাগরিককে নিরাপত্তার প্রশ্নে একজন বিজিবি সদস্যের মতো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও ‘পুশ-ইন’ প্রতিরোধে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, দলটি যদি জনগণের স্বার্থ ও দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয় এবং ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদায় কথা বলতে পারে, তাহলে শুধু এনসিপি নয়, দেশের ছাত্র-জনতাও তাদের পাশে থাকবে।

এর আগে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দত্তগ্রামে নিহত মুজিব আলীর কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। পরে সীমান্তবর্তী চাতলা বাজারে আয়োজিত পথসভায় অংশ নেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুন ভারতীয় সীমান্তে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় বিএসএফের গুলিতে ভারতের অভ্যন্তরে নিহত হন কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রামের বাসিন্দা মো. মুজিব আলী। তিনি মৃত অজিব উল্লাহর ছেলে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভারতকে আন্তর্জাতিক বিচারের মুখোমুখি করার দাবি এনসিপির

কুলাউড়ায় সীমান্তে নিহত মুজিব আলীর পরিবারের পাশে নাসীরুদ্দীন ও সারজিস

আপডেট সময় : ০৯:১৯:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত মুজিব আলীর বাড়ি পরিদর্শন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। শুক্রবার বিকেলে তারা নিহতের কবর জিয়ারত করেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান এবং পরে সীমান্ত এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দেন।

পথসভায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায় ভারতকে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তাঁর ভাষ্য, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত না হলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হবে না।

তিনি বলেন, সীমান্তে কেবল কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সীমান্ত অঞ্চলে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য মৌলিক সেবার ঘাটতি রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি সীমান্তবাসীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

নাসীরুদ্দীন আরও বলেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে আধুনিক অস্ত্র, টহল যান, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং উন্নত বেতন-ভাতার মাধ্যমে আরও সক্ষম করে তুলতে হবে। এনসিপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সীমান্তে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সভায় সারজিস আলম বলেন, সীমান্তে অন্যায় ও হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি আগামীর বাংলাদেশে হতে দেওয়া হবে না। তিনি সীমান্তবাসীকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সীমান্তের প্রতিটি নাগরিককে নিরাপত্তার প্রশ্নে একজন বিজিবি সদস্যের মতো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও ‘পুশ-ইন’ প্রতিরোধে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, দলটি যদি জনগণের স্বার্থ ও দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয় এবং ভারতের সঙ্গে সমমর্যাদায় কথা বলতে পারে, তাহলে শুধু এনসিপি নয়, দেশের ছাত্র-জনতাও তাদের পাশে থাকবে।

এর আগে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দত্তগ্রামে নিহত মুজিব আলীর কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। পরে সীমান্তবর্তী চাতলা বাজারে আয়োজিত পথসভায় অংশ নেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুন ভারতীয় সীমান্তে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় বিএসএফের গুলিতে ভারতের অভ্যন্তরে নিহত হন কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রামের বাসিন্দা মো. মুজিব আলী। তিনি মৃত অজিব উল্লাহর ছেলে।