০৭:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কমলগঞ্জে সড়ক উন্নয়ন ও খাল খনন কাজের উদ্বোধন Logo সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে- নাসির উদ্দিন মিঠু এমপি Logo জুড়ীতে অবৈধভাবে মজুত করা ১৪ শ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ Logo জ্বালানি সংকটে বিয়ের অনুষ্ঠানে চমক, উপহার হিসেবে অকটেন পেলেব বর Logo বগুড়ায় তারার মেলা, কনকচাঁপা পেলেন আজীবন সম্মাননা Logo অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরির সুযোগ মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে Logo রাষ্ট্রপতির উপ-প্রেস সচিব ও সহকারী প্রেস সচিব নিয়োগ Logo জাকসুকে ‘রাজনৈতিক স্বার্থে’ ব্যবহারের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি Logo সুচিত্রা সেন: পাবনার এক সাধারণ মেয়ে থেকে মহানায়িকা হয়ে ওঠার গল্প Logo সিলেটের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মীর্জা জামাল পাশা আর নেই

দুবাইয়ে বো’মা হামলায় নিহত বড়লেখার প্রবাসী সালেহ আহমদকে দাফন, গ্রামে শোকের মাতম

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০১:৫১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • / 72
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বোমা হামলায় নিহত মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার প্রবাসী আহমদ আলী (সালেহ আহমদ)-এর মরদেহ অবশেষে দেশে পৌঁছেছে। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের পর নিথর দেহে নিজ জন্মভূমিতে ফিরে এলেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা। সোমবার (৯ মার্চ) বাদ আসর বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা শাহী ঈদগাহ ময়দানে নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সোমবার দুপুরে তাকে বহনকারী বিমান সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে দুবাই থেকে মরদেহ প্রথমে ঢাকায় আনা হয়। সেখানে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে মরদেহ সিলেটে এনে বড়লেখার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আত্মীয়-স্বজন ও হাজারো মানুষ অংশ নেন। প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানাতে এসে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। গ্রামের আকাশ-বাতাস যেন শোকের ভারে নীরব হয়ে ওঠে।

মরদেহ গ্রহণের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। বাকি তিনজনের মরদেহও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি ক্রাইসিস টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমের মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় আটকে পড়া প্রবাসীদের খাদ্য সহায়তা, আহতদের চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, প্রবাসীদের খোঁজখবর রাখতে কনস্যুলেটের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যাঁরা আহত হয়েছেন বা অসুস্থ অবস্থায় আছেন, তাঁদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ জন্য একটি হটলাইনও চালু করা হয়েছে।

লেবাননে বাংলাদেশি কনস্যুলেট না থাকায় সেখানে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়া বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে প্রয়োজনে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে চার্টার্ড বিমানের ব্যবস্থাও করা হবে।

নিহতের মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তাঁর মামাতো ভাই কামাল আহমদ। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার ভাই প্রায় ২৭ বছর ধরে প্রবাসে ছিলেন। তিনি আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। সত্যিকারের একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা ছিলেন তিনি। তাঁর এক ছেলে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। সরকারের সহযোগিতায় মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে-এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ‘শহীদ’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে দাফন-কাফনের জন্য নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৮৫ হাজার টাকা, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা এবং বড়লেখা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকার অনুদানের চেক প্রদান করেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

জানা যায়, বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামের বাসিন্দা আহমদ আলী ওরফে সালেহ আহমদ দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় ইফতারের পর কাজে বের হলে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনি নিহত হন।

দেশে তাঁর বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন। দীর্ঘ ২৭ বছর প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি পরিবারের ভরণপোষণ চালাতেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

প্রিয় মানুষটির নিথর দেহ ঘরে ফিরলেও আর ফিরবে না তাঁর হাসি, কণ্ঠ বা স্বপ্ন। তাই গ্রামের মানুষের চোখে জল আর হৃদয়ে বেদনা। একজন পরিশ্রমী প্রবাসীর বিদায়ে গাজিটেকা গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

ষাটমাকন্ঠ/রুমেল

 

নিউজটি শেয়ার করুন

দুবাইয়ে বো’মা হামলায় নিহত বড়লেখার প্রবাসী সালেহ আহমদকে দাফন, গ্রামে শোকের মাতম

আপডেট সময় : ০১:৫১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বোমা হামলায় নিহত মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার প্রবাসী আহমদ আলী (সালেহ আহমদ)-এর মরদেহ অবশেষে দেশে পৌঁছেছে। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের পর নিথর দেহে নিজ জন্মভূমিতে ফিরে এলেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা। সোমবার (৯ মার্চ) বাদ আসর বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা শাহী ঈদগাহ ময়দানে নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সোমবার দুপুরে তাকে বহনকারী বিমান সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে দুবাই থেকে মরদেহ প্রথমে ঢাকায় আনা হয়। সেখানে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে মরদেহ সিলেটে এনে বড়লেখার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আত্মীয়-স্বজন ও হাজারো মানুষ অংশ নেন। প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানাতে এসে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। গ্রামের আকাশ-বাতাস যেন শোকের ভারে নীরব হয়ে ওঠে।

মরদেহ গ্রহণের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। বাকি তিনজনের মরদেহও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি ক্রাইসিস টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমের মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় আটকে পড়া প্রবাসীদের খাদ্য সহায়তা, আহতদের চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, প্রবাসীদের খোঁজখবর রাখতে কনস্যুলেটের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। যাঁরা আহত হয়েছেন বা অসুস্থ অবস্থায় আছেন, তাঁদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ জন্য একটি হটলাইনও চালু করা হয়েছে।

লেবাননে বাংলাদেশি কনস্যুলেট না থাকায় সেখানে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়া বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে প্রয়োজনে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে চার্টার্ড বিমানের ব্যবস্থাও করা হবে।

নিহতের মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তাঁর মামাতো ভাই কামাল আহমদ। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার ভাই প্রায় ২৭ বছর ধরে প্রবাসে ছিলেন। তিনি আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। সত্যিকারের একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা ছিলেন তিনি। তাঁর এক ছেলে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। সরকারের সহযোগিতায় মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে-এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ‘শহীদ’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে দাফন-কাফনের জন্য নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৮৫ হাজার টাকা, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা এবং বড়লেখা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকার অনুদানের চেক প্রদান করেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

জানা যায়, বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামের বাসিন্দা আহমদ আলী ওরফে সালেহ আহমদ দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় ইফতারের পর কাজে বের হলে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনি নিহত হন।

দেশে তাঁর বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন। দীর্ঘ ২৭ বছর প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি পরিবারের ভরণপোষণ চালাতেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

প্রিয় মানুষটির নিথর দেহ ঘরে ফিরলেও আর ফিরবে না তাঁর হাসি, কণ্ঠ বা স্বপ্ন। তাই গ্রামের মানুষের চোখে জল আর হৃদয়ে বেদনা। একজন পরিশ্রমী প্রবাসীর বিদায়ে গাজিটেকা গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

ষাটমাকন্ঠ/রুমেল