০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রাইম ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, ২০ মে পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন Logo শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৬-২৩ দিনের লম্বা ছুটি আসছে Logo কুলাউড়ায় নবাগত ইউএনও সানজিদা আক্তারের দায়িত্বভার গ্রহণ Logo কুলাউড়া বিএনপিকে সুসংগঠিত করতে বিভিন্ন ইউনিয়ন চষে বেড়াচ্ছেন এমপি শওকতুল ইসলাম Logo বড়লেখায় ইউএনও’র সাথে নবগঠিত ব্যবসায়ী সমিতির সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo বিশ্বমঞ্চে ভয়ংকর হতে যাচ্ছে যে দলগুলোর আক্রমণভাগ Logo দেশীয় মাছ রক্ষায় বড়লেখায় অভিযান, অপসারণ করা হলো অবৈধ বাঁধ Logo হাকালুকিতে ১ লাখ টাকার নিষিদ্ধ জাল ও পোনা মাছ জব্দ Logo বড়লেখায় এক কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ Logo বড়লেখায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ওসির সাথে হাজিগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির মতবিনিময়

‘পিয়াজু-মুড়ি’ দিয়েই বাজিমাত: মাস্টারশেফ ইউকে-র কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবিনা খান

বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 32
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বখ্যাত রান্নাবিষয়ক রিয়েলিটি শো মাস্টারশেফ ইউকে-র মঞ্চে বাংলাদেশি স্বাদের অনন্য উপস্থাপনায় বিচারকদের মুগ্ধ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিযোগী সাবিনা খান। প্রতিযোগিতার ২২তম আসরে নিজস্ব রন্ধনশৈলীর জাদু দেখিয়ে তিনি ইতোমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছেন কোয়ার্টার ফাইনালে।

সাবিনার পরিবেশিত ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি নাস্তা মুড়ি ও পিয়াজু বিচারকদের কাছ থেকে পেয়েছে দারুণ সাড়া। বিশেষ করে তার তৈরি পিয়াজুর স্বাদে অভিভূত হয়ে বিচারকরা এর নাম দিয়েছেন ‘Bullets of Joy’, যা মুহূর্তেই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

লন্ডনভিত্তিক পরিবেশ উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত সাবিনা খানের শৈশব কেটেছে ঢাকার গুলশানে। পারিবারিক রান্নার ঐতিহ্য, দেশীয় মশলার ঘ্রাণ এবং শৈশবের স্বাদ-স্মৃতিই তার রান্নার মূল প্রেরণা। বর্তমানে তিনি স্বামী আসিফ ও দুই সন্তানকে নিয়ে গ্রেটার লন্ডন-এ বসবাস করছেন।

নিজের রান্নাঘরকে সাবিনা ‘স্বাদের পরীক্ষাগার’ হিসেবে দেখেন। নতুন স্বাদ নিয়ে নিরন্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন এক স্বতন্ত্র রন্ধনধারা। বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি ঐতিহ্যের প্রভাব থাকলেও তিনি তার রান্নাকে ‘ফিউশন’ বলতে নারাজ। বরং প্রতিটি খাবারের নিজস্ব স্বাদ ও পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখাই তার প্রধান লক্ষ্য।

সাবিনার রান্নায় কাঁচামরিচের ঝাঁজ, সরিষা বাটার তীব্রতা এবং পাঁচফোড়নের সুনিপুণ ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তার মতে, ভিন্ন ভিন্ন রন্ধনপ্রণালী একই প্লেটে সহাবস্থান করতে পারে, তবে তা কখনোই খাবারের মূল স্বাদকে আড়াল করা উচিত নয়।

এবারের আসরটি বিবিসি ওয়ান এবং আইপ্লেয়ার প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচারিত হচ্ছে। প্রাথমিক পর্বে বিভিন্ন পেশার ছয়জন প্রতিযোগীর মধ্যে থেকে নিজস্ব স্বকীয়তা দিয়ে আলাদা করে নজর কাড়েন সাবিনা।

মাস্টারশেফের মঞ্চে সাবিনা খানের এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বরং বিশ্বদরবারে বাংলাদেশি খাবারের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতারও প্রতিফলন। তার এই অগ্রযাত্রা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি আন্তর্জাতিক ভোজনরসিকদের কাছে দেশীয় রন্ধনশৈলীর নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

‘পিয়াজু-মুড়ি’ দিয়েই বাজিমাত: মাস্টারশেফ ইউকে-র কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবিনা খান

আপডেট সময় : ০৩:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বখ্যাত রান্নাবিষয়ক রিয়েলিটি শো মাস্টারশেফ ইউকে-র মঞ্চে বাংলাদেশি স্বাদের অনন্য উপস্থাপনায় বিচারকদের মুগ্ধ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিযোগী সাবিনা খান। প্রতিযোগিতার ২২তম আসরে নিজস্ব রন্ধনশৈলীর জাদু দেখিয়ে তিনি ইতোমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছেন কোয়ার্টার ফাইনালে।

সাবিনার পরিবেশিত ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি নাস্তা মুড়ি ও পিয়াজু বিচারকদের কাছ থেকে পেয়েছে দারুণ সাড়া। বিশেষ করে তার তৈরি পিয়াজুর স্বাদে অভিভূত হয়ে বিচারকরা এর নাম দিয়েছেন ‘Bullets of Joy’, যা মুহূর্তেই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

লন্ডনভিত্তিক পরিবেশ উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত সাবিনা খানের শৈশব কেটেছে ঢাকার গুলশানে। পারিবারিক রান্নার ঐতিহ্য, দেশীয় মশলার ঘ্রাণ এবং শৈশবের স্বাদ-স্মৃতিই তার রান্নার মূল প্রেরণা। বর্তমানে তিনি স্বামী আসিফ ও দুই সন্তানকে নিয়ে গ্রেটার লন্ডন-এ বসবাস করছেন।

নিজের রান্নাঘরকে সাবিনা ‘স্বাদের পরীক্ষাগার’ হিসেবে দেখেন। নতুন স্বাদ নিয়ে নিরন্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন এক স্বতন্ত্র রন্ধনধারা। বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি ঐতিহ্যের প্রভাব থাকলেও তিনি তার রান্নাকে ‘ফিউশন’ বলতে নারাজ। বরং প্রতিটি খাবারের নিজস্ব স্বাদ ও পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখাই তার প্রধান লক্ষ্য।

সাবিনার রান্নায় কাঁচামরিচের ঝাঁজ, সরিষা বাটার তীব্রতা এবং পাঁচফোড়নের সুনিপুণ ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তার মতে, ভিন্ন ভিন্ন রন্ধনপ্রণালী একই প্লেটে সহাবস্থান করতে পারে, তবে তা কখনোই খাবারের মূল স্বাদকে আড়াল করা উচিত নয়।

এবারের আসরটি বিবিসি ওয়ান এবং আইপ্লেয়ার প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচারিত হচ্ছে। প্রাথমিক পর্বে বিভিন্ন পেশার ছয়জন প্রতিযোগীর মধ্যে থেকে নিজস্ব স্বকীয়তা দিয়ে আলাদা করে নজর কাড়েন সাবিনা।

মাস্টারশেফের মঞ্চে সাবিনা খানের এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বরং বিশ্বদরবারে বাংলাদেশি খাবারের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতারও প্রতিফলন। তার এই অগ্রযাত্রা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি আন্তর্জাতিক ভোজনরসিকদের কাছে দেশীয় রন্ধনশৈলীর নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।