০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

বিশ্বকাপে প্রথম ধাক্কা ব্রাজিলের, কৌশলে জিতে নিল মরক্কো

ছাদিক হোসেন, ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:১০:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 109
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় আর হলুদ জার্সির সমুদ্রের মাঝেও প্রত্যাশিত জয় পেল না ব্রাজিল। আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কো–এর সুসংগঠিত রক্ষণ ও পরিকল্পিত প্রতিআক্রমণে আটকে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচ শেষ হয় ১–১ সমতায়, যেখানে দুই দলই নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতার দিক স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিলের খেলায় ছিল অস্বাভাবিক ধীরগতি। ৪–২–৩–১ ফরমেশনে সাজানো দলটি প্রথমদিকে আক্রমণে ধার তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ইনজুরি থেকে পুরোপুরি ফিট না হয়ে মাঠে নামা তারকা নেইমারের অনুপস্থিতি ব্রাজিলের আক্রমণভাগে বড় প্রভাব ফেলে। তার জায়গায় মূল ভরসা হয়ে ওঠেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বাঁ পাশ দিয়ে গতি ও ড্রিবলিংয়ের মাধ্যমে তিনি একাধিকবার আক্রমণ তৈরি করলেও সতীর্থদের যথাযথ সাপোর্ট না পাওয়ায় বেশিরভাগ সুযোগই কাজে লাগেনি। মাঝমাঠে ক্যাসেমিরো ছিলেন তুলনামূলক নিষ্প্রভ, ফলে দলের ভারসাম্য নষ্ট হয়।

অন্যদিকে মরক্কোর খেলা ছিল অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিকল্পিত। মাঝমাঠ থেকে দ্রুত থ্রু পাসে আক্রমণে উঠে গিয়ে ২১তম মিনিটে তারা গোল আদায় করে নেয়। এই গোলেই ম্যাচে এগিয়ে যায় মরক্কো এবং ব্রাজিলকে চাপের মধ্যে ফেলে দেয়।

মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি ছিলেন দলের অন্যতম প্রধান শক্তি। ডান পাশ দিয়ে বারবার আক্রমণে উঠে তিনি ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখেন। রক্ষণে তাদের সংগঠিত অবস্থান এবং গোলরক্ষকের সঙ্গে সমন্বিত খেলা ব্রাজিলের আক্রমণকে বারবার থামিয়ে দেয়।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল আক্রমণের গতি বাড়ালেও শেষ মুহূর্তে গোলের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। রাফিনহা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণ তৈরি করলেও মরক্কোর রক্ষণ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় তা সফল হয়নি।

পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচটি ছিল প্রায় সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বল দখল, পাসিং এবং শটের দিক থেকে দুই দলই কাছাকাছি ছিল, তবে সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে মরক্কো ছিল বেশি কার্যকর।

সব মিলিয়ে এই ম্যাচে পরিষ্কার হয়েছে, আধুনিক ফুটবলে শুধু নাম বা ইতিহাস নয়, প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট কৌশল ও বাস্তবায়ন। মরক্কো সেটিই করে দেখিয়েছে, আর ব্রাজিল পেয়েছে কঠিন এক বাস্তবতার শিক্ষা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিশ্বকাপে প্রথম ধাক্কা ব্রাজিলের, কৌশলে জিতে নিল মরক্কো

আপডেট সময় : ০৮:১০:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় আর হলুদ জার্সির সমুদ্রের মাঝেও প্রত্যাশিত জয় পেল না ব্রাজিল। আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কো–এর সুসংগঠিত রক্ষণ ও পরিকল্পিত প্রতিআক্রমণে আটকে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচ শেষ হয় ১–১ সমতায়, যেখানে দুই দলই নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতার দিক স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিলের খেলায় ছিল অস্বাভাবিক ধীরগতি। ৪–২–৩–১ ফরমেশনে সাজানো দলটি প্রথমদিকে আক্রমণে ধার তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ইনজুরি থেকে পুরোপুরি ফিট না হয়ে মাঠে নামা তারকা নেইমারের অনুপস্থিতি ব্রাজিলের আক্রমণভাগে বড় প্রভাব ফেলে। তার জায়গায় মূল ভরসা হয়ে ওঠেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বাঁ পাশ দিয়ে গতি ও ড্রিবলিংয়ের মাধ্যমে তিনি একাধিকবার আক্রমণ তৈরি করলেও সতীর্থদের যথাযথ সাপোর্ট না পাওয়ায় বেশিরভাগ সুযোগই কাজে লাগেনি। মাঝমাঠে ক্যাসেমিরো ছিলেন তুলনামূলক নিষ্প্রভ, ফলে দলের ভারসাম্য নষ্ট হয়।

অন্যদিকে মরক্কোর খেলা ছিল অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিকল্পিত। মাঝমাঠ থেকে দ্রুত থ্রু পাসে আক্রমণে উঠে গিয়ে ২১তম মিনিটে তারা গোল আদায় করে নেয়। এই গোলেই ম্যাচে এগিয়ে যায় মরক্কো এবং ব্রাজিলকে চাপের মধ্যে ফেলে দেয়।

মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি ছিলেন দলের অন্যতম প্রধান শক্তি। ডান পাশ দিয়ে বারবার আক্রমণে উঠে তিনি ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখেন। রক্ষণে তাদের সংগঠিত অবস্থান এবং গোলরক্ষকের সঙ্গে সমন্বিত খেলা ব্রাজিলের আক্রমণকে বারবার থামিয়ে দেয়।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল আক্রমণের গতি বাড়ালেও শেষ মুহূর্তে গোলের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। রাফিনহা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণ তৈরি করলেও মরক্কোর রক্ষণ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় তা সফল হয়নি।

পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচটি ছিল প্রায় সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বল দখল, পাসিং এবং শটের দিক থেকে দুই দলই কাছাকাছি ছিল, তবে সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে মরক্কো ছিল বেশি কার্যকর।

সব মিলিয়ে এই ম্যাচে পরিষ্কার হয়েছে, আধুনিক ফুটবলে শুধু নাম বা ইতিহাস নয়, প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট কৌশল ও বাস্তবায়ন। মরক্কো সেটিই করে দেখিয়েছে, আর ব্রাজিল পেয়েছে কঠিন এক বাস্তবতার শিক্ষা।