১০:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

বানরের উপদ্রব কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে

কৃষি জমিতে বানরের উপদ্রব কমাতে লাঠিটিলায় বৃক্ষরোপণ

খোর্শেদ আলম, জুড়ী উপজেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:২২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / 67
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনের পার্শ্ববর্তী এলাকায় কৃষি জমিতে বানরের উপদ্রব কমাতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জুড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের অর্থায়নে বন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার (০৭ মে) লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনের জড়িছড়া এলাকায় ফলজ, বনজ, ঔষধি ও পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বনাঞ্চলে খাদ্যের সংকট এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় বন্য প্রাণী, বিশেষ করে বানর, লোকালয়ে নেমে এসে কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বনের ভেতরেই তাদের জন্য খাদ্যের উৎস তৈরি করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আয়োজকরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জুড়ীর বিভিন্ন এলাকায় বানরের উপদ্রব কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কমলা, লিচু, কলা, আম ও আনারসসহ বিভিন্ন কৃষি ফসল নষ্ট করছে বানর। বনে পর্যাপ্ত খাদ্য নিশ্চিত করা গেলে বানরের লোকালয়ে আসা অনেকাংশে কমে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান বলেন, “বানরের উপদ্রবের কারণে প্রত্যাশিত পরিমাণ ফসল উৎপাদন হচ্ছে না। কচু গাছ পর্যন্ত তুলে খাচ্ছে বানর। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গাছ লাগানো বাড়ানো গেলে কৃষকরা কৃষিকাজে আরও উৎসাহ পাবেন এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে বাইরে থেকে সবজি আমদানির প্রয়োজনও কমে আসবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর বলেন, “২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। এটি নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। জুড়ী উপজেলার সাবেক ইউএনও মারুফ দস্তেগীর এ প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। লাঠিটিলার মতো একটি প্রাকৃতিক সম্পদ আমাদের জন্য গর্বের। স্থানীয় জনগণ, বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে এ ধরনের কার্যক্রম আরও বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি রোপণ করা গাছগুলোর পরিচর্যাতেও সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।”

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বছরের পর বছর ধরে বানরের আক্রমণে তাদের বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। বনে ফলজ গাছ বাড়লে বানর সেখানেই খাদ্য পাবে এবং কৃষিজমিতে উপদ্রব কমবে বলে তারা মনে করছেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, গোয়ালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ূম, ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, জুড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাদ উদ্দিন, লাঠিটিলা বিট কর্মকর্তা ফয়সল কবির, পুটিছড়া বিট কর্মকর্তা মো. সাজন আহমদ, পরিবেশকর্মী খোর্শেদ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বানরের উপদ্রব কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে

কৃষি জমিতে বানরের উপদ্রব কমাতে লাঠিটিলায় বৃক্ষরোপণ

আপডেট সময় : ০৪:২২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনের পার্শ্ববর্তী এলাকায় কৃষি জমিতে বানরের উপদ্রব কমাতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। জুড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের অর্থায়নে বন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার (০৭ মে) লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনের জড়িছড়া এলাকায় ফলজ, বনজ, ঔষধি ও পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বনাঞ্চলে খাদ্যের সংকট এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় বন্য প্রাণী, বিশেষ করে বানর, লোকালয়ে নেমে এসে কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বনের ভেতরেই তাদের জন্য খাদ্যের উৎস তৈরি করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আয়োজকরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জুড়ীর বিভিন্ন এলাকায় বানরের উপদ্রব কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কমলা, লিচু, কলা, আম ও আনারসসহ বিভিন্ন কৃষি ফসল নষ্ট করছে বানর। বনে পর্যাপ্ত খাদ্য নিশ্চিত করা গেলে বানরের লোকালয়ে আসা অনেকাংশে কমে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান বলেন, “বানরের উপদ্রবের কারণে প্রত্যাশিত পরিমাণ ফসল উৎপাদন হচ্ছে না। কচু গাছ পর্যন্ত তুলে খাচ্ছে বানর। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গাছ লাগানো বাড়ানো গেলে কৃষকরা কৃষিকাজে আরও উৎসাহ পাবেন এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে বাইরে থেকে সবজি আমদানির প্রয়োজনও কমে আসবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর বলেন, “২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। এটি নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। জুড়ী উপজেলার সাবেক ইউএনও মারুফ দস্তেগীর এ প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। লাঠিটিলার মতো একটি প্রাকৃতিক সম্পদ আমাদের জন্য গর্বের। স্থানীয় জনগণ, বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে এ ধরনের কার্যক্রম আরও বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি রোপণ করা গাছগুলোর পরিচর্যাতেও সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।”

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বছরের পর বছর ধরে বানরের আক্রমণে তাদের বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। বনে ফলজ গাছ বাড়লে বানর সেখানেই খাদ্য পাবে এবং কৃষিজমিতে উপদ্রব কমবে বলে তারা মনে করছেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, গোয়ালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ূম, ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, জুড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাদ উদ্দিন, লাঠিটিলা বিট কর্মকর্তা ফয়সল কবির, পুটিছড়া বিট কর্মকর্তা মো. সাজন আহমদ, পরিবেশকর্মী খোর্শেদ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।