সিলেটে ভোররাতের নির্মমতা
ফজরের নামাজে মসজিদে পিতা, ঘরে দেড় বছরের কন্যাকে গলা কেটে হত্যা করলেন মা
- আপডেট সময় : ১১:৩৫:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
- / 52
ফজরের আজানের সুরে যখন গ্রামের মানুষ ঘুম ভেঙে নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় সিলেটে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ও শিউরে ওঠা ঘটনা। ফজরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে গিয়েছিলেন এক পিতা। আর সেই সুযোগে ঘরের ভেতর নিজের দেড় বছরের নিষ্পাপ কন্যাশিশুকে হাত-পা বেঁধে ধারালো বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন জন্মদাত্রী মা।
শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) ভোরে সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার পুরাতন কালারুকা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম মাইমুনা জান্নাত তোহা (১ বছর ৮ মাস)। সে আমির আলী ও সুবিনা জান্নাত দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে সবার ছোট। ঘটনার পর অভিযুক্ত মা সুবিনা জান্নাতকে (২৫) আটক করেছে জালালাবাদ থানা পুলিশ।

যেভাবে ঘটল মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে আমির আলী স্ত্রী সুবিনা জান্নাতকে নামাজের জন্য ডেকে নিজে গ্রামের মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করতে যান। স্বামী বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর সুবিনা ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর ছোট্ট তোহাকে মেঝেতে ফেলে হাত-পা বেঁধে রান্নাঘরের ধারালো বটি দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডটি ছিল অত্যন্ত নৃশংস ও বিভীষিকাময়। শিশুটির চিৎকারও আশপাশের কেউ শুনতে পাননি।
আরেক সন্তান অল্পের জন্য রক্ষা
পুলিশ জানায়, তোহাকে হত্যার পর সুবিনা অপর সন্তানকেও হত্যার চেষ্টা করেন। তবে শিশুটি মায়ের হাত থেকে কোনোভাবে ছুটে বেরিয়ে গিয়ে সরাসরি মসজিদে থাকা বাবাকে খবর দেয়।
নামাজরত অবস্থায় সন্তানের কান্না শুনে আমির আলী দ্রুত বাড়িতে ছুটে আসেন। প্রতিবেশীদের নিয়ে ঘরে ঢুকে তিনি দেখতে পান, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ছোট মেয়ে তোহার নিথর দেহ। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত মাকে ঘরের ভেতর আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন।
ঘটনাস্থলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
খবর পেয়ে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ ঘাতক মাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা বটি আলামত হিসেবে জব্দ করে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন,
“প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শিশুটির মা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। নিহত শিশুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
এলাকায় শোকের ছায়া
এ ঘটনার পর পুরো পুরাতন কালারুকা গ্রামে নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্কের ছায়া। স্থানীয়রা জানান, সুবিনা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। তবে তার চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণের অভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিষ্পাপ শিশু তোহার মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো এলাকাবাসীকেই স্তব্ধ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা এবং পারিবারিক সচেতনতার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।























