০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৬-২৩ দিনের লম্বা ছুটি আসছে Logo কুলাউড়ায় নবাগত ইউএনও সানজিদা আক্তারের দায়িত্বভার গ্রহণ Logo কুলাউড়া বিএনপিকে সুসংগঠিত করতে বিভিন্ন ইউনিয়ন চষে বেড়াচ্ছেন এমপি শওকতুল ইসলাম Logo বড়লেখায় ইউএনও’র সাথে নবগঠিত ব্যবসায়ী সমিতির সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo বিশ্বমঞ্চে ভয়ংকর হতে যাচ্ছে যে দলগুলোর আক্রমণভাগ Logo দেশীয় মাছ রক্ষায় বড়লেখায় অভিযান, অপসারণ করা হলো অবৈধ বাঁধ Logo হাকালুকিতে ১ লাখ টাকার নিষিদ্ধ জাল ও পোনা মাছ জব্দ Logo বড়লেখায় এক কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ Logo বড়লেখায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ওসির সাথে হাজিগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির মতবিনিময় Logo শিল্পী সমিতির নির্বাচনে দুই কিংবদন্তির সন্তানের প্যানেল

কুলাউড়ায় পাবলিক লাইব্রেরী পুনঃস্থাপনের দাবিতে ইউএনও বরাবরে স্মারকলিপি

মোঃ মহিউদ্দিন, কুলাউড়া ::
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 41
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ঐতিহ্যবাহী ডাকবাংলো মাঠের এক পাশে স্থাপিত পাবলিক লাইব্রেরির পুরোনো ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ায় প্রশাসনের উদ্যোগে ভেঙে ফেলা হয়। পরে এটি পুনঃস্থাপনে আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্ধারিত স্থানে নতুন করে পুনরায় একটি আধুনিক পাবলিক লাইব্রেরিটি স্থাপন ও চালুর দাবিতে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে কুলাউড়ার ‘‘স্রোত সাহিত্য পর্ষদ’-এর উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলাম শামীম, সিনিয়র সাংবাদিক খালেদ পারভেজ বখ্শ, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্মাল্য মিত্র সুমন, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী, ব্যাংক কর্মকর্তা এনাম উদ্দিন, স্রোত সাহিত্য পর্ষদের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম ইমন, যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল আলম জুবেল, কামরাঙ্গা সম্পাদক কামরুল হাসান প্রমুখ।

এর আগে পাবলিক লাইব্রেরি পুনরায় স্থাপন করে তা চালুর দাবিতে গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শহরের দক্ষিণ বাজার এলাকার একটি কমিউনিটি হলে ‘স্রোত সাহিত্য পর্ষদ এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের লোকজন অংশ নেন।

এতে স্রোত সাহিত্য পর্ষদের আহ্বায়ক নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফজলুল হক, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাবেক আহ্বায়ক রেদওয়ান খান, প্রবীণ সাংবাদিক সুশীল সেনগুপ্ত, নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন, বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলাম শামীম, কুলাউড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম টিপু, লেখক এ এফ এম ফৌজি চৌধুরী, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিপার আহমেদ, বিএনপি নেতা সুফিয়ান আহমেদ, সাংবাদিক মোক্তাদির হোসেন প্রমুখ।

জানা গেছে, ১৯৮৪ সালের ২৬ জুন উপজেলা প্রশাসন কুলাউড়া ডাকবাংলো মাঠের এক পাশে টিনশেডের আধা পাকা একটি ঘরে কুলাউড়া পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপন করে। পাবলিক সেখানে প্রায় আড়াই হাজার বিভিন্ন ধরনের বই ও সংবাদপত্র ছিল। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পাঠকদের সমাগম হতো। একপর্যায়ে ভবনটি পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ায় ২০১৫ সালের দিকে প্রশাসন সেটি ভেঙে দেয়। পাঠাগারটির অস্তিত্ব আজ আর নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত স্থানে পাঠাগার পুনরায় স্থাপন করে তা চালু করতে হবে।

