০৮:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo শিল্পী সমিতির নির্বাচনে দুই কিংবদন্তির সন্তানের প্যানেল Logo জুড়ীতে ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’র আহ্বায়ক কমিটি গঠন Logo কুলাউড়া ইয়াকুব তাজুল মহিলা কলেজের পক্ষ থেকে বিদায়ী ইউএনও’কে সম্মাননা প্রদান Logo বড়লেখায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর Logo বড়লেখায় জনদুর্ভোগ নিরসনে নবাগত ইউএনও’র সাথে নিসচা’র মতবিনিময় Logo হাওর লুটপাটকারীদের রোষানলে জুড়ীর মৎস্য কর্মকর্তা Logo বড়লেখা সরকারি কলেজে ঐতিহাসিক কোরআন দিবস পালন Logo অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া বার্তা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর, ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের ঘোষণা Logo ঢাবির সহকারী প্রক্টর শেহরীন মোনামির পদত্যাগ Logo রিয়ালকে হারিয়েই লিগ শিরোপা জিতল বার্সা

স্থানীয় সংসদ সদস্যের উদ্বেগ প্রকাশ

আ. লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের ওপর হামলা, বিএনপি-জামায়াতের তীব্র নিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:১৯:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 42
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়েব আহমদের ওপর হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে সিলেটের উপশহর-শিবগঞ্জ সড়কের বি ব্লকের ১৮ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ নেতা সোয়েব আহমদের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

তবে হামলার বিষয়টি চার দিন পর মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে তার আহত অবস্থার কয়েকটি ছবি ফেসবুক জুড়ে ভাইরাল হয়েছে। সোয়েবের মাথা ও শরীরে আঘাতের কয়েকটি ছবি ফেসবুকে প্রকাশের পর নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এই ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়েব আহমদের ওপর হামলার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নিন্দা জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খছরু ও সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস শহীদ খান এবং উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে নিন্দা জানিয়েছেন নায়াবে আমির ফয়সল আহমদ।

সোয়েব আহমদের উপর এ ধরনের হামলাকে ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খছরু বলেন, মব কালচারের কোন স্থান নেই এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কারো জন্য কাম্য নয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি তিনি জোর দাবি জানান।

উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির এমাদুল ইসলাম বলেন, সোয়েব আহমদের উপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রশাসন যেনো অতি দ্রুত হামলাকারিদের গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং সোয়েব আহমদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

উপজেলা জামায়াতের নায়াবে আমির ফয়সল আহমদ বলেন, এরকম সন্ত্রাসী হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একটি গণতান্ত্রিক রাস্ট্রে সকল জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিরাপদ বসবাসের উপযোগী হতে হবে। তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস শহীদ খান বলেন, সোয়েব আহমদকে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ধরনের মব কালচার বর্তমান সরকার কোনোভাবেই সহ্য করবে না। আমরা উপজেলা বিএনপি বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

এদিকে সবচেয়ে বেশী সরব দেখা গেছে উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আহমদ রিয়াজকে। তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করেছেন। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও সোয়েবর পরিবার বলছে, কে বা কারা এবং কী কারণে তার ওপর হামলা চালিয়েছে, তা তারা এখনো নিশ্চিত নন।

সোয়েব আহমদের স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাতে উপশহর-শিবগঞ্জ সড়কের বি ব্লকের ১৮ নম্বর সড়কে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি সোয়েব আহমদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিএনজি অটোরিকশাযোগে তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। পরে রাত প্রায় দুইটার দিকে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে তার চিকিৎসা করানো হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে সোয়েব আহমদের ছোট ভাই বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছালেহ আহমদ জুয়েল বলেন, কারা এই হামলা করেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানিতে এবং সবার দোয়ায় তিনি (সোয়েব আহমদ) এখন আশঙ্কামুক্ত এবং কিছুটা সুস্থ আছেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টি প্রকাশ করতে চাননি তারা। তবে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে পরিবার আবেগাপ্লুত। এ ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

স্থানীয় সংসদ সদস্যের উদ্বেগ প্রকাশ

আ. লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের ওপর হামলা, বিএনপি-জামায়াতের তীব্র নিন্দা

আপডেট সময় : ০৬:১৯:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়েব আহমদের ওপর হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে সিলেটের উপশহর-শিবগঞ্জ সড়কের বি ব্লকের ১৮ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ নেতা সোয়েব আহমদের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

তবে হামলার বিষয়টি চার দিন পর মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে তার আহত অবস্থার কয়েকটি ছবি ফেসবুক জুড়ে ভাইরাল হয়েছে। সোয়েবের মাথা ও শরীরে আঘাতের কয়েকটি ছবি ফেসবুকে প্রকাশের পর নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এই ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়েব আহমদের ওপর হামলার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নিন্দা জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খছরু ও সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস শহীদ খান এবং উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে নিন্দা জানিয়েছেন নায়াবে আমির ফয়সল আহমদ।

সোয়েব আহমদের উপর এ ধরনের হামলাকে ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খছরু বলেন, মব কালচারের কোন স্থান নেই এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কারো জন্য কাম্য নয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি তিনি জোর দাবি জানান।

উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির এমাদুল ইসলাম বলেন, সোয়েব আহমদের উপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রশাসন যেনো অতি দ্রুত হামলাকারিদের গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং সোয়েব আহমদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

উপজেলা জামায়াতের নায়াবে আমির ফয়সল আহমদ বলেন, এরকম সন্ত্রাসী হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একটি গণতান্ত্রিক রাস্ট্রে সকল জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিরাপদ বসবাসের উপযোগী হতে হবে। তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস শহীদ খান বলেন, সোয়েব আহমদকে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ধরনের মব কালচার বর্তমান সরকার কোনোভাবেই সহ্য করবে না। আমরা উপজেলা বিএনপি বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

এদিকে সবচেয়ে বেশী সরব দেখা গেছে উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আহমদ রিয়াজকে। তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করেছেন। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও সোয়েবর পরিবার বলছে, কে বা কারা এবং কী কারণে তার ওপর হামলা চালিয়েছে, তা তারা এখনো নিশ্চিত নন।

সোয়েব আহমদের স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাতে উপশহর-শিবগঞ্জ সড়কের বি ব্লকের ১৮ নম্বর সড়কে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি সোয়েব আহমদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিএনজি অটোরিকশাযোগে তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। পরে রাত প্রায় দুইটার দিকে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে তার চিকিৎসা করানো হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে সোয়েব আহমদের ছোট ভাই বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছালেহ আহমদ জুয়েল বলেন, কারা এই হামলা করেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানিতে এবং সবার দোয়ায় তিনি (সোয়েব আহমদ) এখন আশঙ্কামুক্ত এবং কিছুটা সুস্থ আছেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টি প্রকাশ করতে চাননি তারা। তবে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে পরিবার আবেগাপ্লুত। এ ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।