১১:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo দক্ষিণভাগ এনসিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও অভিভাবক সমাবেশ Logo ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, দ্বিতীয়বারের মতো হতে পারে ভোট Logo সিলেটে জাতীয় গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে খুদে শিক্ষার্থীদের মেধার লড়াই Logo নালন্দা: যেখানে জ্ঞানচর্চায় ছুটে আসতেন দূরদেশের শিক্ষার্থীরা Logo ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারা হাটে মার্কিন রাষ্ট্রদূত Logo অষ্টম শ্রেণি পাসে পুলিশে বড় নিয়োগ Logo জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমেদ Logo বিএসএফের গুলিতে কুলাউড়ার যুবক নিহত Logo ৫০০ টাকা মজুরিসহ বিভিন্ন দাবিতে কুলাউড়ায় চা-শ্রমিকদের গণবিক্ষোভ Logo বড়লেখায় ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে চা শ্রমিকদের গণবিক্ষোভ

রাজনগরের বিতর্কিত যুবলীগ নেতা রানা এখন বিএনপি

বিশেষ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:৩০:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • / 65
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পতিত আওয়ামী সরকারের আমলে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার মুর্তিমান আতঙ্ক যুবলীগ নেতা রানা মিয়া এখন বিএনপি নেতা সাজতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। হাসিনা সরকারের আমলে এলাকায় তার নেতৃত্বে এলাকায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী ও টেন্ডারবাজির রাজত্ব শুরু চলছিল। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থেকে এখন বিএনপি নেতাদের শেল্টারে আবারো সক্রিয় হচ্ছেন রানা মিয়া। এমনকি সম্প্রতি সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে মৌলভীবাজার-৩ (মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর ) আসনে বিএনপির দলীয় এমপি এম নাসির রহমানকে সংবর্ধনাও দিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

জানা গেছে, রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের উত্তর মহলাল গ্রামের রফিজ মিয়ার পুত্র রানা মিয়া ২০২৩ সালে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তার ভয়ে প্রশাসনসহ খোদ সরকার দলের শীর্ষ নেতারাও সর্বদা তটস্থ থাকতেন। নিজস্ব গুণ্ডাবাহিনী নিয়ে প্রকাশ্য অস্ত্র হাতে মহড়া ছিল তার নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার। তার ভয়ে এলাকার কেউ প্রতিবাদ করারও সাহস পেতনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণভঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে কিছুদিন আত্মগোপনে চলে যান রানা। এরপর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি প্রকাশ্য বের হতে থাকেন। ধীরে ধীরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় ভোট টানতে তাকে শেল্টার দেন মৌলভীবাজার-৩ (মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর ) আসনে বিএনপির দলীয় এমপি এম নাসির রহমান। চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজ রানা মিয়ার বিএনপিতে সক্রিয় হওয়া নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। তবে এমপির কাছের লোক হওয়ায় ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছেনা। আওয়ামী সরকারের আমলের চিহ্নিত সন্ত্রাসী এখন বিএনপির শেল্টারে ফের সন্ত্রাসী হয়ে উঠার শঙ্কায় তৃনমূল বিএনপি নেতাকর্মীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিনিয়র উপজেলা বিএনপি নেতা বলেন, বিএনপিতে কি নেতাকর্মীর এতই আকাল পড়েছে যে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ সন্ত্রাসীকে দলে ভেড়াতে হবে। রানার মতো সন্ত্রাসীরা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হলে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হবে। এনিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় (সিলেট বিভাগীয়) সাংগঠনিক সম্পাদক জি.কে গউছ এমপির কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এব্যাপারে মৌলভীবাজার-৩ (মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর ) আসনে বিএনপির দলীয় এম.পি এম নাসির রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ করলেই সবাই খারাপ হয়ে যায়না। রানা আওয়ামী লীগ করতো। এলাকার ছেলে হিসেবে আমার সাথে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। বিগত নির্বাচনে আমার পক্ষে কাজ করেছে। সে বিএনপিতে যোগ দেয়নি বলেও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রাজনগরের বিতর্কিত যুবলীগ নেতা রানা এখন বিএনপি

আপডেট সময় : ০৫:৩০:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

পতিত আওয়ামী সরকারের আমলে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার মুর্তিমান আতঙ্ক যুবলীগ নেতা রানা মিয়া এখন বিএনপি নেতা সাজতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। হাসিনা সরকারের আমলে এলাকায় তার নেতৃত্বে এলাকায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী ও টেন্ডারবাজির রাজত্ব শুরু চলছিল। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থেকে এখন বিএনপি নেতাদের শেল্টারে আবারো সক্রিয় হচ্ছেন রানা মিয়া। এমনকি সম্প্রতি সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে মৌলভীবাজার-৩ (মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর ) আসনে বিএনপির দলীয় এমপি এম নাসির রহমানকে সংবর্ধনাও দিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

জানা গেছে, রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের উত্তর মহলাল গ্রামের রফিজ মিয়ার পুত্র রানা মিয়া ২০২৩ সালে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তার ভয়ে প্রশাসনসহ খোদ সরকার দলের শীর্ষ নেতারাও সর্বদা তটস্থ থাকতেন। নিজস্ব গুণ্ডাবাহিনী নিয়ে প্রকাশ্য অস্ত্র হাতে মহড়া ছিল তার নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার। তার ভয়ে এলাকার কেউ প্রতিবাদ করারও সাহস পেতনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণভঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে কিছুদিন আত্মগোপনে চলে যান রানা। এরপর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি প্রকাশ্য বের হতে থাকেন। ধীরে ধীরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় ভোট টানতে তাকে শেল্টার দেন মৌলভীবাজার-৩ (মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর ) আসনে বিএনপির দলীয় এমপি এম নাসির রহমান। চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজ রানা মিয়ার বিএনপিতে সক্রিয় হওয়া নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। তবে এমপির কাছের লোক হওয়ায় ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছেনা। আওয়ামী সরকারের আমলের চিহ্নিত সন্ত্রাসী এখন বিএনপির শেল্টারে ফের সন্ত্রাসী হয়ে উঠার শঙ্কায় তৃনমূল বিএনপি নেতাকর্মীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিনিয়র উপজেলা বিএনপি নেতা বলেন, বিএনপিতে কি নেতাকর্মীর এতই আকাল পড়েছে যে, আওয়ামী লীগের শীর্ষ সন্ত্রাসীকে দলে ভেড়াতে হবে। রানার মতো সন্ত্রাসীরা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হলে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হবে। এনিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় (সিলেট বিভাগীয়) সাংগঠনিক সম্পাদক জি.কে গউছ এমপির কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এব্যাপারে মৌলভীবাজার-৩ (মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর ) আসনে বিএনপির দলীয় এম.পি এম নাসির রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ করলেই সবাই খারাপ হয়ে যায়না। রানা আওয়ামী লীগ করতো। এলাকার ছেলে হিসেবে আমার সাথে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। বিগত নির্বাচনে আমার পক্ষে কাজ করেছে। সে বিএনপিতে যোগ দেয়নি বলেও জানান তিনি।