০৮:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কমলগঞ্জে সড়ক উন্নয়ন ও খাল খনন কাজের উদ্বোধন Logo সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে- নাসির উদ্দিন মিঠু এমপি Logo জুড়ীতে অবৈধভাবে মজুত করা ১৪ শ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ Logo জ্বালানি সংকটে বিয়ের অনুষ্ঠানে চমক, উপহার হিসেবে অকটেন পেলেব বর Logo বগুড়ায় তারার মেলা, কনকচাঁপা পেলেন আজীবন সম্মাননা Logo অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরির সুযোগ মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে Logo রাষ্ট্রপতির উপ-প্রেস সচিব ও সহকারী প্রেস সচিব নিয়োগ Logo জাকসুকে ‘রাজনৈতিক স্বার্থে’ ব্যবহারের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি Logo সুচিত্রা সেন: পাবনার এক সাধারণ মেয়ে থেকে মহানায়িকা হয়ে ওঠার গল্প Logo সিলেটের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মীর্জা জামাল পাশা আর নেই

জাকসুকে ‘রাজনৈতিক স্বার্থে’ ব্যবহারের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি

ষাটমাকন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:০৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 6

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন একদল সচেতন শিক্ষার্থী।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদকে (জাকসু) রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন একদল সচেতন শিক্ষার্থী।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকাল ৪টার দিকে স্মারকলিপিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতির বরাবর দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও স্বার্থ রক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাকসু সবসময় নিরপেক্ষ ও সম্মানজনক অবস্থানে থাকবে—এমন প্রত্যাশা সাধারণ শিক্ষার্থীদের। তবে সম্প্রতি জাকসুকে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের একাধিক অপচেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাকসুর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থা ও প্রত্যাশার জায়গাতেও আঘাত হানছে। জাকসু কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ রক্ষার প্ল্যাটফর্ম নয়; বরং এটি সকল শিক্ষার্থীর অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা জাকসুর নাম, প্যাড ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ, এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জাকসুর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং জাকসুর মর্যাদা ও শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আ ফ ম কামালউদ্দিন হল সংসদের ভিপি জিএমএম. রায়হান কবীর বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে জাকসুর নাম ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যে ন্যক্কারজনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে, তা শুধু নিন্দনীয়ই নয় বরং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সচেতন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করে জাকসুকে তার স্বকীয়তা ও নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানাই।’

জাকসুতে ছাত্রদল মনোনীত নারী এজিএস প্রার্থী আঞ্জুমান ইকরা বলেন, ‘সম্প্রতি “গণভোট অস্বীকার ও অধ্যাদেশ বাতিলের রাজনীতি” শিরোনামে যে কর্মসূচি জাকসুর ব্যানারে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি জাকসুর ক্ষমতার সীমা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। এটি কি সত্যিই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে, নাকি একটি রাজনৈতিক অবস্থান চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা?’

তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, শিক্ষার্থীদের বাস্তব দাবি, অধিকার আদায়, এবং ক্যাম্পাসভিত্তিক সমস্যাগুলোর সমাধানে জাকসুর দৃশ্যমান ভূমিকা এখনও অনুপস্থিত।’

জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ রুবেল বলেন, ‘জাকসু নির্বাচনের পর থেকে একটি গোষ্ঠী রাজনৈতিক স্বার্থে জাকসুকে ব্যবহার করছে এবং জাকসুর নামে এমন কার্যক্রম পরিচালনা করছে যা ছাত্রশিবিরের কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন বলে মনে হচ্ছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, জাকসুর ব্যানারে আয়োজিত “সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রে প্রবেশ এবং সংকটের পথে দেশ” শীর্ষক সেমিনারের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রশাসনকে দ্রুত কর্মসূচি বন্ধের আহ্বান জানান, অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কঠর আন্দোলনের হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

জাকসুকে ‘রাজনৈতিক স্বার্থে’ ব্যবহারের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি

আপডেট সময় : ০৬:০৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদকে (জাকসু) রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন একদল সচেতন শিক্ষার্থী।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকাল ৪টার দিকে স্মারকলিপিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতির বরাবর দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও স্বার্থ রক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাকসু সবসময় নিরপেক্ষ ও সম্মানজনক অবস্থানে থাকবে—এমন প্রত্যাশা সাধারণ শিক্ষার্থীদের। তবে সম্প্রতি জাকসুকে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের একাধিক অপচেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাকসুর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থা ও প্রত্যাশার জায়গাতেও আঘাত হানছে। জাকসু কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ রক্ষার প্ল্যাটফর্ম নয়; বরং এটি সকল শিক্ষার্থীর অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা জাকসুর নাম, প্যাড ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ, এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জাকসুর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং জাকসুর মর্যাদা ও শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আ ফ ম কামালউদ্দিন হল সংসদের ভিপি জিএমএম. রায়হান কবীর বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে জাকসুর নাম ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যে ন্যক্কারজনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে, তা শুধু নিন্দনীয়ই নয় বরং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সচেতন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করে জাকসুকে তার স্বকীয়তা ও নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানাই।’

জাকসুতে ছাত্রদল মনোনীত নারী এজিএস প্রার্থী আঞ্জুমান ইকরা বলেন, ‘সম্প্রতি “গণভোট অস্বীকার ও অধ্যাদেশ বাতিলের রাজনীতি” শিরোনামে যে কর্মসূচি জাকসুর ব্যানারে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি জাকসুর ক্ষমতার সীমা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। এটি কি সত্যিই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে, নাকি একটি রাজনৈতিক অবস্থান চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা?’

তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, শিক্ষার্থীদের বাস্তব দাবি, অধিকার আদায়, এবং ক্যাম্পাসভিত্তিক সমস্যাগুলোর সমাধানে জাকসুর দৃশ্যমান ভূমিকা এখনও অনুপস্থিত।’

জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ রুবেল বলেন, ‘জাকসু নির্বাচনের পর থেকে একটি গোষ্ঠী রাজনৈতিক স্বার্থে জাকসুকে ব্যবহার করছে এবং জাকসুর নামে এমন কার্যক্রম পরিচালনা করছে যা ছাত্রশিবিরের কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন বলে মনে হচ্ছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, জাকসুর ব্যানারে আয়োজিত “সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রে প্রবেশ এবং সংকটের পথে দেশ” শীর্ষক সেমিনারের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রশাসনকে দ্রুত কর্মসূচি বন্ধের আহ্বান জানান, অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কঠর আন্দোলনের হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।