পাবলিক লাইব্রেরীর ৫ নম্বর সদস্য ও কুলাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মছব্বির আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগে পাবলিক লাইব্রেরীতে আমরা নিয়মিত অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিদের লেখা দূর্লভ বইগুলো পড়তাম। যে বইগুলো অন্যত্র পাওয়া দুষ্কর। প্রতি সপ্তাহে দুটি করে বই পড়তাম। বছরে ত্রিশ টাকা ফি: দিতাম। বর্তমানে পাবলিক লাইব্রেরী না থাকায় আমরা কোন বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছি না। আমি জোর দাবি জানাচ্ছি, অচিরেই যেন এই লাইব্রেরীর কার্যক্রম চালু করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন বলেন, লাইব্রেরী পুনঃস্থাপনের দাবিতে একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব আকারে পাঠানো হবে। তিনি আরো বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে ডাকবাংলো মাঠে প্রাথমিকভাবে পাবলিক লাইব্রেরীর কার্যক্রম চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কুলাউড়ায় পাবলিক লাইব্রেরী পুনঃস্থাপনের দাবিতে ইউএনও বরাবরে স্মারকলিপি

আপডেট সময় : ০৬:৩৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ঐতিহ্যবাহী ডাকবাংলো মাঠের এক পাশে স্থাপিত পাবলিক লাইব্রেরির পুরোনো ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ায় প্রশাসনের উদ্যোগে ভেঙে ফেলা হয়। পরে এটি পুনঃস্থাপনে আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্ধারিত স্থানে নতুন করে পুনরায় একটি আধুনিক পাবলিক লাইব্রেরিটি স্থাপন ও চালুর দাবিতে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে কুলাউড়ার ‘‘স্রোত সাহিত্য পর্ষদ’-এর উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলাম শামীম, সিনিয়র সাংবাদিক খালেদ পারভেজ বখ্শ, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্মাল্য মিত্র সুমন, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী, ব্যাংক কর্মকর্তা এনাম উদ্দিন, স্রোত সাহিত্য পর্ষদের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম ইমন, যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল আলম জুবেল, কামরাঙ্গা সম্পাদক কামরুল হাসান প্রমুখ।

এর আগে পাবলিক লাইব্রেরি পুনরায় স্থাপন করে তা চালুর দাবিতে গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শহরের দক্ষিণ বাজার এলাকার একটি কমিউনিটি হলে ‘স্রোত সাহিত্য পর্ষদ এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের লোকজন অংশ নেন।

এতে স্রোত সাহিত্য পর্ষদের আহ্বায়ক নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফজলুল হক, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাবেক আহ্বায়ক রেদওয়ান খান, প্রবীণ সাংবাদিক সুশীল সেনগুপ্ত, নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন, বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলাম শামীম, কুলাউড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম টিপু, লেখক এ এফ এম ফৌজি চৌধুরী, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিপার আহমেদ, বিএনপি নেতা সুফিয়ান আহমেদ, সাংবাদিক মোক্তাদির হোসেন প্রমুখ।

জানা গেছে, ১৯৮৪ সালের ২৬ জুন উপজেলা প্রশাসন কুলাউড়া ডাকবাংলো মাঠের এক পাশে টিনশেডের আধা পাকা একটি ঘরে কুলাউড়া পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপন করে। পাবলিক সেখানে প্রায় আড়াই হাজার বিভিন্ন ধরনের বই ও সংবাদপত্র ছিল। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পাঠকদের সমাগম হতো। একপর্যায়ে ভবনটি পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ায় ২০১৫ সালের দিকে প্রশাসন সেটি ভেঙে দেয়। পাঠাগারটির অস্তিত্ব আজ আর নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত স্থানে পাঠাগার পুনরায় স্থাপন করে তা চালু করতে হবে।

পাবলিক লাইব্রেরীর ৫ নম্বর সদস্য ও কুলাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মছব্বির আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগে পাবলিক লাইব্রেরীতে আমরা নিয়মিত অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিদের লেখা দূর্লভ বইগুলো পড়তাম। যে বইগুলো অন্যত্র পাওয়া দুষ্কর। প্রতি সপ্তাহে দুটি করে বই পড়তাম। বছরে ত্রিশ টাকা ফি: দিতাম। বর্তমানে পাবলিক লাইব্রেরী না থাকায় আমরা কোন বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছি না। আমি জোর দাবি জানাচ্ছি, অচিরেই যেন এই লাইব্রেরীর কার্যক্রম চালু করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন বলেন, লাইব্রেরী পুনঃস্থাপনের দাবিতে একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব আকারে পাঠানো হবে। তিনি আরো বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে ডাকবাংলো মাঠে প্রাথমিকভাবে পাবলিক লাইব্রেরীর কার্যক্রম চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।